‘২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে জয় পাকিস্তান ক্রিকেটের অনেক ক্ষতি করেছে’

পাকিস্তান ক্রিকেট
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
একটা সময় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ছিল সিনেমা হলের সবচেয়ে ব্লকবাস্টার সিনেমা। তবে বর্তমান সময়ে দুই দেশের মাঠের ক্রিকেটের লড়াই অনেকটা বলিউড সিনেমার মতো। হাজার কোটি টাকা খরচ করলেও দিনশেষে সিনেমা সুপার ফ্লপ। ম্যাচের আগে ব্রডকাস্টার প্রতিষ্ঠানগুলো একের পর বিজ্ঞাপনে দুনিয়ার সেরা লড়াই হিসেবে দেখানো চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে বিজ্ঞাপনের পুরোপুরি উল্টো।

গত কয়েক বছরে ভারতের ক্রিকেট এত বেশি এগিয়ে গেছে যে পাকিস্তান অনেক পেছনে পড়ে গেছে। একটা সময় ভারতকে নিয়মিতই ধসিয়ে দেওয়া পাকিস্তান এখন যেন জিততেই ভুলে গেছে। ভারতের বিপক্ষে শেষ ৯ ম্যাচের ৮টিতেই হেরেছে পাকিস্তান। বাবর আজম-মোহাম্মদ রিজওয়ানরা সবশেষ ভারতকে হারিয়েছিলেন ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। সেবার রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলিদের ১০ উইকেট হারিয়েছিল তারা।

ভারতকে হারানোর পর পাকিস্তানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন সমর্থকরা। তবে পরবর্তীতে সময়ে উল্টোপথে হেঁটেছে তারা। ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা ছাড়া বলার মতো কিছুই করতে পারেননি বাবররা। মোহাম্মদ ইউসুফ মনে করেন, ২০২১ সালে ভারতকে হারানোর ফলে পাকিস্তানের ক্রিকেটের অনেক ক্ষতি হয়েছে। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার এও জানান, বাবর-রিজওয়ানরা ভাবতে শুরু করেছিলেন তারা অনেক কিছু অর্জন করে ফেলেছেন।

সামা টিভির সঙ্গে আলাপকালে ইউসুফ বলেন, ‘২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে আমরা যে ম্যাচটা জিতেছিলাম, সেটা আমাদের অনেক ক্ষতি করেছিল। কারণ ওই জয়ের পর ক্রিকেটাররা ভাবতে শুরু করেছিলেন তারা অনেক বড় কিছু অর্জন করে ফেলেছে। এরপর তাদের কী হবে সেটা তারা বুঝতে পারছিল না। আপনি যখন ভালো খেলবেন তখন আপনার বিনয়ী থাকা উচিত। আপনি যদি উদ্ধত আচরণ করেন, অসম্মান করেন তাহলে সমস্যা আসবেই। আর পাকিস্তানের ক্রিকেটে এমন অনেক সমস্যাই এসেছে।’

পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ভাবনার পরিবর্তন হওয়ায় দেশটির ক্রিকেটে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। গত কয়েক বছরে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাবর, শাহীন শাহ আফ্রিদি, রিজওয়ান, সালমান আলী আঘা ও শান মাসুদরা। ইউসুফ জানান, ভারতকে হারানোর পর দলের সবাই অধিনায়ক হওয়ার জন্য পাগল হয়েছিলেন। পাকিস্তানের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে পিসিবি বিভিন্ন কোচ আনার পাশাপাশি বেশ কিছু পরিবর্তন করলেও ক্রিকেটাররা তাতে এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ইউসুফ বলেন, ‘দলের সবাই তখন পাকিস্তানের অধিনায়ক হওয়ার চেষ্টা করছিল। সেটার পরিণতি এখনো পাকিস্তানের ক্রিকেটকে ভোগাচ্ছে। গত চার-পাঁচ বছরে পাকিস্তান ওয়ানডে বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দিকে তাকান। খুবই বাজে ক্রিকেট খেলেছে।’

‘পিসিবি সবসময় তাদের সমর্থন করেছে। পাকিস্তান দলকে সাহায্য করার জন্য অনেক কোচ এসেছেন এবং চলে গেছেন। অনেক কিছু বদলে গেছে। কিন্তু কোনো খেলোয়াড়ই এগিয়ে এসে দায়িত্ব নেয়নি। অবশেষে পিসিবিকে এমন একটি পদক্ষেপ নিতেই হতো যা তারা নিয়েছে। পিসিবি যেটা করেছে সেটাকে আমি সমর্থন করি।’

গত কয়েক মাস ধরে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারছে না পাকিস্তান। লিডসে ইনিংসে ব্যবধানে হারের পর লর্ডসে সফরকারীরা হেরেছে ১৯৪ রানে। এমন হারের পর স্কোয়াড ও টিম ম্যানেজমেন্টে বড়সড় পরিবর্তন এনেছে পিসিবি। তৃতীয় টেস্টে আগে সাতজনকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে তারা। তাদের পরিবর্তে দলে জায়গা দেওয়া হয়েছে পাঁচকে।

ক্রিকেটারদের পাশাপাশি কোচিং প্যানেলেও পরিবর্তন করা হয়েছে। গত এপ্রিলে পাকিস্তান টেস্ট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পাওয়া সরফরাজ আহমেদকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পেস বোলিং কোচ উমর গুলকেও রাখা হচ্ছে না তৃতীয় টেস্টে। তাদের বদলে প্রধান কোচের দায়িত্ব সামলাবেন মাইক হেসন ও বোলিং কোচ অ্যাশলি নফ। পিসিবির এমন অ্যাকশনে কোনো সমস্যা দেখেন না ইউসুফ।

তিনি বলেন, ‘পিসিবির প্রতিক্রিয়ায় আমি কোনো সমস্যা দেখি না। কারণ দল খুবই বাজে ক্রিকেট খেলছে। এটা শুধু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটা সিরিজ খারাপ খেলার ব্যাপার নয়। আমরা ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে এবং একটি এশিয়া কাপেরও ফাইনাল খেলেছি। কিন্তু সেই ফাইনালগুলোর পর থেকে পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্স দেখুন।’

আরো পড়ুন: