বৃষ্টির মৌসুমে স্কুল ক্রিকেট চান না ‘কিংবদন্তি’ হৃদয়

স্কুল ক্রিকেট
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
জাতীয় দলের ব্যাটার হিসেবেই তাওহিদ হৃদয়কে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছিল সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে। তবে পরিবেশটা হালকা হয়ে যায়, যখন উপস্থাপক মজার ছলে জানান, হৃদয় নিজেকে স্কুল ক্রিকেটের ‘কিংবদন্তি’ বলেছিলেন। এতে পুরো কক্ষে হাসির রোল পড়ে!

হাসির সেই মুহূর্ত পেরিয়ে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে নিজের শুরুর দিনের স্মৃতিতে ফিরে যান হৃদয়। মিরপুরে প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেটের নতুন মৌসুম শুরুর উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি মনে করিয়ে দেন, কীভাবে এই প্রতিযোগিতাই তার ক্রিকেটজীবনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল।

হৃদয় বলেন, 'একই ব্যাট, একই হেলমেট পরে ব্যাটিংয়ে নামার জন্য আমরা সবাই খুব তাড়াহুড়ো করতাম। তখন সরঞ্জাম খুব বেশি ছিল না, কিন্তু সেই সময়ের মধ্যেই আলাদা একটা আনন্দ আর রোমাঞ্চ ছিল।'

নিজের স্কুলজীবনের কথা বলতে গিয়ে হৃদয় জানান, তিনি বগুড়ার পুলিশ লাইনস স্কুলের হয়ে চার বছর এই প্রতিযোগিতায় খেলেছেন। সেই সময় একবার সারা দেশের মধ্যে চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল তার দল, যা এখনো তার কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে আছে।

হৃদয়ের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন পেছনে বসে থাকা স্কুলপর্যায়ের উঠতি ক্রিকেটাররা। গত আসরে ভালো পারফরম্যান্সের জন্য বৃত্তি পাওয়া ২৫ জন তরুণ ক্রিকেটার উপস্থিত ছিলেন সেখানে, যাদের অনেকেই ভবিষ্যতে বড় মঞ্চে খেলতে চায়।

তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধও জানান হৃদয়। তিনি বলেন, 'আমি সব সময় স্কুল ক্রিকেট দেখি। এক–দুই বছর আগে বৃষ্টির কারণে খেলা হয়নি, টসে চ্যাম্পিয়ন ঠিক হয়েছে। এমন একটি প্রতিযোগিতা বৃষ্টির মৌসুমে না হয়ে আগে হলে সবাই পুরোপুরি খেলতে পারবে।'

এদিকে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানান, সময়সূচি নির্ধারণে কিছু বাস্তব সমস্যা থাকে, 'রোজা ও পরীক্ষার সময় মিলিয়ে নিতে গিয়ে অনেক সময় এই প্রতিযোগিতা বৃষ্টির সময় পড়ে যায়। ভবিষ্যতে এটি এগিয়ে আনার পরিকল্পনা আছে।'

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও। স্কুল ক্রিকেটে খুব বেশি না খেললেও এই পর্যায়ের গুরুত্ব সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।

নাজমুল বলেন, 'স্কুল ক্রিকেটের একটি সফরে কেরালায় খেলতে গিয়েছিলাম, সেটি আমার ক্যারিয়ারের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলাম, এরপর খুব দ্রুত অনূর্ধ্ব পর্যায়ের দলে সুযোগ পাই। তাই আমি মনে করি, এই প্রতিযোগিতাকে বড় করে দেখা উচিত।'

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়ে আশাবাদী নাজমুল আরও বলেন, 'আমরা যখন বয়সভিত্তিক খেলছি সাকিব ভাইকে দেখেছি, তামিম ভাইকে দেখেছি, মুশফিক ভাইকে দেখছি; এখন যদি তুলনা করি অবশ্যই ওই জায়গাটাতে আমরা একটু ভুগছি। কিন্তু ধীরে ধীরে এটা পূরণ হবে, আমাদের এটা দায়িত্ব। আমরা যদি ভালো অবস্থানে যাই, বাংলাদেশ দলের জন্য যে রকম ভালো, পাশাপাশি যে ছেলেগুলো খেলতে চায় তারাও আমাদেরকে দেখে হয়তো অনুপ্রাণিত হবে।'

আরো পড়ুন: