যতটুকু চেয়েছি আল্লাহ তার চেয়ে বেশি দিয়েছে: মোসাদ্দেক

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) সবশেষ তিন আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আবাহনী। আকাশী-নীলদের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ে যাদের অবদান আছে তাদের অন্যতম একজন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। অধিনায়কত্বের পাশাপাশি অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে প্রতিপক্ষের উপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন তিনি। এনসিএল, বিসিএল, কিংবা ডিপিএল—কোথাও পারফর্ম করা বাদ রাখেননি মোসাদ্দেক। ডিপিএলের গত আসরেই যেমন ছয়শর বেশি রান করার পাশাপাশি নিয়েছিলেন ৩০ উইকেট।

ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করে প্রায়শই জাতীয় দলের দরজায় কড়া নেড়েছেন মোসাদ্দেক। তবে সেই দরজাটা আর ভাঙতে পারেনি স্পিন বোলিং এই অলরাউন্ডার। বাংলাদেশের সবশেষ প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু তো একবার বলেই দিয়েছিলেন, ‘যতদিন মিরাজ আছেন ততদিন মোসাদ্দেকের সুযোগ নেই।’ ডিপিএলে ছয়শর বেশি রান ও ৩০ উইকেট নেওয়ার পরও জাতীয় দলে জায়গা নেই। কঠিন সময়টায় অবশ্য মনোবল হারাননি।

বরং হতাশা ভুলে ধৈর্য্য ধরেছেন, পারফর্ম করেছেন এবং সুযোগের জন্য অপেক্ষা করেছেন। সেই সুযোগটা এলো প্রায় চার বছর। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ডাক পেলেন, প্রথম ম্যাচে খেলেও ফেললেন। জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে ব্যাটিংয়ে অপরাজিত ৮৬ রানের ইনিংস খেললেন মোসাদ্দেক। পরবর্তীতে ডানহাতি স্পিনে নিলেন দুইটা উইকেট। এমন পারফরম্যান্সের পর মোসাদ্দেক জানালেন, নিজের কাজগুলো করে সুযোগের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

এ প্রসঙ্গে মোসাদ্দেক বলেন, ‘অবশ্যই, হতাশা ছিল। খুবই সহজ সময় আমার জন্য ছিল না। আমরা স্ট্রাগল পিরিয়ডটা আপনারা অনেকেই দেখেছেন, আবার অনেকে হয়ত দেখেননি। ওই জায়গা থেকে আমি সবসময় ধৈর্য্য ধরার চেষ্টা করেছি এবং আমার কাজগুলো করার চেষ্টা করেছি। এটা মাথার মধ্যে ছিল একটা সুযোগ যখন আসবে সুযোগটা যেন আমি ভালোভাবে নিতে পারি। যতটুকু না চেয়েছি আল্লাহ তার চেয়ে বেশি দিয়েছে।’

২০১৬ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছে মোসাদ্দেকের। ১০ বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ৪৪ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে হাফ সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে অবদান রেখেছিলেন তিনি। বাকি সময়টায় নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি মোসাদ্দেক। সেটার জন্য অবশ্য নিজেরই দায় দেখছেন ৩২ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার।

মোসাদ্দেক বলেন, ‘আক্ষেপ তো অবশ্যই কাজ করে। আমি মনে করি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী কখনো ওইভাবে ডেলিভার করতে পারিনি। এখানে আমার ভুলটাই সবসময় দেখার চেষ্টা করি। এখনো পর্যন্ত ওইটাই বিশ্বাস করি যেটা হয়ে গেছে সেটা আমার ভুল ছিল। ওইটা পেরিয়ে আমাদের আরও ম্যাচ আছে ওইগুলোতে যেন ডেলিভার করতে পারি।’

২০০৫ সালে কার্ডিফে মোহাম্মদ আশরাফুল, হাবিবুল বাশারদের হাত ধরে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশের। পরের ২১ বছরে ১৫টা ওয়ানডে খেললেও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারাতে পারেনি টাইগাররা। তবে দুই দশক পর মিরপুরে নাহিদ রানা, নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিম ও মোসাদ্দেকদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স অজিদের বিপক্ষে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এমন জয়কে ঐতিহাসিক বলছেন মোসাদ্দেক।

সিরিজ জয়ের ভালো সম্ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, ঐতিহাসিক জয়। আমি বলব খুব ভালো সুযোগ আছে আমাদের সামনে সিরিজটা জেতার। আমরা যদি আমাদের প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকতে পারি অবশ্যই সম্ভব। আমি থেকে শুরু করে আমাদের সবার ওই বিশ্বাসটা করতে হবে।’

আরো পড়ুন: