সেই সমীকরণ শেষ বলে গিয়ে ঠেকে ১ বলে ৬ রানে। ছক্কা মারা ছাড়া আর উপায় নেই। ফাহিম আশরাফের করা সেই বল কাভার দিয়ে উড়িয়েই দুই হাত উঁচু করে ম্যাচ জয়ের উল্লাসে মাতেন ওকস। বল বাউন্ডারি পেরুতেই সিলেটের ডাগ আউট থেকে ছুটে আসেন সতীর্থরা। ওকসকে জড়িয়ে ধরেন সিলেট অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও।
লম্বা ক্যারিয়ারে কখনই শেষ বলে ছক্কা মার কীর্তি ছিল না ওকসের। এর আগে এমন সমীকরণের মুখে পড়লেও দলকে জেতাতে পারেননি তিনি। এবার বিপিএলে প্রথমবারের মতো খেলতে এসেই সেই অভিজ্ঞতা হয়ে গেল ইংলিশ এই অলরাউন্ডারের। জানালেন বিপিএলের এই স্মৃতি তার কাছে থাকবে অমলিন।
সংবাদ সম্মেলনে ওকস বলেন, 'এটা খুবই রোমাঞ্চকর। এর আগে আমি কখনোই শেষ বলে ছক্কা মেরে ম্যাচ জেতাইনি। আগে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি যেখানে ছক্কা মারার দরকার ছিল কিন্তু পারিনি, তাই এবার পেরেছি বলে এটি আমার মনে থাকবে। আর বিপিএলে এটি আমার এই দলের হয়ে প্রথম ম্যাচ ছিল, তাই এটি আরও বিশেষ কিছু।'
ওভারের আগের পাঁচটি বলই স্লোয়ার কাটার করেছিলেন ফাহিম। ওকসও ধরে নিয়েছিলেন শেষ বলে হয়তো ফাহিম করবেন ওয়াইড ইয়র্কার। তবে বল ব্যাটের নাগালে পেয়ে যাবেন বা ছক্কা হয়ে যাবে ভাবেননি ওকসও। তবে বল ব্যাটে লাগার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি টের পেয়েছিলেন যা হওয়ার হয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে ওকস যোগ করেন, 'আমি বোলার হলে কোথায় বল করতাম সেটা ভাবছিলাম। ৬ রান দরকার হলে সাধারণত ওয়াইড ইয়র্কার খুব ভালো অপশন। ফাহিম এর আগে পাঁচটা বলই স্লোয়ার কাটার দিয়েছিল। আমি কাটারই আশা করছিলাম, কিন্তু যখন গতির বল এল, আমি শুধু টাইমিং করার চেষ্টা করেছি।'
উইনিং শট নিয়ে খোলাসা করে ওকস যোগ করেছেন, 'বলটা মারার সাথে সাথেই আমি বুঝেছিলাম যে এটি ছক্কা হবে। উইকেট বেশ কঠিন ছিল, তাই ম্যাচটাও আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমার মনে হয় অধিনায়ক এবং বিলিংসের মধ্যকার পার্টনারশিপটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শেষ বলে ম্যাচ জেতাটা কিছুটা ভাগ্যের ব্যাপার, তবে তাদের দুজনের জুটিটা দারুণ ছিল।'