সবশেষ কয়েক বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে রীতিমতো একটা পেস বিপ্লব ঘটেছে। জাতীয় দলের পাশাপাশি বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেট, সব জায়গায় দাপট দেখাচ্ছেন পেসাররা। পাইপলাইনে পর্যাপ্ত পেসার থাকায় বিদেশের মাটিতে ভালো করার সম্ভাবনার দুয়ারও খুলছে। গত কয়েক বছরে জাতীয় দলের হয়ে পারফর্ম করেছেন নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদরা।
তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলছেন ইবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব, হাসান মাহমুদের মতো পেসাররা। পাইপলাইনে আছেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন, রিপন মণ্ডল, রবিউলের মতো পেসাররা। ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিয়ম করে প্রায় প্রতিটা দলে খেলানো হচ্ছে দুই থেকে তিনজন করে পেসার। তাদের বেড়ে ওঠার পেছনে স্থানীয় কোচদের বড় একটা ভূমিকা রয়েছে।
তারেক আজিজ খান, তালহা, আলমগীর কবিরসহ আরও অনেকের সান্নিধ্যে ক্রমশই ক্ষুরধার হয়েছে বাংলাদেশের পেস বোলিং। যদিও কৃতিত্বের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রাখা হয় ওটিস গিবসন, অ্যালান ডোনাল্ড, শন টেইটদের মতো বিদেশি কোচদের। তাদেরকে খাটো করে না দেখলেও স্থানীয় কোচদের যে পর্যাপ্ত কৃতিত্ব দেওয়া হয় না সেই বিষয়টি সামনে এনেছেন তালহা।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেখুন, অবশ্যই ভালো লাগে। বাংলাদেশে আমরা সবসময় স্ট্রাগল করেছি ফাস্ট বোলিংয়ে। আপনরাও সবাই জানেন আমরা কেন স্ট্রাগল করেছি। উইকেট একদমই পারমিট করতো আমাদের বোলারদের। এখন বাংলাদেশে যখন ট্রু উইকেট দেখি তখন খুবই চমৎকার লাগে। আমাদের পাইপলাইন বলুন, জাতীয় দল বলুন, যতগুলো ফাস্ট বোলার আছে.... অনেকেই অনেক কথা বলেন যে সবসময় কৃতিত্বটা আমাদের স্থানীয় কোচদের দেওয়া হয় না।’
‘কিন্তু নিচের যেই খেলোয়াড়গুলো যখন তৈরি হয় তখন কিন্তু আমাদের স্থানীয় কোচরাই কাজ করেন। আমি সবাইকে কৃতিত্ব দিব। সবারই এখানে অনেক কৃতিত্ব পাওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। আমি কাউকে ছোট করবো না কারণ আমাদের কোচদের অনেক এডুকেশন প্রোগ্রাম হয় না। কিন্তু সবাই নিজের চেষ্টায় ভালো কিছু করার চেষ্টা করে।’
বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ে একটা সময় কাণ্ডারি ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। লম্বা সময় জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ না হলেও পেস বোলিংয়ে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন সৈয়দ রাসেল, তালহা, আল আমিন, রবিউল ইসলাম, তাপস বৈশ্য, কামরুল ইসলাম রাব্বি, মোহাম্মদ শহীদ, নাজমুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলামরা।
স্পিনারদের দাপটের কারণে একটা সময় নিয়মিতভাবে সুযোগ পেতেন না তারা। সেই সময়ে পেসারদের সামলানোর জন্য ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট না থাকায় অনেকের ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে চোটে পড়ে। এখন অবশ্য এমন সমস্যা খুবই কমই হচ্ছে। বেশি সার্ভিস পেতে ফাস্ট বোলারদের নিয়ে বেশি সতর্ক থাকছে বিসিবি।
গত কয়েকটা সিরিজেই কথাই যদি বলা যায় সেখানে মুস্তাফিজুর, তাসকিন, নাহিদ, শরিফুলদের বিশ্রাম দিয়ে খেলানো হচ্ছে। সেটার সুবিধাও অবশ্য পাচ্ছে বাংলাদেশ। তালহা জানান, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পেসারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে নিজেদের সময়টাতে এমন ব্যবস্থা না থাকার হতাশাও খানিকটা প্রকাশ করলেন তিনি।
তালহা বলেন, ‘আমরা যেভাবে বোলারদের গাইড করি বা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট করি এটা আমাদের সময় থাকলে আমাদের ক্যারিয়ার এত ছোট হতো না। মাশরাফি, আমি বা যারা ছিলাম ওই সময় এত ইনজুরিতে পড়তাম না। আমাদের ফিজিও, বা ট্রেইনার কালচার ছিল না। আপনি যদি ওই সময়ের সাথে তুলনা করেন, অবশ্যই। আমরা এখন যেভাবে পেস বোলারদের মেইনটেইন করি এটা একটা আন্তর্জাতিক মানের। আমি বলব খুবই চমৎকার।’