কয়েক মাস আগেই রোহিত শর্মাকে টপকে গেছেন বাবর। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক এখন ডানহাতি এই ব্যাটার। ১৪৪ ম্যাচে ৩৯.০৬ গড়ে করেছেন ৪ হাজার ৫৭১ রান। তিনটা সেঞ্চুরির সঙ্গে ৩৯টি হাফ সেঞ্চুরি আছে পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটারের। তবে বাবরের স্ট্রাইক রেট ১২৮.১৮। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সাড়ে তিন হাজার রান করেছেন এমন ৬ ব্যাটারের মধ্যে সবচেয়ে কম স্ট্রাইক রেট তাঁর।
রোহিত, বিরাট কোহলি, জস বাটলার, মার্টিন গাপটিল এবং পল স্টার্লিং—তাদের সবার স্ট্রাইক রেটই ১৩০’র উপরে। আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে স্ট্রাইক রেট মানানসই না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই গত এক-দুই বছরে বাবরের ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। এমন ব্যাটিংয়ের জেরে জাতীয় দল থেকে কয়েক মাসের জন্য বাদও পড়েছিলেন। যদিও তাকে আবারও ফেরানো হয়। পাকিস্তান দলে ফিরলেও পুরনো জায়গা থেকে বের হতে পারেননি তিনি। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে তাকে।
এখনো পর্যন্ত ৬ ম্যাচের ৪ ইনিংসে ২২.৭৫ গড় ও ১১২.৩৪ স্ট্রাইক রেটে ৯১ রান করেছেন বাবর। নামিবিয়ার বিপক্ষে তো সুযোগ থাকার পরও ব্যাটিংয়ে নামানো হয়নি। বাবর ভালো করতে না পারায় স্বাভাবিকভাবে পাকিস্তানও বিশ্বকাপে ভুগছে। ভন মনে করেন, হেসনের সামনে বাবরকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে ডানহাতি ব্যাটারকে বেশ ভালোভাবেই সামলেছেন পাকিস্তান কোচ। ক্রিকবাজের অনুষ্ঠানে বাবরকে হেসনের ‘ইনস্যুরেন্স পলিসি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার।
ভন বলেন, ‘আমি বিদেশি কোচদের অনেক শ্রদ্ধা করি যারা পাকিস্তানে এসে কোচিং করেন, কারণ আমি কল্পনা করতে পারি সেখানে কী চলছে। বাবর আজমের ক্ষেত্রে, আমি মনে করি মাইক হেসন তা খুবই চমৎকারভাবে সামলেছেন। কারণ তাকে অবশ্যই বাবর আজমকে খেলাতে হয়। হেসন বাবরকে একটি ‘ইনস্যুরেন্স পলিসি’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। দুই উইকেট হারালে, সে আপনার নিরাপত্তা। সে চতুর্থ স্থানে নামবে এবং খেলবে।’
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে বিদেশি কোচদের অভিজ্ঞতা মোটেও ভালো নয়। সাদা বলের ক্রিকেটের দায়িত্ব নিলেও কিছু দিনের মধ্যেই চাকরি ছাড়েন বিশ্বকাপজয়ী গ্যারি কারস্টেন। তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে পাকিস্তানের টেস্ট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দেন জেসন গিলেস্পিও। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটারের সঙ্গে আলাপ হওয়ার পর ভন জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি কখনই পাকিস্তানে কোচ হিসেবে যেতেন না।
তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই প্রশংসা করি যে মাইক হেসন সম্ভবত রাজনীতি খুব ভালোভাবে খেলেছেন, এবং এটি সম্ভবত বিশ্বকাপ জয়ের জন্য সেরা সুযোগ দেয় না। আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনোই বিদেশি কোচ হিসেবে পাকিস্তানে যেতে চাইতাম না। আমি জেসন গিলেস্পির সঙ্গে অনেক কথা বলেছি, যখন আমি সেখানে গিয়েছিলাম। তাই এটি সত্যিই কঠিন। আমি শুধু মনে করি হেসন, টিম এবং ম্যানেজমেন্ট–তারা এটা নিখুঁতভাবে সামলিয়েছেন। তারা যা করেছেন তা একেবারেই নিখুঁত।’