সবশেষ কয়েক বছরে বাংলাদেশের টেস্ট দলের পেস ইউনিটের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন হাসান। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে সবার নজরও কেড়েছেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে ভালো করার সুবাদে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সফরের সময় কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার প্রস্তাব ডানহাতি এই পেসার। তবে সেই বছর ইংল্যান্ডে যেতে পারেননি। হাসানকে পাওয়ার জন্য অবশ্য অপেক্ষা করেছে কেন্ট। নতুন মৌসুমের আগে আবারও হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা।
এবার অবশ্য কাউন্টি ক্রিকেট খেলার জন্য সময় বের করেছেন হাসান। সেই গল্প শুনিয়ে তিনি বলেন, ‘গত বছর (২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর) আমি খুব সম্ভবত পাকিস্তানে টেস্ট খেলছিলাম তখন হঠাৎই আমার এজেন্ট কল দিয়ে বলে, ‘হাসান তুমি কাউন্টি ক্রিকেট থেকে একটা প্রস্তাব পেয়েছো। যদি খেলতে চাও বলতে পারো।’ আমি বললাম ঠিক আছে কিন্তু এবছর হয়ত পারব না। কারণ আমাদের ঠাসা সূচি আছে। পরের বছর হয়ত খেলতে পারব। এবছর আসলাম, কোচের সঙ্গে কথা হলো এবং ম্যাচ খেলতে নেমে গেলাম।’
বিশ্ব জুড়েই কাউন্টি ক্রিকেটের প্রশংসা আছে। নিজেদের টেস্ট ক্রিকেটের উন্নতিতে ক্রিকেটাররা সুযোগ পেলেই কাউন্টি খেলতে চান। অনেক তারকা বিদেশি ক্রিকেটার নানান সময়ে খেলেছেনও। বাংলাদেশের অবশ্য সাদা পোশাকের জন্য ভরসা করতে হয় এনসিএল ও বিসিএলের উপর। সুযোগ-সুবিধায় কাউন্টির চেয়ে ঢের পিছিয়ে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ঘরোয়া ক্রিকেট। তবে ক্রিকেটীয় দিক থেকে খুব বেশি পার্থক্য দেখেন না হাসান।
বাংলাদেশের পেসার বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের দিক থেকে সবকিছু প্রায় একই ধরনের (বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট)। আপনি এখানে বাড়তি সুযোগ-সুবিধা পাবেন, উইকেট বেশি, নেট সেশনের সুযোগ বেশি আবার কন্ডিশনও খুব ভালো। এখনকার আবহাওয়ায় খুব ভালো। এটাই আসলে মূল পার্থক্য।’
ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে হাসানের। ব্ল্যাকপুলের স্ট্যানলি পার্কে প্রথম ইনিংসে ৩২ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন ডানহাতি এই পেসার। স্বপ্ন পূরণ করে দ্বিতীয় ইনিংসে হাসান ৬৯ রানে শিকার করেছিলেন ৬ উইকেট। দুই ইনিংসেই ইংল্যান্ডের লিয়াম লিভিংস্টোনকে আউট করেছেন হাসান। বাংলাদেশের পেসারের কাছে সেই উইকেট পছন্দের।
এ প্রসঙ্গে হাসান বলেন, ‘আমি অনেকগুলো উইকেট পেয়েছি, তার মধ্যে লিভিংস্টোনের উইকেটটি আমার প্রিয়। তাকে আমি দুইবার আউট করেছি।’ দুই ম্যাচ খেলেই দেশে ফিরবেন হাসান। পরবর্তীতে আবার ফিরবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি আবার আসব। মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলোতে আমি থাকব।’