‘কেউ ছোটো করে দেখবে না’, এটাই বড় প্রাপ্তি নেপালের

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর নেপাল অধিনায়ক, এএফপি
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর নেপাল অধিনায়ক, এএফপি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
একটি বাউন্ডারির আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো নেপালকে। সেটি এলেই ইতিহাস গড়ার দরজায় পৌঁছে যেত হিমালয়ের দেশটির ক্রিকেট। সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে রীতিমতো চাপে ফেলেও শেষ হাসি হাসতে পারেনি তারা। তবে ফল যাই হোক, লড়াইয়ের ধরনে সন্তুষ্ট নেপাল। বিশেষ করে অধিনায়ক রোহিত পাউডেলের চোখে এই লড়াকু মানসিকতাই বড় প্রাপ্তি।

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ২ উইকেট হারালেও। রোহিত পাউডেল ও দীপেন্দ্র সিং আইরির জুটিতে সম্ভাবনার ভিত তৈরি হয়। দুজনের ব্যাটে এগোতে থাকা ইনিংস হঠাৎ ছন্দ হারালেও, শেষদিকে লোকেশ বামের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে আবার জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দলটি।

শেষ তিন ওভারে যখন প্রয়োজন ৪৬ রান, তখন জোফরা আর্চারদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ম্যাচে নতুন উত্তেজনা ফেরান লোকেশ। কিন্তু শেষ ওভারে অভিজ্ঞ স্যাম কারানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে থেমে যায় সেই দৌড়। পুরো ম্যাচজুড়েই নেপাল খেলেছে পরিকল্পনা মেনে। রান তাড়ার সময় উইকেট ধরে রেখে ধীরে ধীরে চাপ বাড়ানোর কৌশল নেয় তারা।

দলের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে রোহিত বলেন, ‘ফলাফলের দিক থেকে এটি আমাদের পক্ষে আসেনি, কিন্তু চেষ্টার কথা বললে—ফিল্ডিং, বোলিং এবং ব্যাটিং সব বিভাগেই আমি দলকে ১০০ ভাগ নম্বর দেব। ইংল্যান্ডও ডেথ ওভারে বোলিং নিয়ে ভুগছিল, কিন্তু স্যাম কারান সত্যিই খুব ভালো বল করেছে। ডেথ ওভারে বোলারদের জন্য ইয়র্কার আর স্লোয়ার বাউন্সার দেওয়া বেশ কঠিন। তবে আমি মনে করি, আমরা এখান থেকে আরও উন্নতি করব।’

শেষ দিকের ওভারগুলোতে প্রতি ওভারে দুই অঙ্কের রান তোলার লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট। সেই ভাবনাতেই ব্যাটিং সাজানো হয়েছিল, যা এক সময় ইংল্যান্ডকে অস্বস্তিতেও ফেলে। স্পিন আক্রমণেও ভয় না পাওয়ার মানসিকতা দেখিয়েছে নেপাল। ইংল্যান্ডের অন্যতম ভরসার নাম আদিল রশিদকে শুরু থেকেই চাপে রাখে তারা। কোনো নির্দিষ্ট ছক কষা পরিকল্পনা না থাকলেও ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে আক্রমণাত্মক পথেই হাঁটে নেপাল, যার ফলও পায় রানের গতিতে।

নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে নেপাল অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা শেষ পাঁচ ওভারের হিসেব কষছিলাম। লক্ষ্য ছিল হাতে উইকেট রাখা এবং ওভারপ্রতি অন্তত ১০ বা ১২ রান তোলা। আমরা সেটি নিয়েই আলোচনা করছিলাম এবং প্রতি ওভারের প্রথম দুই বলে বাউন্ডারি মারার পরিকল্পনা ছিল আমাদের।’

রশিদের নিয়ে আলাদা কোনো পরিকল্পনা ছিল না বলে জানান রোহিত। তিনি যোগ করেন, ‘আদিল রশিদকে আক্রমণ করার কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না, কিন্তু খেলার পরিস্থিতি অনুযায়ী সেটি হয়ে গেছে। দল হিসেবে আমরা ভেবেছিলাম যে আজ তাকে আক্রমণ করা যেতে পারে এবং সেটি আমাদের জন্য ইতিবাচক হয়েছে।’

এই পারফরম্যান্সের পর নেপালকে আর কেবল ‘ছোট দল’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই—এমন বার্তাই দিয়ে গেছে ওয়াংখেড়ের এই ম্যাচ। টুর্নামেন্টে নিজেদের পরিচয় নতুন করে গড়ে তুলতে চায় দলটি। প্রতিপক্ষ যেই হোক, সমীহ আদায় করে নেওয়ার মতো ক্রিকেট খেলাই লক্ষ্য।

এই লক্ষ্য নিয়ে রোহিত বলেন, ‘আমরা কোনো দলকেই হালকাভাবে নেব না। একইভাবে টুর্নামেন্টের অন্য দলগুলোও আমাদের ছোট করে দেখবে না। এটাই মূল বার্তা—দল হিসেবে আমাদের সব সময় ১০০ ভাগ উজাড় করে দিতে হবে।’

আরো পড়ুন: