১৬২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথম তিন ওভারে বিনা উইকেটে ৩৩ রান তোলেন দুই ওপেনার দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। কিন্তু চতুর্থ ওভারেই ঘটে ছন্দ পতন। দলীয় ৩৯ রানে চামারি আতাপাত্তুর বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন জুয়াইরিয়া। ১২ বলে তিন চারে ১৬ রান করেন তিনি।
পরের ওভারেই আরো দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র এক রান করে আউট হন তিন নাম্বারে নামা শারমিন আক্তার। মাল্কি মাদারার বলে হাসিনি পেরেরার ক্যাচে পরিণত হন তিনি। এক বল পরেই কোনো রান না করে মাল্কির বলে বোল্ড হন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।
পরের ওভারে ফিরে যান উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া দিলারাও। মিথালি অযোধ্যার বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ার আগে ১৪ বলে এক ছক্কা ও চার চারে ২৩ রান করেন তিনি৷ দলীয় ৪৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। এরপর বাংলাদেশকে কিছুটা টেনে তোলার চেষ্টা করেন স্বর্ণা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি। কিন্তু প্রয়োজনীয় রান রেটের সাথে পাল্লা দিতে পারেননি তারা। ৫১ বলে ৪০ রানের জুটি গড়েন এই দুই ব্যাটার।
ধুঁকতে থাকা সোবহানা মোস্তারি ২৬ বলে ১৬ রান করে আতাপাত্তুর বলে আউট হলে ভাঙে এই জুটি। অন্যপ্রান্তে একা লড়াই করতে থাকেন স্বর্ণা। ৪৫ বলে দুই ছক্কা ও চারটি চারে ৬০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ততক্ষণে হার নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের। ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হন স্বর্ণা। সাত উইকেটে ১৩৬ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।
এর আগে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক জ্যোতি। প্রথম দুই ওভার দেখে শুনে খেললেও ৩য় ওভারে ১৯ রান তোলেন দুই ওপেনার হাসিনি পেরেরা ও আতাপাত্তু। কিন্তু চতুর্থ ওভারে হাসিনিকে ফিরিয়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন সুলতানা খাতুন। ১৩ বলে ৭ রান করে সুলতানার বলে মারুফা আক্তারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন হাসিনি।
এরপর ইমেশাকে সাথে দ্রুত রান তুলতে থাকেন লন্কান অধিনায়ক আতাপাত্তু। ৩২ বলে ৪২ রানের জুটি গড়ে তুলেন এই দুই ব্যাটার। ইনিংসের দশম ওভারে আতাপাত্তুকে ফিরিয়ে সেই জুটি আর বড় হতে দেননি সুলতানা। এবার শ্রীলঙ্কা অধিনায়ককে ফারিহা তৃষ্ণার ক্যাচে পরিণত করে দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন তিনি। এরপর হার্শিতাকে নিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর ঝড় বইয়ে দেন ইমেশা।
১০ ওভারে ৬৭ রান থেকে ১৮ তম ওভারেই ১৪০ রান পেড়িয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ৫৪ বলে ৮০ রানের দুর্দান্ত এক জুটি গড়েন ইমেশা ও হার্শিতা। দলীয় ১৪৭ রানে ইমেশাকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে এই জুটি ভাঙেন নিজের শততম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নামা নাহিদা আক্তার। ৪০ বলে সাত চারে ৫৫ রান করেন ইমেশা। ইনিংসের শেষ বলে মারুফা আক্তারের বলে আউট হবার আগে ৩৫ বলে পাঁচ চার ও দুই ছক্কায় ৬১ রান করেন হার্শিতা। বাংলাদেশের হয়ে সুলতানা দুইটি এবং মারুফা ও নাহিদা একটি করে উইকেট নেন।