সবশেষ ৭ অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচনের পরই অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় ডিপিএলের ভাগ্য। ক্লাবগুলোর বড় অংশ সেই নির্বাচনে অংশ না নেবার পর ঘোষণা দেয় সেই বোর্ডের অধীনে সব ধরনের টুর্নামেন্টও বয়কট করার। অবশেষে তামিম ইকবাল ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্ব নেবার পর এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মাঠে গড়াচ্ছে ডিপিএল। তবে, শুধু আয়োজনের জন্যই আয়োজন নয়, এবারের ডিপিএল দিয়েই ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুনত্বের পথে পা বাড়াতে চান তামিম।
দেশের একমাত্র লিস্ট 'এ' টুর্নামেন্ট হলেও ডিপিএলকে 'পিকনিক ক্রিকেট' বলে কটাক্ষ করা হত। মিরপুর ও বিকেএসপির দুইটি মাঠে অনেকটা দায়সারা ভাবেই আয়োজন করা হতো এই টুর্নামেন্ট। এবারে তাই সেই ফরম্যাট থেকে বের হয়ে এসে ঢাকার মধ্যে ছয় ভেন্যুতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এই টুর্নামেন্ট। বর্ষাকালের কথা মাথায় রেখে টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচেই রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে।
ডিপিএল পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন, 'কিছু কিছু জিনিস আমরা এ বছর পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছি যেটা হলো এবার ছয়টা ভেন্যুতে খেলা হবে। ছয়টা ভেন্যুতে খেলা হওয়ার দুটি কারণ, একটি কারণ হলো যে আমরা দুই-তিন মাস দেরি করে টুর্নামেন্ট শুরু করছি। আর এখন বৃষ্টির মৌসুম। টুর্নামেন্ট চলার সময়ও বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। এ কারণে আমরা এবার রিজার্ভ ডে রেখেছি প্রতিটি ম্যাচের জন্য।'
টুর্নামেন্ট ভেন্যু বাড়ানো প্রসঙ্গে তামিম আরো যোগ করেন, 'আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা সবসময় চাইতাম যে ওই বিকেএসপি আসা যাওয়া এটা একটা বড় ঝামেলা সবার জন্য। খেলোয়াড়দের প্রচণ্ড পরিমাণ কষ্ট হয়, আম্পায়ারদের বা সাথে এই টুর্নামেন্টের সাথে যারাই জড়িত সবারই ওখান থেকে যাওয়া আসা ঝামেলা হয়। এটাতে মানুষজন অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে, খেলোয়াড়রা ইনজুর্ড হয়ে যাচ্ছে, আপনারা সাংবাদিক যারা আছেন সাংবাদিকদের জন্যও একটা বড় ঝামেলা হয়ে দাঁড়ায়।'
'তাই আমি চাচ্ছিলাম অন্য মাঠগুলোতেও খেলা হোক। ওই দুইটা মাঠ আমাদের অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে কিন্তু যদি আমরা অন্য মাঠগুলো বিকল্প হিসেবে রাখি তাহলে বিকল্প দিন বা বিকল্প ম্যাচে সেগুলো ব্যবহার করতে পারব। সুতরাং ভ্রমণও কমে আসবে। তাই আমি এটা চাচ্ছিলাম যে সব মাঠে খেলা হোক।'
এ ছাড়াও এবারের আসরে ক্লাবগুলোর জন্য বরাদ্দ আর্থিক প্রণোদনাও বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড। খেলোয়াড়দের ফিটনেসের কথা মাথায় রেখে ইনিংস বিরতিতে মধ্যান্নভোজের দায়িত্বও নেবে বোর্ড।
এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, 'প্রতিটি সিজনে আমরা ক্লাবগুলোকে অংশ নেয়ার জন্য একটা আর্থিক সাহায্য করি। ওই আর্থিক জিনিসটাও আমরা এবার বাড়িয়ে দিয়েছি, যেটা শেষবার ছিল তার চেয়ে ভালো করে দিয়েছি।
তামিম আরো যোগ করেন, 'এ ছাড়া আমরা ফিটনেস নিয়ে অনেক কথা বলতাম বা ফিটনেস নিয়ে অনেক চিন্তিত ছিলাম। অনেক প্লেয়ারকে এত স্কোর না করলে অনেক টুর্নামেন্ট খেলতে দেওয়া হতো না। কিন্তু ওই ফিটনেস টেস্ট শেষ করার পর যখন লাঞ্চ দিতো ওই জায়গায় আলু ভর্তা, গরুর মাংস আর ভাত থাকতো।যদি আপনি ফিটনেসকে নিয়ে এত চিন্তিত বা ফিটনেসের আপনি একটা মানদণ্ড নির্ধারণ করতে চান, আপনার তো সব দিকটা অন্তত চেষ্টা করতে হবে কাভার করার জন্য।'
টুর্নামেন্টকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে এবার ফিক্সিং ইস্যুতেও বেশ কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ক্রিকেট বোর্ড। আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের মতো করেই মাঠে দুর্নীতি বিরোধী সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে চান তামিম। এরমধ্যে মাঠে খেলোয়াড়দের মোবাইল ফোন নিষিদ্ধসহ আরো নানান নিয়ম চালু হতে হচ্ছে এবারের আসর থেকে।
ফিক্সিং প্রতিরোধ বিষয়ে তামিম বলেন, 'দুর্নীতি রোধে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তোবা একটু কঠিন হবে যখন আপনি একটা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট খেলেন বড় স্টেডিয়ামে পিওএম যেটা থাকে যে এটার ভিতরে প্লেয়ারদের ভিতরে কেউ আসতে পারবে না। কিন্তু যখন আমরা এই একাডেমির মাঠগুলোয় খেলছি বা বিকেএসপিতে খেলছি ওই সুযোগ-সুবিধা আমাদের কাছে কম। ওখানে ড্রেসিং রুমগুলো এভাবে করে করা যে জিনিসটা আটকানোটা খুবই কঠিন হবে। তারপরও আমাদের তরফ থেকে যতটুকু আমরা পারি আমরা চেষ্টা করব এই জিনিসগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে।'
গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানের হয়ে খেলার সময় মাঠেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তামিম। এরপর গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালেও যেতে হয় তাকে। এরপর গত বিপিএলে মাঠে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর মৃত্যুবরণ করেন ঢাকা ক্যাপিটালসের বোলিং কোচ মাহবুব আলী জাকি। এবারে তাই সতর্কতার অংশ হিসেবে মাঠেই অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার ঘোষণা তামিমের।
এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, 'এবার যেটা নতুন করে আনতে যাচ্ছি, যেটা হলো আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স। আপনি যদি গত দুই বছরের ইতিহাস দেখেন, আমার মনে হয় চার থেকে পাঁচজন বা এর বেশি ঘটনা হয়েছে আমাদের মাঠে বা এর চারপাশে। অনেকেই মারা গেছেন। আমি ভাগ্যবান যে বাঁচতে পেরেছি। সো আমার কাছে মনে হয় এটা বিসিবির দায়িত্ব যে আমরা যতটুকু করতে পারি অতটুকু ব্যবস্থা করে রাখি।
বিসিবি সভাপতি আরো যোগ করেন, 'সুতরাং আমাদের প্রতিটি মাঠেই কমবেশি অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স পাওয়াটা একটা চ্যালেঞ্জ। তারপরও আমার কাছে মনে হয় চারটা থেকে পাঁচটা আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটা থাকবে। বিকেএসপির দুইটা মাঠে একটা হয়তোবা থাকবে। এই ধরনের কোনো দুর্ঘটনা যদি আল্লাহ মাফ করুক আবার কারও সাথে ঘটে তাহলে আমরা আরো ভালোভাবে প্রস্তুত থাকব আগের চেয়ে।'