গত ১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক ঘোষণায় জানানো হয়, ২০২৬ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হলেও ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচে পাকিস্তান দল মাঠে নামবে না। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই আইসিসি ও পিসিবির মধ্যে যোগাযোগ বাড়ে এবং সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
পিটিআইকে পিসিবির একটি সূত্র জানায়, 'পাকিস্তান যদি ভারতের বিপক্ষে খেলতে না নামে, তাহলে শুধু আর্থিক জরিমানা বা সম্প্রচারকদের মামলার ঝুঁকিই নয়, আইসিসির ডিসপিউট রেজোল্যুশন কমিটিতে (ডিআরসি) কোনো আপিলও ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।'
প্রতিবেদনে বলা হয়, আইসিসি চাইলে পিসিবির বার্ষিক রাজস্বের পুরো অংশ আটকে রাখতে পারে, যার পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। ডিআরসি প্রসঙ্গে একই সূত্র আরও বলেন, 'এটি আইসিসির একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি, যারা বোর্ডের নেয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আপিল শোনে না।'
ফলে আইনি লড়াইয়ে পিসিবির অবস্থান দুর্বল হতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। পিসিবির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা আরেকটি সূত্র জানায়, 'ভারতের বিপক্ষে না খেলার বিষয়ে সরকারের নির্দেশ থাকলেও পিসিবি সমস্যায় পড়তে পারে। কারণ, তারা নিজেদের ইচ্ছাতেই সব ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলছে, ভারতে নয়।'
একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়, ভারত সরকার পাকিস্তানে খেলতে অনুমতি না দিলেও নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ খেলতে কখনো আপত্তি করেনি। আইসিসির সঙ্গে সম্প্রচারকদের চুক্তির বিষয়টি তুলে ধরে সূত্রটি বলে, 'আইসিসি যখন চার বছরের জন্য সম্প্রচারকদের সঙ্গে চুক্তি করেছিল, সেখানে পাকিস্তান–ভারত ম্যাচও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই ভিত্তিতেই সম্প্রচারকরা অর্থ দিয়েছে। ফলে চুক্তি ভঙ্গ হলে পিসিবি ও আইসিসির বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার আইনি অধিকার তাদের রয়েছে।'
পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তের পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় আইসিসি জানায়, তারা সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তকে সম্মান করে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, 'এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য যেমন ভালো হবে না, তেমনি পাকিস্তানসহ সারা বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের জন্যও হতাশাজনক। আইসিসি আশা করে, পিসিবি এই সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করবে, কারণ এটি বৈশ্বিক ক্রিকেট ইকোসিস্টেমকে প্রভাবিত করতে পারে।'