সবশেষ কয়েক বছরে ম্যাককালাম-বেন স্টোকস জুটিতে টেস্ট ক্রিকেট আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বাজবলের শুরুর সময়ে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বলেছিলেন, সমর্থকদের বিনোদন দিতে চান। সেটা অবশ্য অনেকাংশে করতে পেরেছেন তারা। আগ্রাসী ক্রিকেটে সবার প্রশংসা কুড়ালেও আইসিসির বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো করতে পারেনি ইংলিশরা। টুর্নামেন্টের প্রথম তিন আসরের একটিতেও ফাইনালে উঠতে পারেননি স্টোকসরা।
ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ ড্র করলেও দুর্দান্ত ক্রিকেটে সবার প্রশংসা পেয়েছিলেন তারা। স্বাভাবিকভাবে অ্যাশেজ নিয়ে তাদের প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। যদিও প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউডদের মতো পেসাররা ইনজুরিতে পড়ার পরও অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারেনি। বরং স্টিভ স্মিথ, ট্রাভিস হেডদের কাছে ৪-১ ব্যবধানে হেরেছে ইংলিশরা। ম্যাককালামের চাকরি নিয়েও প্রশ্ন উঠে। তবে চাকরি হারাননি তিনি।
লাল বলের মতো সাদা বলের ক্রিকেটেও একই দশা তাদের। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ভালো করলেও সবশেষ দুই আইসিসির টুর্নামেন্টে শিরোপা জেতা হয়নি। গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড থেমেছে সেমিফাইনালে। শিরোপা জিততে না পারলেও নিজেদের পদে টিকে যাচ্ছেন প্রধান কোচ ম্যাককালাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি।
তারা দুজন টিকে গেলেও কোচিং প্যানেলে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই তালিকায় যুক্ত হতে পারেন পিটারসেন। ইংল্যান্ডের কোচিং প্যানেলে যুক্ত করার ব্যাপারে অ্যাশেজজয়ী সাবেক ব্যাটারের সঙ্গে কয়েকবার প্রাথমিকভাবে আলোচনাও করেছেন রব কি। যদিও সেটা তখন খুব বেশি দূর এগোয়নি। তবে এখন যদি ইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলোচনা করেন তাহলে না করবেন না পিটারসেন।
দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে আলাপকালে ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার বলেন, ‘রব কি কয়েকবার বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেছিল। কিন্তু আমরা কখনো এমন কোনো অবস্থায় ছিলাম না যেখানে বলব যে, ‘ঠিক আছে, আমরা কী করতে পারি?’ রব কি যদি আমাকে ফোন করে এবং বলে, ‘আমি তোমার সঙ্গে ঠিকঠাকভাবে কথা বলতে চাই। তাহলে অবশ্যই আমি তার সঙ্গে কথা বলব।’ আমি আলোচনার জন্য প্রস্তুত।’
অ্যাশেজ জেতার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও জিতেছেন পিটারসেন। মারকাটারি ব্যাটিংয়ে তরুণ প্রজন্মের আইকন হয়ে আছেন সাবেক ইংলিশ ব্যাটার। টেস্টের মতো ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দারুণ সব শটে নিজেকে পরিচিত করেছিলেন। ইংল্যান্ডের কোচিং প্যানেলে যুক্ত হলে কাজ করতে চান টেস্ট দলের সঙ্গে।
পিটারসেন বলেন, ‘আমি অবশ্যই, টেস্ট ক্রিকেটে ছেলেদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। ছেলেদেরকে খেলা বুঝতে সাহায্য করতে চাই যে এভাবেও খেলতে পারো। ট্যাকটিক্যালি, তোমাকে পরিস্থিতি বুঝতে হবে। আমি জানি আমার সেই সামর্থ্য আছে। আমি জানি আমি সেটা করতে পারি। আমি সবকিছু দেখেছি, ব্যর্থ হয়েছে আবার জিতেছিও। খেলার ক্ষেত্রে আমি সবই করেছি। ইংল্যান্ডকে সাহায্য করার সুযোগ পেলে আমি কখনোই না বলবো না।’