‘শামির জাতীয় দলের দরজা বন্ধ করা উচিত হয়নি’

ভারতীয় ক্রিকেট
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
একটা সময় ভারতের পেস আক্রমণের অন্যতম একজন ছিলেন মোহাম্মদ শামি। টেস্টের পাশাপাশি ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতেও দাপটের সঙ্গে পারফর্ম করেছেন। তবে গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের আশেপাশে নেই ডানহাতি পেসার। আবার কখনো ভারতের জার্সিতে গায়ে জড়াতে পারবেন কিনা সেটারও নিশ্চয়তা নেই। ভরত অরুণ মনে করেন, শামির মতো পেসারের জাতীয় দলের দরজা বন্ধ করে দেওয়া উচিত হয়নি।

সবশেষ ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের হয়ে খেলেছিলেন শামি। বাংলাদেশের বিপক্ষে পাঁচটি এবং সেমিফাইনালে ডানহাতি পেসার নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। তবে ফাইনালে ৯ ওভারে ৭৪ রান দেওয়ার পর থেকেই জাতীয় দলের বাইরে আছেন। ৫৪৫ দিন ধরে ভারতের ওয়ানডে দলের স্কোয়াডে নেই শামি। টেস্ট খেলেছেন ১ হাজার ১৮২ দিন আগে। অথচ ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিতই পারফর্ম করছেন তিনি।

রঞ্জি ট্রফির সবশেষ আসরে বাংলার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন শামি। সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে ডানহাতি পেসারের চেয়ে বেশি উইকেট নিতে পারেননি বাংলার কোনো বোলার। বিজয় হাজারে ট্রফিতেও আলো ছড়িয়েছিলেন। শামি যখন ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করছেন তখন জাতীয় দলের পেসাররা চোটের সঙ্গে লড়াই করছেন। জসপ্রিত বুমরাহ, হার্শিত রানা, আকাশ দীপদের খেলাতে বেগ পেতে হচ্ছে ভারতকে।

এমন পরিস্থিতিতেও শামিকে জাতীয় দলে ফেরাচ্ছে না অজিত আগারকারের নির্বাচক প্যানেল। এক সময় ভারতের পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করা অরুণ করেন, এত দ্রুতই শামির দরজা বন্ধ করে দেওয়া উচিত হয়নি। পাশাপাশি কেউ ভালো করলে তার বয়সের দিকে তাকা উচিত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। শামির ১০০তম প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ম্যাচের আগে তার প্রশংসা করেছেন সাবেক এই পেস বোলিং কোচ।

এ প্রসঙ্গে অরুণ বলেন, ‘শামির জন্য দরজা বন্ধ করে দেওয়া উচিত হয়নি। এখনো দলকে দেওয়ার মতো অনেক কিছুই ওর মধ্যে আছে। কেউ যখন পারফর্ম করে তখন বয়স কোনো সমস্যা হওয়া উচিত না। আপনি ওর টিকে থাকার ক্ষমতা দেখলেই বুঝবেন। ওর যে প্রতিভা আছে ওর জন্য সংখ্যাটা খুবই স্বাভাবিক। শামির জন্য এটাই আসলে উপযুক্ত। যে ফরম্যাটটা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে সেই ফরম্যাটে একশ ম্যাচ, দারুণ ব্যাপার।’

আইপিএলের পর দুলীপ ট্রফি দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরেছেন শামি। ফেরার ম্যাচে নর্থ ইষ্ট জোনের বিপক্ষে উইকেটশূন্য ছিলেন ডানহাতি এই পেসার। তবে সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিয়েছেন ৫ উইকেট। ইষ্ট জোনকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইশান কিশান। একই দলের হয়ে খেলছেন শামিও। ফলে নেটে খুব কাছ থেকে শামিকে দেখার সুযোগ হয়েছে ইশানের। বাঁহাতি ব্যাটার জানান, শামির মধ্যে এখনো সেই ক্ষুধাটা আছে।

ইশান বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে তার প্রচেষ্টা দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। কারণ যখনই উইকেট নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত বোলিং করার প্রয়োজন হয় তখন সে নিজে থেকেই আমার কাছে বল চায়। এটা আমার আত্মবিশ্বাস জোগায়। এই মৌসুমে শামি ভাইকে দেখে মনে হচ্ছে একটু আলাদা। আমি আগেও তাকে দেখেছি কিন্তু খেলার প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি, ইনটেনসিটি এবং শক্তি পুরোপুরি আলাদা।’

‘আপনি যখন জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলছেন না তখন ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার জন্য আবার একই ধরনের মোটিভেশন পাওয়া খুবই কঠিন। কিন্তু তার মধ্যে আমি সেই ক্ষুধা দেখতে পাচ্ছি। আমার মনে হয় তার মধ্যে সেই ক্ষুধা ও মোটিভেশন এখনো আছে। সে জাতীয় দলে ফিরতে চায় এবং ভারতীয় দলের অংশ হতে চায়। সেটা তার মধ্যে দেখা যাচ্ছে।’

আরো পড়ুন: