মাশরাফি-সাকিবরা নিরপরাধ হয়ে মাঠে আসুক, স্বাগত জানাব: আমিনুল

বাংলাদেশ ক্রিকেট
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ফিরতে পারেননি সাকিব আল হাসান। ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর থেকে নেই জাতীয় দলেও। বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডারের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। এমতাবস্থা চাইলেও দেশে ফিরতে পারছেন না সাকিব। প্রায় একই চিত্র মাশরাফি বিন মুর্তজার ক্ষেত্রেও। দেশে থাকলেও প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সফলতম অধিনায়ক। তাদের দুজনকে আবারও ক্রিকেটের সঙ্গে দেখতে চান ক্রিকেট সমর্থকরা। সাকিব ও মাশরাফিকে আইনের মাধ্যমে নিজেদের নিরপরাধ প্রমাণ করার পরামর্শ দিয়েছেন আমিনুল হক। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, নিরপরাধ প্রমাণিত হলে তাদের দুজনকে আবারও মাঠে স্বাগত জানানো হবে।

জাতীয় দলের ক্রিকেটারের পাশাপাশি সাকিবের নতুন পরিচয় আওয়ামী লীগ সরকারের একজন সংসদ সদস্য। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বেশিরভাগ সময়ই দেশের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্টে বাংলাদেশে যখন গণঅভ্যুত্থান হয়েছে তখন কানাডায় লিগ খেলছিলেন সাকিব। যদিও নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। পোশাককর্মী মো. রুবেল হত্যা মামলায় আদাবর থানায় সাকিবকে ২৮ নম্বর আসামী করা হয়েছে।

এ ছাড়া শেয়ারবাজারে কারসাজির মাধ্যমে ২৫৬ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে সাকিবের নামে মামলা হয়েছে। এসব ঘটনার পর থেকেই দেশে ফিরতে পারছেন না তিনি। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করছেন তারকা অলরাউন্ডার। মাশরাফি অবশ্য দেশেই আছেন। তবে কোথায় আছেন সেটা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। দেশে থাকলেও সাকিবের মতো সংসদ সদস্য হওয়ায় মামলার গ্যাড়াকলে পড়তে হয়েছে তাকেও।

নড়াইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে গুলি, বোমা বিস্ফোরণ ও মারধর করার অভিযোগে মাশরাফিকে আসামী করে মামলা করা হয়েছে। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়কের নামে আরেকটি মামলা হয়েছে নড়াইলে হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে। স্বাভাবিকভাবেই মামলা থাকায় প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না মাশরাফি। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সোনালী সময়ের কাণ্ডারি হিসেবে দেশের মানুষের মনে গেঁথে আছেন মাশরাফি ও সাকিব।

তাদের দুজনকে ফেরাতে তাই তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের দুই কিংবদন্তিকে মাঠে ফিরতে মামলা নিষ্পত্তি করার পরামর্শ দিয়েছেন আমিনুল। সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাকিব এবং মাশরাফি বাংলাদেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটার। তাদের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের যে ভালোবাসা আমি দেখেছি এবং খেলার প্রতি তাদের যে একটি আকৃষ্টতা (ভালোবাসা) রয়েছে। আমি একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে মনে করি যেহেতু তাদের মামলা সংক্রান্ত বিষয়টি রয়েছে সেটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত।’

‘এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ব্যক্তিগত যে আইনজীবী রয়েছে এবং তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে তারা যদি আইনগত যে বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলো মোকাবেলা করে নিরপরাধ হয়ে তারা যদি দেশের মাঠে এসে খেলে আমি একজন খেলার মানুষ হিসেবে অবশ্যই আমি তাদের স্বাগত জানাব। আপনারা এসে আপনাদের যে মামলাগুলো রয়েছে সেগুলো মোকাবেলা করে আপনারা যদি নিরপরাধ হন, মাঠে আসেন আমরা স্বাগত জানাব। এটুকুতে আমরা শতভাগ নমনীয় থাকব ইনশাআল্লাহ।’

মাশরাফিকে নিয়ে এখনো পর্যন্ত কথা না এগোলেও সাকিবকে ফেরাতে তোড়জোড় শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পাকিস্তান সিরিজেই তাকে খেলাতে চায় আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড। এজন্য তারকা অলরাউন্ডারের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো নিষ্পত্তি করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে সহযোগিতা চেয়ে। জানা গেছে, এসবের জন্য সাকিব ও বিসিবিকে নিজ উদ্যোগে কাজ করতে হবে।

আরো পড়ুন: