তানজিদের সেই সেঞ্চুরিতে ১৭৪ রানের পুঁজি পায় রাজশাহী। লক্ষ্য তাড়ায় নিয়মিত বিরতিতে উইকেটে হারাতে থাকে চট্টগ্রাম। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই বন্দর নগরীর দলটাকে চেপে ধরেন বিনুরা ফার্নান্দো। পরবর্তীতে টপাটপ উইকেট নিয়েছেন হাসান মুরাদ। শেষটাও দারুণ করেছেন বিনুরা। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ফাইনালে রানের বেশি করতে পারেনি চট্টগ্রাম। শেখ মেহেদীর দলকে ৬৩ রানে হারিয়ে বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন শিরোপা জিতল নাজমুল হোসেন শান্ত-মুশফিকুর রহিমদের রাজশাহী।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জয়ের জন্য ১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি চট্টগ্রামের। সাবধানী ব্যাটিং করলেও ইনিংসের তৃতীয় ওভারে নাইম শেখের উইকেট হারায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। বিনুরার অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন নাইম। ১০ বলে মাত্র ৯ রান করেছেন বাঁহাতি ওপেনার। তিনে নেমে দ্রুতই ফিরে গেছেন মাহমুদুল হাসান জয়। নিজের দ্বিতীয় বলেই তানজিদের ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রানের খাতা খোলার আগেই।
এক ওভারে দুই উইকেট হারানোর পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেন মির্জা ও হাসান নাওয়াজ। পাওয়ার প্লে শেষের আগে নাওয়াজকে ফেরান হাসান মুরাদ। বাঁহাতি স্পিনারের বলে ছক্কা মারার চেষ্টায় এসএম মেহেরবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১১ রানে। পাঁচে নেমে তাহিরকে সঙ্গ দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন জাহিদুজ্জামান সাগর। তবে ১৩ বলে ১১ রানের বেশি করতে পারেননি বাঁহাতি উইকেটকিপার ব্যাটার। টিকতে পারেননি মেহেদীও। মুরাদের বলে স্কয়ার লেগে তানজিমকে ক্যাচ দিয়েছেন চট্টগ্রামের অধিনায়ক।
দুই পাকিস্তানি তাহির ও আসিফ আলীর কাঁধে ছিল চট্টগ্রামকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব। তবে তারা দুজনে জুটি বড় করতে পারেননি। মুরাদের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলার চেষ্টায় স্টাম্পিং হয়েছেন তাহির। ৩৬ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন ডানহাতি ওপেনার। দ্রুতই ফিরেছেন আমের জামালও। ২১ রান করা আসিফ ফিরলে জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় চট্টগ্রামের। শেষ পর্যন্ত ১১১ রানে অল আউট হয় তারা। রাজশাহীর হয়ে বিনুরা চারটি ও মুরাদ তিনটি উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই দেখেশুনে খেলতে থাকেন সাহিবজাদা ও তানজিদ। দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেননি দুজনের কেউই। তবে পাওয়ার প্লে শেষে হাতখুলে খেলতে থাকেন তারা। ইনিংসের সপ্তম ওভারে মেহেদীকে টানা দুই ছক্কা মেরে আক্রমণাত্বক হয়ে ওঠার আভাস দেন তানজিদ। নবম ওভারে তাহিরকেও দুইটি ছক্কা মেরেছেন বাঁহাতি ওপেনার। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। তাদের দুজনের জমে ওঠা ৮৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ।
ডানহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে বড় শট খেলতে চেয়েছিলেন সাহিবজাদা। বড় শট খেললেও ব্যাট হাত থেকে খসে যাওয়ায় ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েছেন ৩০ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলে। পঞ্চম ছোঁয়ার পর একটু ধীরগতির ব্যাটিং করেন তানজিদ। তিনে নামা কেন উইলিয়ামসনও দ্রুত রান তুলতে পারেননি। তবে চট্টগ্রাম উইকেট নিতে পারছিল না। ইনিংসের ১৬তম ওভারে তাদের জুটি ভাঙেন শরিফুল। বাঁহাতি পেসারের তৃতীয় বলেই ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মেরেছিলেন উইলিয়ামসন।
চতুর্থ বলটা বাঁহাতি পেসার করেছিলেন অফ স্টাম্পের অনেকটা বাইরে। লং অফের উপর দিয়ে খেলার চেষ্টায় নাইমের হাতে ক্যাট দেন ১৫ বলে ২৪ রান করা নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক। শেষের দিকে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তানজিদ। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৬১ বলে সেঞ্চুরি করেন তিনি। বিপিএলের ইতিহাসে তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ফাইনালে সেঞ্চুরি করেন বাংলাদেশের ওপেনার। এর আগে ২০১৭ সালে রংপুর রাইডার্সের জার্সিতে ক্রিস গেইল ও ২০১৯ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম ইকবাল।
এ ছাড়া বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে বিপিএলে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক এখন তানজিদ। তিনটি সেঞ্চুরি নিয়ে পেছনে ফেলেছেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয় ও তামিমকে। তাদের তিনজনেরই দুইটি করে সেঞ্চুরি আছে। বিপিএলে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির তালিকায় দুইয়ে উঠে এসেছেন তানজিদ। ৫ সেঞ্চুরি নিয়ে বাঁহাতি ওপেনারের উপরে আছেন কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজের গেইল। সেঞ্চুরির পর অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। মুগ্ধর বলে ক্যাচ আউট হয়েছেন ৬২ বলে ১০০ রানের ইনিংস খেলে।
রাজশাহীর হয়ে শেষের দিকে অধিনায়ক শান্ত ৭ বলে ১১ এবং নিশাম করেছেন ৬ বলে ৭ রান। তানজিদের সেঞ্চুরিতে ১৭৪ রানের পুঁজি পেয়েছে রাজশাহী। এদিকে ইনিংসের শেষ বলে শান্তকে ফিরিয়ে তাসকিন আহমেদকে ছাড়িয়ে বিপিএলে এক আসরে সর্বোচ্চ ২৬ উইকেটের মালিক হয়েছেন শরিফুল। বিপিএলের সবশেষ আসরে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে ১২ ম্যাচে ২৫ উইকেট নিয়েছিলেন তাসকিন। চলতি আসরে সমান ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে সবার উপরে উঠে গেছেন শরিফুল।