এবার ইংল্যান্ডের কোচ হতে চান ট্রট

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
ফাইল ফটো
ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বড় জয়ের ম্যাচ, কিন্তু শেষটা ছিল বিদায়ের। খেলা শেষের পর করমর্দনের সময় কোচ জনাথন ট্রটকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন অধিনায়ক রশিদ খান। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা ইব্রাহিম জাদরান পুরস্কার উৎসর্গ করেন কোচকে। অন্য খেলোয়াড়রাও তাকে ঘিরে দাঁড়ান। চোখ ভেজা ট্রট তখন নীরবে সেই মুহূর্তটা গ্রহণ করছিলেন।

সবসময়ই ট্রটকে দেখা গেছে সংযত ও কঠোর স্বভাবের মানুষ হিসেবে। কোচিংয়েও আবেগ প্রকাশ খুব একটা করেন না। কিন্তু আফগানিস্তানের দায়িত্বে শেষ ম্যাচ শেষে তাকে ভিন্ন রূপে দেখা গেল। মাঠে যেমন চোখে পানি ছিল, সংবাদ সম্মেলনেও কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে তার।

'বলেছিলাম যে, ভেঙে পড়ব না…,' বলেন ট্রট। কিছুক্ষণ থেমে আবার কথা বলেন। চেষ্টা করেও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। বিদায়ের বাস্তবতা তাকে ছুঁয়ে যায়।

২০২২ সালের জুলাইয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর ধীরে ধীরে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। পরে চুক্তির মেয়াদও বাড়ানো হয়। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আগেই জানিয়েছিল, বিশ্বকাপ পর্যন্তই থাকবেন এই ইংলিশ কোচ।

তার সময়ে আফগানিস্তান বড় দলগুলোর বিপক্ষে জয় পেয়েছে নিয়মিত। ২০২৩ বিশ্বকাপে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জয়ে তারা সবার নজর কাড়ে। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠাও ছিল বড় অর্জন। দলটির আত্মবিশ্বাস ও মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে তার অধীনে।

শেষ ম্যাচের আগে রশিদ বলেন, 'আফগানিস্তান ক্রিকেট এখন যেখানে আছে, এই কোচই নিয়ে এসেছেন সেখানে।' তবে বিদায়ের পর ট্রট জানান, সিদ্ধান্তটি তার একার নয়, 'চালিয়ে যাওয়া নিয়ে সিদ্ধান্তটি আমার নয়… সবার ভবিষ্যতের জন্যই শুভ কামনা।'

এখন দেশে ফিরবেন ট্রট। ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি। তবে কোচিং চালিয়ে যেতে চান এবং একদিন ইংল্যান্ড দলকে কোচিং করানোর আশা রাখেন বলে জানান ট্রট।

তিনি বলেন, 'ক্যারিয়ারে যেভাবে খেলেছি, তাতে আমি গর্বিত। ইংল্যান্ড দলকে সবসময় ভালো করতে দেখতে চাই। যে দল আমার হৃদয়ের এত কাছে, একদিন আশা করি সেই দলকে কোচিং করানোর সুযোগ পাব।'

'নিশ্চিতভাবেই আরও অনেকেই দায়িত্বটি খুব করে পেতে চাইবে। কাজেই দেখা যাক…। কোচিং করাতে উপভোগ করি আমি এবং এখানেও গত কয়েক বছর উপভোগ করেছি নিশ্চিতভাবেই।'

আরো পড়ুন: