২৩ বছর বয়সী বাঁহাতি এই স্পিনার প্রথম ইনিংসে ৩৩ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ভারতের বড় জয়ের ভিত গড়ে দেন। রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজার দীর্ঘদিনের স্পিন জুটির বাইরে নতুন যুগের সূচনা করতে আফগানিস্তান সিরিজে ভিন্ন স্পিন আক্রমণ নিয়ে মাঠে নামে ভারত। সেই সুযোগকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে টেস্ট অভিষেকেই নজর কাড়েন তরুণ এই বাঁহাতি স্পিনার। দুর্দান্ত বোলিং করে তিনি ভেঙেছেন ৪৭ বছর ধরে টিকে থাকা একটি রেকর্ড। ভারতের বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে টেস্ট অভিষেকে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডটি নিজের নামে করে নেন এই তরুণ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিওহটস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'এটা অবিশ্বাস্য এক অনুভূতি। মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ আমি। ব্যাট করতে নেমে কয়েকটি বল খেলার পর নিজেকে স্বচ্ছন্দ লাগছিল। আর বোলিংয়ে প্রথম ওভার থেকেই একই জায়গায় বল ফেলার চেষ্টা করেছি।'
রাজস্থানে জন্ম নেওয়া এই স্পিনার জানান, শুরুতে নিজের স্বাভাবিক ডেলিভারির ওপরই নির্ভর করতে চেয়েছিলেন। তবে পরে বুঝতে পারেন, ধীরগতির উইকেটে সফল হতে হলে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে।
এ সময় তিনি আফগান ব্যাটার সালিম সাফির উইকেট নিয়েও কথা বলেন। এলবিডব্লিউয়ের সেই সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে রিপ্লেতে বিতর্ক তৈরি করলেও মানব জানান, মুহূর্তটির সময় তিনি শতভাগ নিশ্চিত ছিলেন যে ব্যাটার আউট। এমনকি অধিনায়ক শুভমান গিলকেও রিভিউ নেওয়ার জন্য তিনি রাজি করিয়েছিলেন।
মানব বলেন, 'আমি নিজের স্বাভাবিক বলগুলোতেই আস্থা রাখতে চেয়েছিলাম। তবে বুঝেছিলাম উইকেট একটু ধীর, তাই বেশি চেষ্টা করতে হয়েছে। ডিআরএসের সময় আমার মনে হয়েছিল ব্যাটার একেবারেই নিশ্চিতভাবে আউট।'
তবে অভিষেকে এমন দুর্দান্ত সাফল্য পেলেও দীর্ঘ সংস্করণে টিকে থাকার জন্য ধৈর্য ও ধারাবাহিকতার গুরুত্বের কথাই বেশি জোর দিয়ে বলেছেন তিনি। মানব বলেন, 'একই জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল করতে পারাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। টেস্ট ক্রিকেট ধৈর্যের খেলা। আশা করি আমি বোলিংয়ে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারব।'
তার ৬/৩৩ বোলিং ফিগার এখন টেস্ট অভিষেকে কোনো ভারতীয় বোলারের দ্বিতীয় সেরা ইনিংস বোলিং। এই তালিকায় তার ওপরে আছেন শুধু নরেন্দ্র হিরওয়ানি, যিনি ১৯৮৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টে ৬১ রানে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন। ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ১৫২ রানে অলআউট হওয়ার পর ফলোঅন করতে বাধ্য হয় আফগানিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং বিপর্যয় এড়াতে পারেনি সফরকারীরা। মাত্র ১১২ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়াশিংটন সুন্দর ৩৬ রানে ৪ উইকেট এবং কুলদীপ যাদব ৩০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে আফগান ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন। তৃতীয় দিনের মাঝপথেই জয় নিশ্চিত করে ভারত, যা ইনিংস ও ৩০০ রানের ব্যবধানে তাদের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় হিসেবে রেকর্ডবুকে জায়গা করে নেয়।