নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ভারতের ইতিহাস

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
আইসিসি
আইসিসি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারালে অনন্য ইতিহাস গড়বে ভারত। সেই সঙ্গে প্রথম দল হিসেবে তৃতীয়বার শিরোপা জেতা দল হিসেবেও নাম লেখাবে, এমনকি প্রথমবার কোনো ডিফেন্ডিং দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করবে। এসব সমীকরণ আগে থেকেই জানা ছিল সূর্যকুমার যাদবদের। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে আগে ব্যাট করে বোলারদের কাজ সহজ করে দিয়েছিলেন ব্যাটাররাই। অভিষেক শর্মার ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরি। সাঞ্জু স্যামসনের ৪৬ বলে ৮৯ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংসে ভর করে ভারত তোলে ২৫৫ রান। বাকি কাজটা বেশ ভালোভাবেই সেরেছেন বোলাররা। তারা নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচেই ফিরতে দেননি। অক্ষর প্যাটেল-জসপ্রিত বুমরাহদের তোপে কিউইরা থেমেছে ১৫৯ রানে। ৯৫ রানের বিশাল জয়ে আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত।

বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রত্যাশিত শুরু পায়নি নিউজিল্যান্ড। একবার জীবন পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি কিউই ওপেনার ফিন অ্যালেন। তৃতীয় ওভারে স্পিনার অক্ষর প্যাটেল তাকে ফিরিয়ে কিউইদের ওপেনিং জুটি ভাঙেন ৩১ রানে। সেই ওভারের চতুর্থ বলে তাঁকে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অনে তিলককে ক্যাচ দেন ৭ বলে ৯ রান করা অ্যালেন। এরপর ওয়ান ডাউনে নেমে থিতু হতে পারেননি রাচিন রবীন্দ্র। তাকে ফিরিয়েছেন ভারতের প্রাইম পেসার জসপ্রিত বুমরাহ।

এই ডানহাতি পেসারের বলে ডিপ স্কয়ার লেগে টপ এজ হয়ে ইশান কিশানকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২ বলে ১ রান করা রাচিন। স্কয়ার লেগ থেকে দৌড়ে এসে দারুণ ক্যাচ নেন কিশান। এরপর সেইফার্টের সঙ্গে যোগ দেন গ্ল্যান ফিলিপ্স। তবে তাকে টিকতে দেননি অক্ষর। বোলিংয়ে ফিরে ৫ রান করা ফিলিপ্সকে বোল্ড করে দেন ভারতীয় এই স্পিনার। অক্ষরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে লাইন মিস করে ব্যাটে বলেই করতে পারেননি ফিলিপ্স। আর তাতেই দলীয় ৫০ রানের আগেই ৩ উইকেট হারায় ভারত।

দলীয় ৭২ রানের মধ্যে আরও দুই উইকেট হারায় কিউইরা। রান রেটের চাপ থেকে বেড়িয়ে আসতে বড় শটের বিকল্প ছিল না নিউজিল্যান্ডের। সেই চাপ সামলাতে গিয়েই আউট হন মার্ক চ্যাপম্যান। হার্দিক পান্ডিয়ার করা অষ্টম ওভারের চতুর্থ বলটি টেনে আনেন চ্যাপম্যান। আর তাতেই ভেঙে যায় স্টাম্প। এরপর হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেয়া সেইফার্টও ফেরেন সাজঘরে। নবম ওভারে বরুণ চক্রবর্তীর প্রথম বলে মিডউইকেটে সাইফার্টের ক্যাচ নেন কিশান। ২৬ বলে ৫২ রানেই ফিরতে হয় কিউই ওপেনারকে।

ষষ্ঠ উইকেটে বিপর্যয় সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন ড্যারিল মিচেল ও মিচেল স্যান্টনার। দুজনে ৫২ রানের জুটিও গড়ে ফেলেন। তাদের জুটি ভেঙেছেন অক্ষর। ভারতের এই স্পিনারের বলে ডিপে কিশানকে সহজ ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন ১১ বলে ১৭ রান করা মিচেল। ১৬তম ওভারে নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন বুমরাহ। পরপর দুই বলে আউট করেন তিনি জিমি নিশাম ও ম্যাট হেনরিকে। দুজনকেই বোল্ড করেছেন ভারতীয় এই পেসার।

এরপর আর বেশিদূর এগোতে পারেনি কিউইরা। তাদের ইনিংস থেমেছে ১৬০ এর আগেই। একপ্রান্ত আগলে থাকা স্যান্টনারকে ফিরিয়েছেন বুমরাহ। কিউই অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ৩৫ বলে ৪৩ রান। আর শেষ ব্যাটার জ্যাকব ডাফিকে ফিরিয়ে কিউইদের ইনিংস গুঁড়িয়ে দেন অভিষেক। মাত্র ১৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতের সেরা বোলার বুমরাহই। ২৭ রানে ৩ উইকেট অক্ষরের।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ভারতের শুরু কিছুটা মন্থর ছিল। প্রথম দুই ওভারে ম্যাট হেনরি ও ফিলিপস মিলে দেন মাত্র ১২ রান। তবে তৃতীয় ওভার থেকেই তাণ্ডব চালান অভিষেক ও স্যামসন। জ্যাকব ডাফি, লকি ফার্গুসনরা কোথায় বল ফেলবেন সেটাই যেন ‍খুঁজে পাচ্ছিলেন না। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই রান খরায় ভুগছিলেন অভিষেক। মোহাম্মদ কাইফ, সুনীল গাভাস্কাররা তো বাঁহাতি ওপেনারকে ফাইনালে বাদও দিতে বলেছিলেন। তবে আস্থা রেখেছিলেন গৌতম গম্ভীর-সূর্যকুমার জুটি। সেই আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন দারুণভাবে।

আহমেদাবাদে ছক্কা-চারের বৃষ্টিতে মাত্র ১৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন অভিষেক। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে বাঁহাতি ওপেনারের চেয়ে কম বলে পঞ্চাশ ছোঁয়ার রেকর্ড নেই কারও। এমনকি চলতি বিশ্বকাপেও এটি সবচেয়ে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের তুলোধুনো করে পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৯২ রান তোলে ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যা রেকর্ড। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পর অভিষেকের ঝড় থামান রাচিন। বাঁহাতি স্পিনারের অফ স্টাম্পের অনেকটা বাইরের বলে এজ হয়েছেন তিনি।

২১ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন অভিষেক। বাঁহাতি ওপেনার ফিরলেও রান তোলার গতি কমাননি স্যামসন। তাকে সঙ্গ দেওয়ার পাশাপাশি তাণ্ডব চালান ইশান কিশানও। সবশেষ দুই ম্যাচেই হাফ সেঞ্চুরি করা স্যামসন পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ফাইনালেও। ছন্দে থাকা ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটার হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ৩৩ বলে। বিরাট কোহলি ও শহীদ আফ্রিদির পর তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনালে হাফ সেঞ্চুরি করেন স্যামসন।

ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন ইশান। তাদের দুজনের ১০৫ রানের জুটি ভাঙেন নিশাম। ডানহাতি মিডিয়াম পেসারের ফুলটস ডেলিভারিতে লং অনে ক্যাচ দিয়েছেন স্যামসন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা মিস ভারতীয় ব্যাটার ফাইনালে আউট হয়েছেন ৮ ছক্কা ও ৫ চারে ৪৬ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলে। একই ওভারের পঞ্চম বলে আউট হয়েছেন ইশান। খেলেছেন ২৫ বলে ৫৪ রানের ইনিংস। শেষ বলে নিশাম ফেরান সূর্যকুমারকে।

ডানহাতি পেসারের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে রাচিনের দুর্দান্ত ক্যাচে ভারতীয় অধিনায়ক ফেরেন রানের খাতা খোলার আগেই। এক ওভারে তিন উইকেট নিয়ে ভারতের গতি কমান নিশাম। ঝড় তোলার চেষ্টা করলেও সুবিধা করতে পারেননি হার্দিক। হেনরির শর্ট লেংথ ডেলিভারিতে টপ এজ হয়েছেন ১৩ বলে ১৮ রান করে। শেষ ওভারে নিশামের উপর চড়াও হন শিভাম দুবে। দুইটি ছক্কা ও তিনটি চারে সেই ওভার থেকে এসেছে ২৪ রান। দুবে অপরাজিত ছিলেন ৮ বলে ২৬ রান করে। ভারত পায় ২৫৫ রানের পুঁজি। কিউইদের হয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন নিশাম।

আরো পড়ুন: