মুস্তাফিজকে বাদ দেয়া বাংলাদেশের অনুভূতিতে আঘাত করেছে: রশিদ লতিফ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
মুস্তাফিজুর রহমান ও রশিদ লতিফ, ফাইল ফটো
মুস্তাফিজুর রহমান ও রশিদ লতিফ, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জন না করলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কট করেছে পাকিস্তান। আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসলেও মূলত বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়ার কারণেই এমন প্রতিবাদী সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

কিছুদিন আগে আইপিএল থেকে বাদ দেয়া হয় মুস্তাফিজুর রহমানকে। আইপিএল নিলামে চড়া দাম পেলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে বাদ দেয় বিসিসিআই। এরপর বাংলাদেশও জানিয়ে দেয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে রাজি নয় তারা।

বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে বিসিবি। যদিও অনেক জলঘোলা হওয়ার পর শেষপর্যন্ত বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয় আইসিসি। বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে নেয় সংস্থাটি।

আর এর কদিন পরই পাকিস্তান জানিয়ে দেয় তাদের সিদ্ধান্ত। বিশ্বকাপ খেললেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলবে না পাকিস্তান। এসবের পেছনে অবশ্য ভারতের দায়ই বেশি দেখছেন পাকিস্তানের সাবেক উইকেটরক্ষক রশিদ লতিফ।

তিনি বলেন, 'আমার মনে হয়, মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়াই শেষ পেরেক ছিল। আমি মানি, আইপিএল তাদের টুর্নামেন্ট, কিন্তু তারা বিশ্বকাপের পরও এই সিদ্ধান্ত নিতে পারত। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং তাদের বোর্ড মনে করেছে বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে।'

'বাংলাদেশের দাবি ছিল একদম যৌক্তিক। ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধের কথা বলছি। এর আগে আইসিসিই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল, যখন নিরাপত্তাজনিত কারণে পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচ দুবাইয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।'

পিসিবি বাংলাদেশ ক্রিকেটের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনায় বেশ আনন্দিত রশিদ। আইসিসির ওপর সতর্কবার্তা দেন পাকিস্তানের সাবেক এই ক্রিকেটার।

তিনি আরো বলেন, 'পিসিবি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে—এটা ভালো। তাই পাকিস্তান সরকার হস্তক্ষেপ করে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমি অবাক হইনি। আইসিসিকে খুব সতর্ক হতে হবে। তাদের অর্থনীতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ওপর নির্ভরশীল।'

'বিসিসিআইয়ের আইপিএল আছে, কিন্তু আইসিসি টিকে থাকে বিশ্বকাপ আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ওপর। পাকিস্তান বা বাংলাদেশ ছাড়া টুর্নামেন্ট তারা বহন করতে পারবে না। দুই দেশ মিলিয়ে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মানুষ ক্রিকেটে বাঁচে। তাদের ছাড়া এটা আইসিসির জন্য যেমন বড় ক্ষতি, তেমনি খেলাটার জন্যও।'

আরো পড়ুন: