শরিফুলের তোপের পর জ্যাকবসের ঝড়ে জিতল নিউজিল্যান্ড

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ
বিসিবি
বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে ফিরলেন পারভেজ হোসেন ইমনও। বাংলাদেশের উইকেট বৃষ্টি থামে বেরসিক বৃষ্টিতে। আবার যখন ম্যাচ গড়ালো তখনও বৃষ্টির মতোই পড়েছে বাংলাদেশের উইকেট। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৫ ওভারের ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র ১০২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। রান তাড়ায় নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডারকে গুঁড়িয়ে দিলেন শরিফুল ইসলাম।

বাঁহাতি পেসার ফেরালেন টিম রবিনসন, কাটেনে ক্লার্ক ও ডেন ক্লেভারকে। ৭ বলের ব্যবধানে তিনটি উইকেট তুলে নিলেও বাংলাদেশকে জেতাতে পারেননি শরিফুল। বেভান জ্যাকবসের ৩১ বলে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংসের ৬ উইকেটের জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশ জিতলেও কিউইরা জয় পেয়েছে শেষ টি-টোয়েন্টিতে। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় ১-১ এ সিরিজ ড্র হয়েছে।

রান তাড়ায় শেখ মেহেদীর করা প্রথম ওভারেই ৯ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। তবে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় কিউইরা। শরিফুলের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে এজ হয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন কাটেনে ক্লার্ক। একই ওভারের শেষ বলেও উইকেট তুলে নিয়েছেন শরিফুল। বাঁহাতি পেসারের শর্ট লেংথ ডেলিভারিতে ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলতে চেয়েছিলেন ডেন ক্লেভার। এজ হলেও শুরুতে আউট দেননি অনফিল্ড আম্পায়ার।

তাৎক্ষণিকভাবে রিভিউ নিয়ে ক্লেভারকে বিদায় করেছে বাংলাদেশ। এক ওভারে তিন রান দিয়ে দুই উইকেট নেন শরিফুল। নিজের পরের ওভারে বোলিংয়ে এসেই ফিরিয়েছেন টিম রবিনসনকে। বাঁহাতি পেসারের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন ১৪ বলে ২৩ রান করা কিউই ব্যাটার। পঞ্চম ওভারে উইকেট পেয়েছেন শেখ মেহেদী। অভিজ্ঞ স্পিনারের বলে বোল্ড হয়েছেন নিক কেলি।

৩৩ রানে চার উইকেট হারানোর পর জুটি গড়ে তোলেন জ্যাকবস ও ফক্সক্রফট। তারা দুজনে মিলে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। রিশাদ হোসেনের বলে ছক্কা মেরে ২৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন জ্যাকবস। পরের দুই বলে ছক্কা ও চার মেরে কিউইদের ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ডানহাতি ব্যাটার শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৩১ বলে ৬২ রান করে। তাকে সঙ্গ দেওয়া ফক্সক্রফট ১৪ বলে ১৪ রান করেছেন। বাংলাদেশের হয়ে ১৯ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল।

এর আগে টসে জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় নিউজিল্যান্ড। শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় ২১ রানে ওপেনিং জুটি ভাঙে। ওপেনার সাইফ ১১ বলে ১৬ রান কর জেইডেন লেনক্সের শিকার হন। সাইফের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি তানজিদ। তিনি ১০ বলে ৬ রান করে বোল্ড হন নাথান স্মিথের বলে।

ঠিক পরের বলেই পারভেজ ইমন শূন্য রানে ফেরেন। এর মধ্যে দিয়ে টানা দ্বিতীয় বলে উইকেট পান স্মিথ। ৩ উইকেট হারানোর পরও ব্যাট হাতে সাবলীল ছিলেন অধিনায়ক লিটন। তিনি ১৩ বলেই তুলে নেন ২৫ রান। সপ্তম ওভারের চতুর্থ বলের পর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ঘণ্টা খানেকের বৃষ্টিতে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ১৫ ওভারে।

বৃষ্টির পর বাংলাদেশ একের পর এক উইকেট হারিয়েছে। বিরতির পর প্রথম বলেই ইস সোধিকে কাট করে পয়েন্ট দিয়ে চার মারেন তাওহীদ হৃদয়। তবে সেই ধারা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। খানিক বাদেই জশ ক্লার্কসন আউট করেন লিটন দাসকে। লিটন পাঞ্চ করতে গিয়ে ক্যাচ দেন স্মিথের হাতে।

আগের ম্যাচে দারুণ খেলা শামীম হোসেন পাটোয়ারি রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে মাত্র ৩ রান করে আউট হয়ে যান। ফলে ৮৬ রানেই বাংলাদেশ পঞ্চম উইকেট হারায়। বাকি ৫ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ মাত্র ১৪ রানে। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৩ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ক্লার্কসন। পাশাপাশি দুটি করে উইকেট নেন স্মিথ ও সিয়ার্স। একটি করে উইকেট নিয়েছেন লেনক্স ও সোধি।

আরো পড়ুন: