খেলার ধরন ও স্ট্রাইক রেটে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন না বাবর— এমন অভিযোগের জেরেই গত বছর কয়েকটি সিরিজে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে রাখা হয়নি তাকে। জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত রান করলেও স্ট্রাইক রেট নিয়ে লম্বা সময় ধরেই সমালোচনা শুনে আসছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটার। এমনও অভিযোগ আছে যে বাবর দলের জন্য না খেলে নিজের জন্য খেলেন।
এসব সমালোচনার পরও আবার পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে ফেরানো হয় তাকে। যদিও প্রত্যাশা মেটাতে পারছেন না বাবর। চলতি বিশ্বকাপেও হাসছে না তার ব্যাট। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১৫, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৪৬ ও ভারতের বিপক্ষে মাত্র ৫ রান করেছেন। নামিবিয়া ম্যাচে একাদশে থাকলেও ব্যাটিংয়েই নামানো হয়নি তাকে। ভারত ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই তাকে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।
শহীদ আফ্রিদি জানান সুযোগ থাকলে শাহীন শাহ আফ্রিদি ও বাবরকে বাদ দিতেন। ইউসুফ তো শাহীন শাহ আফ্রিদি, বাবর ও শাদাব খানকে অবসরের পরামর্শ দেন। এরপর ‘হাউ ডাজ ইট ওয়ার্ক’ নামের পডকাস্টে বাবরকে নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। সেই অনুষ্ঠানেই পাকিস্তানের কিংবদন্তি সাবেক ব্যাটার জানান, বাবরকে বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়ার কারণেই নির্বাচক হিসেবে চাপে পড়ে গিয়েছিলেন।
এ প্রসঙ্গে ইউসুফ বলেন, ‘আমি দুই-তিন বছর থেকেই বলে আসছি বাবরের টেকনিক শেষ। আমি শুনেছি সে ফর্মে নেই কিন্তু আমার সেটা মনে হয় না। একজন খেলোয়াড় দুই থেকে তিনটি সিরিজ অফ ফর্মে থাকতে পারে এবং সে গত দুই-তিন বছর ধরে রান করছে। আমি যখন বাবরকে বিশ্রামের পরামর্শ দিই ওই মুহুর্তে সবাই হঠাৎ আমার বিরুদ্ধে চলে গেল। এই কারণে আমাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। কিন্তু কয়েক সিরিজ পরই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।’
কয়েক বছর আগে বাবরকে বলা হতো সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটার। ভারতের বিরাট কোহলির সঙ্গে প্রায়শই তুলনা করা হতো তাকে। বাবরই পাকিস্তানের ইতিহাসের সেরা ব্যাটার কিনা এসব নিয়েও অনেকে আলোচনা করেছেন। তবে ইউসুফ মনে করেন, ইনজামাম উল হক, সাঈদ আনোয়ার কিংবা জহির আব্বাসের ধারেকাছে নেই বাবর।
পাকিস্তানের কিংবদন্তি সাবেক ব্যাটার বলেন, ‘ইনজি ভাই (ইনজামাম উল হক) এবং সাঈদ (আনোয়ার) ভাইয়ের লেভেলে তুলনা করা যাবে না। তাদের সঙ্গে তুলনাই হবে না। তারা অনেক বড় খেলোয়াড় ছিল। জহির আব্বাসের কথাও বলতে হবে। এই চারজন খেলোয়াড় ভিন্ন ক্যাটাগরি ও লেভেলের ছিল। তাদের সামনে বাবর কিছুই না।’