দ্য হান্ড্রেডে আফ্রিদি-বাবরদের ‘ছায়া নিষেধাজ্ঞা’, ৮ ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ইসিবির সতর্কবার্তা

দ্য হান্ড্রেড
পিসিবি
পিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
দ্য হান্ড্রেডের নিলামে পাকিস্তানের ৬৩ ক্রিকেটারদের নাম থাকলেও তাদের কাউকেই দলে নেবে না ভারতীয় মালিকানাধীন চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজি! বিবিসির প্রতিবেদনের পর ফ্র্যাঞ্চাইজিদের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মাইকেল ভন। পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে এমন নিষেধাজ্ঞা চান না ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকও। এবার বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে দ্য হান্ড্রেডের ৮ ফ্র্যাঞ্চাইজিকে চিঠি দিয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।

ইংল্যান্ডের একশ বলের টুর্নামেন্টের জন্য এখনো পর্যন্ত ৭১০ জন ক্রিকেটার নিবন্ধন করেছেন। আগামী ১১ ও ১২ মার্চ হতে যাওয়া নিলামে নাম দিয়েছেন সালমান আলী আঘা, শাহীন শাহ আফ্রিদী, শাদাব খান, হারিস রউফসহ ৬৩ জন ক্রিকেটার। গত মৌসুমে দ্য হান্ড্রেডে খেলেছেন ইমাদ ওয়াসিম ও মোহাম্মদ আমির। তবে আগামী আসরে কেউ থাকবেন কিনা সেটা এখনো নিশ্চিত নয়।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দ্য হ্যান্ড্রেডের আগামী আসরে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে একটা ছায়া নিষেধাজ্ঞা থাকছে। সেটার সবচেয়ে বড় কারণ ইংল্যান্ডের টুর্নামেন্টে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা। নতুন মৌসুমের আগে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের মালিকানা আংশিক বিক্রি করেছে ইসিবি। আইপিএলের মালিকানায় থাকা চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রথমবারের মতো দ্য হান্ড্রেডে যুক্ত হয়েছে।

ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস, এমআই লন্ডন, সাউদার্ন ব্রেভ এবং সানরাইজার্স লিডস ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা কিনে নিয়েছে আইপিএলের দলগুলো। এমন অবস্থায় চার ফ্র্যাঞ্চাইজির কোনটিতেই পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দেখার কোনো সম্ভাবনা নেই। বাকি ফ্র্যাঞ্চাইজিদেরও আগ্রহ সীমিত থাকবে বলে জানা গেছে। ভারতীয় মালিকানাধীন দলগুলোতে এমনিতেও অলিখিতভাবে নিষিদ্ধ পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা।

২০০৯ সালের পর থেকেই আইপিএলে খেলা হচ্ছে না তাদের। পাশাপাশি সাউথ আফ্রিকার এসএ টোয়েন্টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টিতেও ভারতীয় মালিকানা ফ্র্যাঞ্চাইজিরা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দলে নেয় না। আগামী মার্চে হতে যাওয়া নিলামেও পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের কাউকে দলে নেবে না বলে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে এগিয়ে এসেছে ইসিবি।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৈষম্যবিরোধী নীতিমালার আলোকে বৈষম্যের বিরুদ্ধে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দলগুলোকে চিঠি দিয়েছে। যদিও সেটা কতটা কাজে দেবে সেটা নিয়ে সংশয় আছে। কারণ একটা সময় দলগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ইসিবির থাকলেও আংশিক মালিকানা বিক্রি করায় বোর্ডের ক্ষমতা কিছুটা কমে এসেছে।

নিলাম থেকে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের নিতেই এভাবে বাধ্য করার সুযোগ নেই ইসিবির কাছে। বৈষম্যের অভিযোগ উঠলেও সেটার জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণের প্রয়োজন হবে। এরপর বোর্ড চাইলে কোনো ক্রিকেট নিয়ন্ত্রকের কাছে সেটা পাঠাতে পারে। যারা কিনা নিজেদের মতো করে তদন্ত করতে পারে। গভর্নিং বডি পৃথকভাবে শাস্তিও দিতে পারে। তবে সেটা লম্বা একটা প্রক্রিয়া।

এমন কিছু করতে গেলে ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজিরা সরে যায় কিনা সেটা নিয়েও আলোচনার সুযোগ আছে। এদিকে নিলামের আগে দলে নিতে আগ্রহী এমন ৭০ থেকে ১০০ জন ক্রিকেটারের নাম ইসিবির কাছে জমা দেবে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। সেখান থেকে বাছাই করে ১৫০ থেকে ২০০ জন ক্রিকেটারের নাম নিলামে তোলা হবে। নিলামের আগেই অবশ্য দলগুলো রিটেইন করেছে। পাশাপাশি সরাসরি চুক্তিতেও ক্রিকেটারদের দলে নিয়েছে।

আরো পড়ুন: