একটি অনুষ্ঠানে ধারাভাষ্যকার যতীন সাপ্রুর প্রশ্নের জবাবে শুরুতে রসিকতা করে বিষয়টি এড়িয়ে যান ধোনি। তবে পরে ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ সামনে রেখে তিনি স্পষ্ট ভাষায় নিজের মত তুলে ধরেন।
ধোনি বলেন, 'কেন নয়? বলুন তো, কেন কেউ পরের বিশ্বকাপ খেলতে পারবে না? আমার কাছে বয়স কোনো মানদণ্ডই না। পারফরম্যান্স আর ফিটনেস—এই দুটোই আসল। সবাইকে একইভাবে বিচার করা উচিত। আমার যখন অভিষেক হয়েছে, তখন আমার বয়স ছিল ২৪। তখন কেউ এসে আমাকে বয়স নিয়ে কিছু বলেনি। এখন আমি এক বছর খেলি, দশ বছর খেলি বা বিশ বছর খেলি- বয়স নিয়ে কাউকে এসে কিছু বলার দরকার নেই।'
ফিটনেসের গুরুত্ব আলাদা করে তুলে ধরে ভারতের সাবেক অধিনায়ক বলেন, 'বয়স কি কোনো বিষয়? না। ফিটনেস কি বিষয়? অবশ্যই। ২২ বছর বয়স হলেও যদি কেউ ফিট না থাকে, তাহলে তার খেলার কথা নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে হলে নির্দিষ্ট মানদণ্ড মানতেই হবে। কেউ ত্রিশে পা দিল বলেই সে পরের বিশ্বকাপ খেলতে পারবে না- এটা আমাদের ঠিক করার বিষয় নয়। সিদ্ধান্তটা তাদেরই। তারা যদি পারফর্ম করে এবং দেশের জন্য খেলতে চায়, তাহলে কেন নয়?'
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা বলেন ধোনি। তার ভাষায়, 'অভিজ্ঞ খেলোয়াড় কীভাবে পাওয়া যায়? ২০ বছরের কাউকে আপনি অভিজ্ঞ বলতে পারেন না, শচিন টেন্ডুলকার ছাড়া। অভিজ্ঞতা আসে চাপের মধ্যে দিয়ে। বিশেষ করে শেষ দিকে ব্যাটিং করা বা ডেথ ওভারে বোলিং করা খেলোয়াড়দের জন্য এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।'
সবশেষে বয়সভিত্তিক বৈষম্যের বিপক্ষে নিজের অবস্থান আবারও পরিষ্কার করেন ধোনি। তিনি বলেন, '৩৫ বছর বয়সী কেউ যদি ফিট থাকে, তাহলে ৩৫ কোনো ব্যাপার না। ২৪ আর ৩৫- দুজনের ক্ষেত্রেই পারফরম্যান্স সমান গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকে সমানভাবে বিচার করতে হবে। একটাই মানদণ্ড- যদি পারফর্ম করে এবং ফিট থাকে, তাহলে খেলবে।'