সম্প্রতি বিশ্বকাপ বয়কটের গুঞ্জনের পর গত ১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার দলকে টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার অনুমতি দেয়। তবে গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামবে না তারা। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্রিকেট বিশ্বে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
ঘোলাটে পরিস্থিতিতে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে কথা বলেন হরভজন। তার মতে, বাংলাদেশের পাশে থাকার অজুহাতে বিষয়টিকে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করছে পাকিস্তান।
তিনি বলেন, 'এই সিদ্ধান্ত থেকে কী লাভ হবে (পাকিস্তানের)? এটা শুধু দম্ভ দেখানোর জন্য। যদি সত্যিই তারা মনে করে, এরকম কিছু করতে পারবে, তাহলে অনড় থাকুক। দেখা যাক, সত্যিই সাহস আছে কিনা।'
'এটা একটা সম্পূর্ণ নাটক যা মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, এটা বোঝাতে যে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে আছে। এতে কোন সমস্যা নেই, কিন্তু তাদের দেশের মানুষ যারা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি দেখতে চায়, তাদের সম্পর্কে কী ভেবেছে তারা?'
এই বিতর্কের সূত্রপাত গত মাসের শুরুতে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর চাপে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয় বিসিসিআই। এরপর নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের দাবির পক্ষে আইসিসির সভায় একমাত্র ভোট দেয় পাকিস্তান। সে সময় আইসিসির দ্বিচারিতার অভিযোগও তোলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তবে হরভজনের মতে, এখানে বাংলাদেশের ইস্যুতে পাকিস্তানের নিজেদের জড়িয়ে ফেলার কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, 'এই ম্যাচটি একটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার কথা ছিল, আর তাদের সাথে কোনো সমস্যা ছিল না। সম্প্রতি যখন যুদ্ধ হয়েছিল, তখনও তারা এশিয়া কাপে খেলেছিল। ট্রফি নিয়ে নাটকীয়তা ছিল, তবে ম্যাচগুলো হয়েছিল, কারণ তারা সেই রাজস্ব ছেড়ে দিতে প্রস্তুত ছিল না।'
'তোমরা যদি এত দেশপ্রেমিক হও, তখন তোমাদের দেশপ্রেম কোথায় ছিল? তাহলে তো বলতে হয়, নিজ দেশের প্রতি তোমাদের কোনো অনুভূতি ছিল না, কিন্তু এখন অন্য কোনো দেশের পাশে দাঁড়াতে চাইছ।'
সবশেষে বিদ্রুপ করে হরভজন আরো বলেন, 'বাংলাদেশ কি অস্ট্রেলিয়া যে না এলে বিশ্বকাপ বন্ধ হয়ে যাবে বাংলাদেশকে তো ভারত বলেনি তোমরা বিশ্বকাপ খেলতে এসো না, সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। এখানে পাকিস্তানের কি কাজ? পাকিস্তান কেন আসছে মাঝখানে? বাংলাদেশ-পাকিস্তান দুই দলকেই আইসিসির বলা উচিত তোমাদের খেলার দরকার নেই '
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। একই গ্রুপে রয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি হওয়ার কথা ১৫ ফেব্রুয়ারি। এদিকে বাংলাদেশের বদলে এবারের বিশ্বকাপে খেলবে স্কটল্যান্ড।