মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারায় সফরকারীরা। তাসকিন আহমেদের ইনসুইং ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন ম্যাথু শর্ট। দ্বিতীয় ওভারে বাংলাদেশকে উইকেট এনে দিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমানও। বাঁহাতি পেসারের বলে লেগ সাইডে খেলতে চেয়েছিলেন মার্নাশ ল্যাবুশেন। তবে বলের লাইনে যেতে না পারায় লেগ বিফোর উইকেট হয়েছেন তিনি। জোরালো আবেদনে আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে ল্যাবুশেনকে ফেরান মুস্তাফিজ।
কুপার কনোলির উইকেটও পেতে পারতেন বাঁহাতি এই পেসার। তবে স্লিপে দাঁড়িয়ে ক্যাচ নিতে পারেননি তানজিদ। পাওয়ার প্লের বাকিটা সময় অনায়াসে কাটিয়ে দিয়েছেন জশ ইংলিস ও কুপার কনোলি। তবে পাওয়ার প্লে শেষে তাদের দুজনের জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। ডানহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারিতে এজ হয়েছেন ইংলিস। তিন চারে ২৫ বলে ১৯ রান করেছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক।
ইংলিস ফেরার জুটি গড়ে তোলেন অ্যালেক্স ক্যারি ও কনোলি। তাদের দুজনের জমে ওঠা ভাঙেন মোসাদ্দেক। ডানহাতি স্পিনারের বলে ব্যাকফুটে গিয়ে কাট করতে চেয়েছিলেন কনোলি। তবে ব্যাটে-বলে করতে না পারায় বোল্ড হতে হয়েছে তাকে। ৫০ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলেছেন কনোলি। এরপর ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিন মিলে অস্ট্রেলিয়াকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। শুরু থেকেই সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন ক্যারি।
হাফ সেঞ্চুরির খুব কাছে থাকলেও তাকে পঞ্চাশ ছুঁতে দেননি নাহিদ। ডানহাতি পেসারের দারুণ এক ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন ক্যারি। ৬২ বলে ৪৭ রানের ইনিংস খেলে ফিরতে হয়েছে বাঁহাতি এই ব্যাটারকে। পরের ওভারে ম্যাট রেনশকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন মোসাদ্দেক। বার্টলেটকে নাহিদ ও নাথান এলিসকে ফেরান মুস্তাফিজ। শেষের দিকে বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে খেলা হয়নি। গ্রিনের হাফ সেঞ্চুরি কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ চারটি এবং মুস্তাফিজ ও মোসাদ্দেক নিয়েছেন দুইটি করে উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই পাঁচ রান করে ফেরেন সাইফ। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ৯৬ রানের জুটি গড়ে চাপ সামাল দেন শান্ত ও তানজিদ। পাওয়ার প্লেতে এক উইকেট হারিয়ে ৬২ রান তোলে বাংলাদেশ। দারুণ ব্যাটিংয়ে ৮১ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন তানজিদ। যদিও পঞ্চাশ ছোঁয়ার পরই ৫৪ রানে ফিরতে হয় বাঁহাতি ওপেনারকে। চারে নেমে সুবিধা করতে পারেননি লিটন। আউট হয়েছেন মাত্র ৭ রানে।
লিটনের বিদায়ের পর বাংলাদেশকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন শান্ত। ৫৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি পাওয়া বাঁহাতি ব্যাটারের অবশ্য সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি। ৮৬ বলে ৬৭ রানের ইনিংস খেলে ফিরতে হয় তাকে। দ্রুতই তিন উইকেট হারালে বাংলাদেশের হাল ধরেন তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক। তারা দুজনে মিলে একটু একটু করে স্বাগতিকদের এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। তারা দুজনে মিলে ৭৫ রানের জুটি গড়েন। হৃদয়ের বিদায়ে ভাঙে তাদের দুজনের জুটি।
৫১ বলে ৩১ রানের নড়বড়ে ইনিংস খেলে ফেরেন হৃদয়। ডানহাতি ব্যাটার ফেরার পর ৪৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন বছরচারেক পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে ফেরা মোসাদ্দেক। শেষের দিকে তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের রান বাড়িয়েছেন তিনি। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৮৬ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন মোসাদ্দেক। ২০ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন তাসকিন। শেষ পর্যন্ত ২৮৪ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান এলিস তিনটি ও স্কট, রেনশ পেয়েছেন দুইটি করে উইকেট।