পেশাদার ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন ডেনলি

ইংল্যান্ড ক্রিকেট
জো ডেনলি
জো ডেনলি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার জো ডেনলি। এই মৌসুমের পর আর পেশাদার ক্রিকেটে খেলবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। ২০০৪ সালে কেন্টের হয়ে অভিষেক হয়েছিল ডেনলির। ২০০৭ সালে এজবাস্টনে টোয়েন্টি টোয়েন্টি কাপ জয়ে কেন্টের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মিডলসেক্সে খেলার পর পুরনো দল কেন্টে ফিরে আসেন ডেনলি। ২০২১ সালে ভাইটালিটি ব্লাস্টের ফাইনালে সমারসেটের বিপক্ষে ৩১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলকে শিরোপা জেতাতে অবদান রাখেন। এরপর ২০২২ সালে অধিনায়ক হিসেবে ল্যাঙ্কাশায়ারকে হারিয়ে কেন্টকে ওয়ান ডে কাপের শিরোপাও এনে দেন।

ইংল্যান্ডের হয়ে ডেনলির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ছিল দুই ভিন্ন অধ্যায়ের। ২০০৯ সালে ওয়ানডে দিয়ে জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম বলেই উইকেট নেয়া অল্প কয়েকজন ক্রিকেটারের একজন তিনি। একই বছর সাউথ আফ্রিকায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে ওঠা ইংল্যান্ড দলেরও সদস্য ছিলেন।

তবে ২০১০ সালের শুরুতেই ইংল্যান্ড দল থেকে বাদ পড়েন ডেনলি। এরপর দীর্ঘ আট বছর আর জাতীয় দলে সুযোগ পাননি। এই সময়ে ইংল্যান্ডের ৩৮৪টি ম্যাচ মিস করতে হয়েছে তাকে। ২০১৮ সালে দলে ফেরেন তিনি। পরে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের বিশেষজ্ঞ তিন নম্বর ব্যাটার হিসেবে নিজের নাম খোঁদাই করেন তিনি।

১৫টি টেস্টে সাড়ে ১৯ গড়ে রান করলেও দলের পরিবর্তনের সময়ে বেশ কয়েকটি মূল্যবান ইনিংস খেলেছেন। ২০১৯ সালে হেডিংলিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ টেস্টে বেন স্টোকসের অবিস্মরণীয় সেঞ্চুরির ম্যাচে করেন একটি অর্ধশতক। একই বছর ওভালে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে ৯৪ রানের ইনিংস খেলেন, যা ছিল তার টেস্ট ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর। এরপর আবারও কাউন্টিতে মনোযোগ দেন তিনি।

কেন্টের হয়ে তিন সংস্করণেই সেঞ্চুরি করা মাত্র সাতজন ব্যাটারের একজন ডেনলি। কেন্টের প্রকাশিত বিবৃতিতে ডেনলি বলেছেন, ‘পেশাদার ক্রিকেটে অসাধারণ এক যাত্রার পর ২০২৬ মৌসুম শেষে খেলা থেকে অবসরের ঘোষণা দেয়ার সময় এসেছে। ক্রিকেট আমাকে এমন অনেক কিছু দিয়েছে, যা আমি কখনো কল্পনাও করিনি। কেন্টের হয়ে অভিষেক থেকে শুরু করে ইংল্যান্ডের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা, প্রতিটি মুহূর্তই ছিল আমার জন্য বিশেষ সম্মানের।’

তিনি আরও বলেন, ‘অসাধারণ সব সতীর্থ, কোচ ও সাপোর্ট স্টাফের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। দর্শকদের সমর্থনও আমার কাছে অনেক মূল্যবান। কেন্টের প্রতিনিধিত্ব করা সব সময়ই আমার জন্য গর্বের বিষয় ছিল। এই ক্লাব সব সময়ই আমার দ্বিতীয় বাড়ি হয়ে থাকবে। এখানে পাওয়া সুযোগ, বন্ধুত্ব আর স্মৃতির জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’