শ্রীলঙ্কাকে বিদায় করে সেমিফাইনালের দুয়ারে নিউজিল্যান্ড

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল শ্রীলঙ্কা
বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল শ্রীলঙ্কা
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে নিউজিল্যান্ডকে হারাতেই হতো শ্রীলঙ্কার। এমন সমীকরণের ম্যাচে স্বাগতিকদের প্রত্যাশিত শুরুই এনে দিয়েছিলেন মাহিশ থিকশানা ও দুশমন্থ চামিরা। ৮৬ রানে ৬ উইকেট তুলে নিলেও শেষ বেলায় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মিচেল স্যান্টনার ও কোলে ম্যাকনকি। তাদের দুজনের ৮৪ রানের জুটিতে ১৬৮ রানের পুঁজি পায় নিউজিল্যান্ড। রান তাড়ায় রাচিন রবীন্দ্র, ম্যাট হেনরিদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে মাত্র ৮ উইকেটে ১০৭ রান তোলে স্বাগতিকরা।

নিউজিল্যান্ডের কাছে ৬১ রানে হেরে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় দাসুন শানাকার দলের। বিপরীতে শ্রীলঙ্কাকে বিদায় করে সেমিফাইনালের দুয়ারে নিউজিল্যান্ড। দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে তারা। শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। পাকিস্তান যদি শ্রীলঙ্কার কাছে হারে তাহলে ইংলিশদের কাছে হেরেও সেমিফাইনালে উঠবে নিউজিল্যান্ড। আর স্যান্টনাররা যদি ইংল্যান্ডকে হারাতে পারে তাহলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কিউইরা সেরা চারে উঠবে। তবে পাকিস্তান যদি শ্রীলঙ্কাকে হারায় এবং কিউইরা যদি শেষ ম্যাচে হারে তখন রানরেট বিবেচনায় আসবে।

কলম্বোতে রান তাড়ায় ইনিংসের প্রথম বলেই ফেরেন পাথুম নিশাঙ্কা। ম্যাট হেনরির অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হয়েছেন ডানহাতি এই ওপেনার। তৃতীয় ওভারে চারিথ আসালাঙ্কাকেও বিদায় করেন হেনরি। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে পাওয়ার প্লেতে চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। পাওয়ার প্লেতে আর কোনো উইকেট না হারলেও সর্বসাকুল্যে ২০ রানের বেশি তুলতে পারেনি স্বাগতিকরা।

ইনিংসের নবম ওভারে আউট হয়েছেন কুশল মেন্ডিস। বাঁহাতি স্পিনার রাচিনের একই ওভারের দ্বিতীয় বলে আউট হয়েছেন পবন রত্নায়েকে। শ্রীলঙ্কার রান পঞ্চাশ হওয়ার আগে ফিরেছেন দাসুন শানাকাও। কামিন্দু মেন্ডিস ও দুশন হেমন্থ মিলে জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে জুটি বড় হতে দেননি রাচিন। হেমন্থকে আউট করেন তিনি। ভালো শুরু পাওয়া কামিন্দুকে বিদায় করেন স্যান্টনার।

বাঁহাতি স্পিনারের বলে গ্লেন ফিলিপসের হাতে ক্যাচ দেন ২৩ বলে ৩১ রান করা কামিন্দু। শেষের দিকে দুনিথ ওয়ালালাগের ২৩ বলে ২৯ রানের ইনিংস কেবল শ্রীলঙ্কার হারের ব্যবধান কমিয়েছে। স্বাগতিকদের ১০৭ রানে থামানোর দিনে নিউজিল্যান্ডের হয়ে ২৭ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন রাচিন। দুইটি উইকেট পেয়েছেন হেনরি। এ ছাড়া স্যান্টার ও ফিলিপস একটি করে উইকেট শিকার করেছেন।

কলম্বোতে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরুর চেষ্টা করেন ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট। তবে তাদের দুজনের জুটি বড় হতে দেননি থিকশানা। ডানহাতি স্পিনারের বলে তারই হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৩ বলে ২৩ রান করা অ্যালেন। পরের ওভারে আউট হয়েছেন সেইফার্টও। দ্রুতই দুই উইকেট হারানোর পর জুটি গড়েন ফিলিপস ও রাচিন রবীন্দ্র। তারা দুজনে মিলে নিউজিল্যান্ডকে টেনে নিয়ে গেছেন। ১৮ বলে ১৮ রান করা ফিলিপসকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন চামিরা।

স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করতে থাকা রাচিনকে ফেরান থিকশানা। ২২ বলে ৩২ রান করে হেমন্থর হাতে ক্যাচ দেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। একই ওভারে মার্ক চ্যাপম্যানকে আউট করেন ডানহাতি এই স্পিনার। ৮৪ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর নিউজিল্যান্ডের হাল ধরেন স্যান্টনার ও ম্যাকোনি। দুজনে মিলে ৮৪ রান যোগ করেন। ২৬ বলে ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন স্যান্টনার। তাকে সঙ্গ দেওয়া ম্যাকোনি ২৩ বলে ৩১ রান করেন।

আরো পড়ুন: