২০২২ সালের জুলাইয়ে মাত্র দেড় বছরের জন্য আফগানিস্তানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ট্রট। ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটারের অধীনে বিশ্ব ক্রিকেটে দাপট দেখাতে থাকেন রশিদ খান, মোহাম্মদ নবিরা। তাঁর কোচিংয়ে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয় তুলে নেয় আফগানরা। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল সেদিন অতিমানবীয় ইনিংস না খেললে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও উঠতে পারতেন রশিদরা।
পরবর্তীতে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও জায়গা করে নেয় আফগানিস্তান। যদিও চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়েছে তারা। ইংল্যান্ডের কোচ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আফগানিস্তানের দায়িত্ব ছেড়েছেন ট্রট। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কোচ খুঁজতে থাকে আফগানরা। সেখানে ট্রটের উত্তরসূরী হিসেবে পাইবাসকে বেছে নিয়েছে তারা। কোচিং ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম রশিদ-নবিদের সঙ্গে কাজ করবেন ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এই সাউথ আফ্রিকান কোচ।
আগামী মার্চে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কাকে আতিথেয়তা দেবে আফগানিস্তান। তিনটি করে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি খেলবে তারা। সেই সিরিজ দিয়েই আফগানিস্তানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন পাইবাস। ‘হাইপ্রোফাইল’ কোচ হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাকে। চোটের কারণে ক্রিকেট ক্যারিয়ার দীর্ঘ না হওয়ায় কোচিং শুরু করেন ইংলিশ বংশোদ্ভুত সাউথ আফ্রিকান পাইবাস। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত সময়ে তাঁর অধীনে দুর্দান্ত উইকেটকিপার হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন মার্ক বাউচার।
পাইবাসের একাডেমির ছাত্র ছিলেন মাখায় এনটিনি। এমনকি ডেল স্টেইন, মরনে মরকেলরাও উঠে এসেছেন তার হাত ধরে। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের পরামর্শক হিসেবে কাজ করা পাইবাস পরবর্তীতে কয়েক দফায় স্থায়ী কোচের দায়িত্বও পেয়েছিলেন। ২০১২ সালে বাংলাদেশের প্রধান কোচও ছিলেন তিনি। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে চুক্তির শর্ত না মেলায় পাঁচ মাস পরই চাকরি ছেড়েছিলেন পাইবাস।
সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের কোচ হিসেবে কাজ করা ৬১ বছর বয়সী পাইবাস আবারও বাংলাদেশের কোচ হতে চেয়েছিলেন। ঢাকায় এসে সাক্ষাৎকারও দিয়েছিলেন তিনি। তবে তাকে বেছে নেয়নি বিসিবি। এসবের বাইরে ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেড কোচ, ডিরেক্টর অব ক্রিকেট এবং হাই পারফরম্যান্সে ইউনিটের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। কদিন আগে কাজ করেছেন বাংলাদেশের বসুন্ধরা ক্রিকেট নেটওয়ার্কে।