২০২৭ বিশ্বকাপের ফরম্যাট নিয়ে ডব্লিউসিএর উদ্বেগ

২০২৭ বিশ্বকাপ
আইসিসি
আইসিসি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফরম্যাটে পরিবর্তন এনেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি)। এই আকস্মিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)। শুক্রবার স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় আইসিসির বার্ষিক সম্মেলনের পর এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, এই সিদ্ধান্ত স্বচ্ছতা, অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শ এবং বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের বিকাশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সাউথ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় ২০২৭ বিশ্বকাপে ১৪ দলের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে। তবে আগের ঘোষিত দুই গ্রুপে সাতটি করে দলের পরিবর্তে নতুন তিন ধাপের ফরম্যাট চালু করেছে আইসিসি। নতুন কাঠামোয় সবচেয়ে নিচের র‌্যাঙ্কিংয়ে থাকা তিন দল প্রথমে সুপার সিরিজ খেলবে। সেখান থেকে দল এগোবে গ্রুপ পর্বে, এরপর সুপার সেভেন পর্ব এবং সবশেষে নকআউটে।

ডব্লিউসিএর মতে, এই পরিবর্তনের ফলে আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর জন্য আগে যে সুযোগের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, তা অনেকটাই কমে গেছে। কারণ এসব দেশ আগের ফরম্যাট মাথায় রেখেই নিজেদের বিনিয়োগ, বাছাইপর্বের পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি সাজিয়েছিল। আইসিসির নতুন ফরম্যাটের ফলে বড় ধাক্কা খেয়েছে দলগুলো।

ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী টম মোফাত বিবৃতিতে বলেন, ‘আইসিসি তাদের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের কাঠামো নির্ধারণ করার অধিকার রাখে। কিন্তু যখন খেলার জন্য কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়, বাছাইপর্বের পথ নির্ধারণ করা হয় এবং দেশ ও খেলোয়াড়েরা সেই সুযোগের লক্ষ্য নিয়ে বছরের পর বছর বিনিয়োগ করেন, তখন বড় ধরনের পরিবর্তনের আগে প্রকৃত পরামর্শ, স্বচ্ছতা এবং স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক খেলোয়াড়ের জন্য ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগই ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অর্জন। সেই লক্ষ্য পূরণে তারা পেশাগত ও ব্যক্তিগতভাবে বড় ত্যাগ স্বীকার করেন। বছরের পর বছর একটি নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করার পর হঠাৎ করে সেই পথ বদলে গেলে তার বাস্তব প্রভাব পড়ে।’

নতুন ফরম্যাটে সবচেয়ে নিচের র‌্যাঙ্কিংয়ে থাকা বাছাই করা দলগুলোর জন্য পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকাপ অভিযান এবং প্রতিষ্ঠিত টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর বিপক্ষে নিশ্চিতভাবে খেলার সুযোগ থাকছে না। ডব্লিউসিএর মতে, এটি বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক। পাশাপাশি যে দেশগুলো বিশ্বকাপে লাভভাব হওয়ার সুযোগ দেখতো উল্টো তাদের সুযোগই সবচেয়ে কমে গেছে।

মোফাত বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার যে লক্ষ্য বারবার বলা হয়, সেই লক্ষ্যকে এমন সিদ্ধান্তের সঙ্গে মেলানো কঠিন। কারণ এতে যেসব দেশ সম্প্রসারণ থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারত, তাদের জন্য শীর্ষ পর্যায়ের টুর্নামেন্টে অর্থবহ সুযোগ কমে যাচ্ছে।'

আরো পড়ুন: