তানজিদ হাসান তামিম ফিরলেও পাওয়ার প্লে বাংলাদেশের একেবারে খারাপ যায়নি। অথচ সেই পাওয়ার প্লের পরই ছন্দপতন হয় স্বাগতিকদের। বড় শট খেলার চেষ্টায়, দ্রুত রান তুলতে গিয়ে তাড়াহুড়ো করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। তালহা জুবায়ের অন্তত এমনটাই মনে করেছেন। বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ জনান, বাউন্ডারির জন্য তাড়াহুড়ো না করে ছোট জুটি গড়ার পথে হাঁটলে ম্যাচের চিত্রটা ভিন্ন হতে পারতো।
এ প্রসঙ্গে তালহা জুবায়ের বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা একটু তাড়াহুড়ো করেছি। আমাদের পাওয়ার প্লেটা চমৎকার ছিল, আমরা ৫২ করেছি ৬ ওভারে। ওইখান থেকে আমরা ক্যারি করতে পারিনি। প্রত্যেক ওভারে বা দুই ওভার পরপর একটা করে উইকেট হারিয়েছি। আমরা অতিরিক্ত বাউন্ডারিতে (মারতে) গিয়েছি। যেখানে আমরা যদি একটু জুটি গড়তে পারতাম ৩০-৩৫ বা ৪০ রানের। কারণ উইকেট দেখে আমরা বুঝেছিলাম এটা ২০০ রানের উইকেট হয়তবা না। যেহেতু পাওয়ার প্লে ভালো গেছে তখন আমাদের ব্যাটাররা হয়ত ভেবেছে মারলেই লাগছে। কিন্তু সব বল লাগবে না।’
ভালো শুরুর পরও ব্যাটিং ব্যর্থতায় একশর আগেই ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শেষ বেলায় ক্যামিও ইনিংস খেলেন শেখ মেহেদী। যদিও ১৩১ রানের বেশি করতে পারেনি স্বাগতিক রা। এমন পুঁজি নিয়েও অস্ট্রেলিয়ার ৬ ব্যাটারকে ফেরায় বাংলাদেশ। এমনকি ম্যাচ জেতার জন্য সফরকারীদের খেলতে হয়েছে ১৯ ওভার পর্যন্ত। তালহা মনে করেন, আরও ৩০-৩৫ রান করতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার জন্য কাজটা সহজ হতো।
বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ বলেন, ‘আমরা যেভাবে বোলিং করেছি ওদেরকে পাওয়ার প্লেতে দুইটা উইকেট পড়েছে, ৪৭ রান করেছিল। আমাদের স্কোর বোর্ডে যদি আরও ৩০-৩৫ রান থাকতো তাহলে হয়ত এত সহজ হতো না অস্ট্রেলিয়ার জন্য।’
বাংলাদেশকে ধসিয়ে দেওয়ার কাজটা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার তিন স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা, জোয়েল ডেভিস ও রেনশ। তারা তিনজনে মিলে নিয়েছেন ৮ উইকেট। বাংলাদেশের ব্যাটারদের ফাঁদে ফেলতে মাঠের বড় দিকটা ভালোভাবেই ব্যবহার করেছেন তারা। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে সামনের দিকে ৭৮ ও ৭৬ মিটার ছিল। স্কয়ার বাউন্ডারির দৈর্ঘ্য ছিল ৭০ মিটার। তালহা মনে করেন, বড় বাউন্ডারি ব্যবহার করে বল ঝুলিয়ে দিয়ে ব্যাটারদের বড় শট খেলার প্রলোভন দেখিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান স্পিনাররা। সেই ফাঁদে ব্যাটাররা পাও দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
তালহা বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় ওরা (অস্ট্রেলিয়ার স্পিনাররা) আমাদের যেভাবে ফাঁদে ফেলেছে, আমরা ওই ফাঁদে পা দিয়েছি। কারণ ওরা চাচ্ছিল আমরা বড় শট খেলতে গিয়ে একটা মিস টাইমিং করি এবং ওইটাই হয়েছে। আমরা অতিরিক্ত বাউন্ডারির উপর নির্ভর করেছি। সেখানে যদি আমরা একটু ইনিংস গোছাতে পারতাম। আমার মনে হয় আমার সঙ্গে আমাদের ব্যাটাররাও একমত হবে যে আমরা অতিরিক্ত বাউন্ডারির জন্য ছিলাম যে সব বলেই চার-ছয় মারব। ওইখানে যদি একটু দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে আসতাম, ছোট একটা জুটি হতো, ব্যাক টু ব্যাক উইকেট যাওয়ার পর ২০-৩০ রানের জুটি হতো, আমার মনে চিত্রটা ভিন্ন হতো।’