ব্যাটে-বলে নৈপুণ্যে সিরিজে সমতা বাংলাদেশের

জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশ সিরিজ
বাংলাদেশ দল
বাংলাদেশ দল
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে হারের পর প্রথম টি-টোয়েন্টি হেরে চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। যদিও দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দাপুটে জয়ে সিরিজ জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। এদিন আগে ব্যাট করে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসানের জোড়া হাফ সেঞ্চুরির সঙ্গে শেষ দিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ঝড়ো ইনিংসে ১৮৬ রান তোলে বাংলাদেশ। এরপর রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদীর নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়েকে ১৫২ রানে গুটিয়ে ৩৪ রানের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশের স্পিনারদের তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। প্রথম ওভারেই শেখ মেহেদী আউট করেন ৪ রান করা তাদিওনাশে মারুমানিকে। দ্বিতীয় ওভারে আরেক ওপেনার ব্রায়ান বেনেটকে বোল্ড করে দেন নাহিদ রানা। ফিরতি ওভারে ডিওন মেয়ার্সকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়েকে চেপে ধরেন মেহেদী।

চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ও মিল্টন শুম্বা বলে ৪৪ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন। তবে রাজাকে ফিরিয়ে আবারও স্বাগতিকদের ধাক্কা দেন রিশাদ হোসেন। ফিরতি ওভারে এসে শুম্বাকেও আউট করেন রিশাদ। এরমধ্যে রাজা ১২ বলে ২৮ ও শুম্বা অরেন ২০ বলে ১৯ রান। এরপর একপ্রান্ত আগলে রেখে রায়ান বার্ল ১৯ বলে ২৯ রান করেছেন।

শেষদিকে ঝড়ো ব্যাটিং করে জিম্বাবুয়েকে লক্ষ্যের অনেক কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন ব্র্যাড ইভান্স। তিনি ১৪ বলে ২৫ রান করে সাইফুদ্দিনের শিকার হন। এরপর আর বেশিদূর এগোতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। মুজারাবানিকে বোল্ড করে জিম্বাবুয়ের ইনিংস ১৫২ রানে গুটিয়ে দেন রিশাদ। ৪ উইকেট নিয়ে রিশাদই বাংলাদেশের সেরা বোলার। পাশাপাশি মেহেদী নেন ৩ উইকেট নেন। ৩টি উইকেট নিয়েছেন রিশাদও। পাশাপাশি সাইফউদ্দিন, নাহিদ ও সাইফ হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে সাবধানী ব্যাটিং করতে থাকেন সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। যদিও পাওয়ার প্লেতে আউট হতে পারতেন সাইফ। তিনবার ক্যাচ তুলে দিলেও সেসব লুফে নিতে পারেননি জিম্বাবুয়ের ফিল্ডাররা। জীবন পেয়ে সেটা কাজেও লাগিয়েছেন তিনি। পুরো সিরিজ জুড়ে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভুগতে থাকা বাংলাদেশ পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৫৪ রান তোলে। পাওয়ার প্লে শেষেও চেনা ছন্দে ব্যাটিং করতে থাকেন তারা দুজন।

ব্র্যাড ইভান্সকে ফাইন লেগ দিয়ে চার মেরে ৩৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন তানজিদ। একটু পর পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন সাইফও। বার্লের বলে ডিপ এক্সট্রা কভার দিয়ে চার মেরে ৪২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ডানহাতি এই ওপেনার। হাফ সেঞ্চুরি করেই অবশ্য ফিরেছেন তিনি। রাজার বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন সাইফ। পাঁচবার জীবন পাওয়া ডানহাতি ব্যাটার আউট হয়েছেন ৪৫ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলে। তার বিদায়ে ভাঙে তানজিদের সঙ্গে ১২০ রানের উদ্বোধনী জুটি।

সাইফ আউট হওয়ায় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে লিটন দাস ও রনি তালুকদারের ১২৪ রানের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড ভাঙতে পারেননি তারা। পরের ওভারে আউট হয়েছেন তানজিদও। রিচার্ড এনগারাভার বলে বোল্ড হয়েছেন ৫৮ রানের ইনিংস খেলা বাঁহাতি ওপেনার। ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারেননি হৃদয়, ইমন ও সোহান। ২১ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। শেষের দিকে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সাইফউদ্দিন ১০ বলে ৩১ ও ইয়াসির রাব্বি ১২ বলে ২২ রান করলে ১৮৬ রানের পুঁজি পায় সফরকারীরা।

আরো পড়ুন: