নাহিদ ও শরিফুল ইসলামের ইনজুরির কারণে ছুটি বাতিল করে দলে যোগ করা হয় ইবাদতকে। দ্বিতীয় টেস্টের আগে শরিফুল ফিট হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকায় তার একাদশে ঢোকা নিশ্চিতই হবার কথা ছিল। কিন্তু ডারউইন টেস্ট জয়ে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ইবাদত। প্রথম ইনিংসে নেন মার্নাস লাবুশেন ও অ্যালেক্স ক্যারির গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। স্লিপে ক্যাচ না পড়লে পেতে পারতেন স্টিভেন স্মিথের উইকেটও। অন্যদিকে ম্যাচসেরা হাসানের সাথে অজিদের ওপর ছরি ঘুরিয়েছেন আরেক পেসার তাসকিনও।
দ্বিতীয় টেস্টে পূর্ণ ফিট শরিফুলকে পাওয়া গেলেও তাই তাকে একাদশে ফেরানোর ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত নন সিমন্স। এছাড়াও ম্যাকায়ের উইকেট বিবেচনায় ৪ পেসারের ভাবনাতেও যেতে পারে বাংলাদেশ, এমন আলোচনাও আছে। তবে, ম্যাচের আগের দিন উইকেট দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান এই ক্যারিবিয়ান কোচ।
ম্যাকায়তে অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স জানান, ম্যাচের একাদশ চূড়ান্ত করা হবে টেস্ট শুরুর আগের দিন। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় ম্যাচের একাদশ আমরা কাল ঠিক করব। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’
শরিফুলকে একাদশে যুক্ত করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সিমন্স বলেন, ‘শরিফুল অবশ্যই ভিন্ন কিছু যোগ করে দলে। কিন্তু আমরা মাত্রই একটি টেস্ট জিতেছি, আর আমি সাধারণত জয়ী একাদশ পরিবর্তন করতে পছন্দ করি না।'
প্রথম টেস্টে হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে শরিফুল খেলতে পারেননি। দ্বিতীয় টেস্টের আগে ফিট হয়ে দলের সঙ্গে অনুশীলন করছেন বাঁহাতি এই পেসার। দলে পর্যাপ্ত বিকল্প থাকায় অবশ্য পেস বোলিং বিভাগ নিয়ে নির্ভার সিমন্স।
সিমন্স বলেন, ‘আমাদের এখানে আরও ফাস্ট বোলার আছে। আমাদের পাঁচজন ফাস্ট বোলার সবসময় ছিল। তাই পছন্দের সুযোগ সবসময়ই ছিল। গত ম্যাচে আমরা তিনজনকে নিয়েছি। কাল এই ম্যাচের জন্য সিদ্ধান্ত নেব।'
এদিকে দ্বিতীয় টেস্টের উইকেট দেখে বেশ ভালো মনে হয়েছে বাংলাদেশের প্রধান কোচের। ম্যাকায়ের পিচে ঘাসের আস্তরণ থাকলেও সেটিকে ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো উইকেট হিসেবে দেখছেন তিনি।
সিমন্স বলেন, ‘পিচ বেশ ভালো মনে হচ্ছে। ঘাসের সুন্দর আস্তরণ আছে এবং পিচ শক্ত। এটি একটি চমৎকার টেস্ট উইকেট। প্রতিটি উইকেটই ব্যাটারদের জন্য ভালো, তবে আপনি সেখানে কীভাবে ব্যাটিং করছেন সেটাই আসল।'
প্রথম টেস্টে নয় উইকেটের বড় জয় পেলেও বাংলাদেশ অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার পাল্টা আক্রমণের ব্যাপারে সতর্ক আছে। স্বাগতিকরা ডারউইনের পরাজয়ের জবাব দিতে মরিয়া হয়ে নামবে,এমনটাই মনে করছেন সিমন্স। প্রথম টেস্টের পর অস্ট্রেলিয়ার একাদশে একাধিক পরিবর্তনের কথাও ভাবা হচ্ছে। ঘোষিত ১৩ সদস্যের দলের বাইরে থেকে দলে যোগ করা হয়েছে ম্যাট রেনশকে।
সিমন্স বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া আরও শক্তভাবে ফিরে আসবে। তাই আমাদের হয় পারফরম্যান্স ধরে রাখতে হবে অথবা আরও কিছুটা ভালো করতে হবে। এমনকি কিছু কিছু জায়গায় যদি আমরা ১ শতাংশ উন্নতি করতে পারি, তবে সেটাই নিশ্চিত করতে হবে। আমরা জানি তারা তাদের খেলার ধরন বদলে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে।'