প্রায় আড়াই বছর ধরে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভারতের জার্সিতে দেখা যাচ্ছে না শ্রেয়াস আইয়ারকে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০ ওভারের ম্যাচ খেলেছিলেন। এই ইনফর্ম ব্যাটারকে না খেলানোতে ভারতেরই ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভারতের সাবেক স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
চলতি আইপিএলে ব্যাট হাতে দারুণ ফর্মে আছেন আইয়ার। ৫ ইনিংসেই ৫২ গড়ে করেছেন ২০৮ রান। এমন ফর্মের পর আইয়ারকে ভারতীয় দলে ফেরানোর দাবি তুলেছেন অনেকে। এর আগের আইপিএলগুলোতেও আইয়ারের পারফরম্যান্স ছিল দারুণ। বিশেষ করে ২০২৫ আইপিএলে পাঞ্জাব কিংসকে ফাইনালে তুলতে বড় অবদান ছিল এই টপ অর্ডার ব্যাটারের।
সেই আসরে অধিনায়ক হিসেবে ১৭ ইনিংসে ৬০৪ রান করেছিলেন তিনি, স্ট্রাইক রেট ছিল ১৭৫.০৭, সঙ্গে ছিল ছয়টি অর্ধশতক। তবে তাতেও মন ভরেনি ভারতের নির্বাচকদের। আইয়ারকে ছাড়াই ভারত ২০২৪ ও ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে। ফলে ভারতের টি-টোয়েন্টি আঙিনায় জায়গা পাওয়া আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি ইএসপিএন ক্রিকইনফোতে হাজির হয়েছিলেন অশ্বিন। সেখানে তিনি বলেন, 'আমি শুধু একটা কথাই বলতে চাই। এখন যদি সে সর্বোচ্চ সম্মান (জাতীয় দলে জায়গা) না পায়, তবে সেটা আর তার ক্ষতি নয়। আমাদেরই ক্ষতি, কারণ পাঞ্জাব কিংসের হয়ে সে যা করছে সেটা ভারতীয় দলের জার্সিতে দেখতে পাচ্ছি না।'
এরপর দল নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়েও আঙুল তুলে তিনি বলেন, 'আমি এটাকে (দল নির্বাচন) একটু ভিন্নভাবে দেখি। যখন কাউকে দলে নিতে হবে, নামটি লিখে ফেলুন। কেবল ১৫ জনকে নির্বাচন করতে হবে। সম্ভাব্য সেরা ১৫ জনের নাম লিখে ফেলুন। কে বাদ পড়ল সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার দরকার নেই। ইয়াশাসভি জয়সওয়ালের কথা সব সময় বলি- ছেলেটি ভয়ঙ্কর। তার রান ক্ষুধা অনেক। এটা আসলে নানাভাবে ভারতীয় ক্রিকেটের সমৃদ্ধিকে ফুটিয়ে তোলে।'
আইয়ারকে রেখেই ভারতের দল সাজানোর পরামর্শ দিয়েছেন অশ্বিন। এর ফলে যে কেউ বাদ পড়তে পারেন তাতে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই অশ্বিনের। তিনি যোগ করেন, 'আইয়ার কি ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের তালিকায় জায়গা পাওয়ার মতো যথেষ্ট যোগ্য? অবশ্যই হ্যাঁ। তাই তালিকায় তার নাম রাখুন এবং কাকে বাদ দিচ্ছেন সেটা না ভেবে বরং স্ট্যান্ডবাই হিসেবে কারা থাকবে তাদের নাম ঠিক করুন।'