১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই ফিল সল্টের উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। আফ্রিদির বলে খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন সল্ট। দলীয় ১৭ রানের মধ্যে বিদায় নেন আরেক ওপেনার জশ বাটলারও। আফ্রিদির বলে ঠিক সল্টের মতই বিদায় নেয়ার আগে তিন বলে দুই রান করেন বাটলার।
তিনে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন ব্রুক। যদিও তাকে বেশীক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি জ্যাকব বেথেল এবং টম ব্যান্টনরা। ১০ বলে আট রান করা বেথেলকে ফেরান আফ্রিদি। উসমান তারিকের স্পিনে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ব্যান্টন। তারপর স্যাম কারানের সঙ্গে রান বাড়াতে থাকেন ব্রুক। ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি আসে তার। কারানকে ১৬ রানে ফেরান উসমান।
যদিও উইল জ্যাকসের ব্যাটে দারুণ সঙ্গ পান ব্রুক। ৫০ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করার পরের বলেই তাকে বোল্ড করেন ফেরান আফ্রিদি। ব্রুক ফেরার পর ২৩ বলে ২৮ রান করা উইল জ্যাকসকে বোল্ড করে ১৯তম আবারও ম্যাচ জমিয়ে দেন মোহাম্মদ নওয়াজ। একই ওভারে জেমি ওভারটনও শুন্য রানে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন। শেষ ওভারে অবশ্য জয়ের জন্য ৩ রান লাগত ইংল্যান্ডের, যদিও আর কোনো নাটকীয়তা ঘটতে দেননি জফরা আর্চার। প্রথম বলেই চার মেরে খেলা শেষ করেন তিনি। পাকিস্তানের হয়ে ৩০ রানে চারটি উইকেট নেন আফ্রিদি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতা যেন পাকিস্তানের ব্যাটারদের পিছু ছাড়ছেই না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রত্যাশিতভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি সাইম আইয়ুব, বাবর আজম, সালমান আলী আঘারা। তাদের ব্যর্থতার দিনে একপ্রান্ত আগলে রেখে আবারও পাকিস্তানকে টেনেছেন সাহিবজাদা। ৪৫ বলে খেলেছেন ৬৩ রানের ইনিংস। ফারহানের ওমন ব্যাটিংয়েই শেষ পর্যন্ত দেড়শ স্পর্শ করে পাকিস্তান।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি পাকিস্তান। জফরা আর্চারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে পুল করার চেষ্টায় টপ এজে হয়ে বেথেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইম আইয়ুব। চলতি বিশ্বকাপে এখনো পুরোপুরি ছন্দ খুঁজে না পাওয়া বাঁহাতি ওপেনার আউট হয়েছেন ৭ রানে। তিনে নেমে সুবিধা করতে পারেননি সালমানও। বাঁহাতি স্পিনার লিয়াম ডওসনের বল ছক্কা মারতে গিয়ে ওভারটনকে ক্যাচ দিয়েছেন।
২৭ রানে ২ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়ে তোলেন বাবর আজম ও ফারহান। যদিও দুজনের কেউই দ্রুত রান তুলতে পারেননি। বিশ্বকাপে স্ট্রাইক রেট নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে বাবরকে। ইংল্যান্ড ম্যাচেও বলার মতো কিছু করতে পারেননি তিনি। ১০৪.১৬ স্ট্রাইক রেটে ২৪ বলে ২৫ রান করে আউট হয়েছেন বাবর। সাবধানী ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানকে টেনে নেওয়াার পাশাপাশি ৩৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন ফারহান। তাকে সঙ্গ দিয়েছেন ফখর জামানও।
তাদের দুজনের ৪৯ রানের জুটি ভাঙে ফারহানের বিদায়ে। ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৪৫ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলে ওভারটনের বলে লেগ বিফোর উইকেট হয়েছেন পাকিস্তানের তারকা ওপেনার। আদিল রশিদের বলে সুইপ করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ডওসনের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ১৬ বলে ২৫ রান করা ফখর। সুবিধা করতে পারেননি উসমান খান, নাওয়াজের কেউই। পরবর্তীতে শাদাবের ১১ বলে ২৩ রানের ইনিংসে ১৬৪ রানের পুঁজি পায় পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের হয়ে ডওসন তিনটি এবং ওভারটন ও আর্চার দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন।