‘অধিনায়করা প্রেস কনফারেন্স সামলেছে, গালিও খেয়েছে’

বাংলাদেশ ক্রিকেট
খালেদ মাহমুদ সুজন
খালেদ মাহমুদ সুজন
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
কদিন আগে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কদের হাতে ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ তুলে দিয়েছেন তামিম ইকবাল। আজীবন মেয়াদের কার্ডে বাংলাদেশের ক্রিকেটের যেকোন ইভেন্টে ঢুকতে পারবেন তারা। এ ছাড়া মেডিকেল সেবাও পাবেন সাবেক অধিনায়করা। তবে বিসিবির এডহক কমিটির সভাপতির ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ নিয়ে সমালোচনা করেছেন তাপস বৈশ্য। তবে সাবেক পেসারের এমন সমালোচনাকে পাত্তা দিচ্ছেন না খালেদ মাহমুদ সুজন। বরং অধিনায়ক হিসেবে গালি খাওয়া ও চাপের মুখে সংবাদ সম্মেলন সামলানোর ব্যাপারটা সামনে এনেছেন তিনি।

দেশের মাটিতে খেলা হলে সবসময়ই সাবেক অধিনায়কদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকেট বরাদ্দ রাখে বিসিবি। সেই টিকেট নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে মাঠে ঢুকে ম্যাচ দেখতে হয় তাদের। এখন থেকে অবশ্য সেটা করার প্রয়োজন হবে না বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়কদের। ‘ক্যাপ্টেনস কার্ডের’ মাধ্যমে এখন থেকে দেশের মাটিতে হওয়া দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, বিপিএলসহ ঘরোয়া ক্রিকেটও দেখতে পারবেন তারা।

এসবের বাইরে আইসিসি কিংবা এসিসির টুর্নামেন্টের ম্যাচও দেখার সুযোগ থাকবে তাদের। এখন থেকে আর লাইনে দাঁড়াতে হবে না অধিনায়কদের। ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ ব্যবহার করে স্টেডিয়ামের ভেতরে ভিভিআইপি স্থানে গাড়ি পার্ক করতে পারবেন অধিনায়করা। এ ছাড়া মেডিকেল সেবাও পাবেন তারা। শুধুমাত্র অধিনায়কদের এমন সুবিধা দেওয়ায় কদিন আগে সমালোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তাপস।

সাবেক পেসারের সমালোচনার জবাব দিয়ে সুজন বলেন, ‘একটা ভালো কিছুতে সবসময় সমালোচনা হয়, এটা বাংলাদেশের একটা (রীতি)। অধিনায়করা কিন্তু টস করতে গেছে, সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রেস কনফারেন্স সামলেছে, গালি খেয়েছে। অন্য একটা খেলোয়াড় কিন্তু এরকম করেনি। অবশ্যই রফিক অন্যতম সেরা কিংবদন্তি আমাদের দেশে। হ্যাঁ, এটা কিন্তু কথাটা ছিল ক্যাপ্টেনস কার্ড। অধিনায়ক কিন্তু সবাই হয় না। ক্যাপ্টেনস কার্ডে এখন আপনি একদিনের জন্য অধিনায়ক হলেও আপনি অধিনায়ক।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আপনি একটা ম্যাচ অধিনায়কত্ব করছেন হয়তোবা। আমি এটা বলছি না যে ভবিষ্যতে এটা হবে না। এটা মাত্র শুরু। হয়তবা ভবিষ্যতে তামিম আরও কিছু সারপ্রাইজ দেবে কিনা আপনি জানেন না। কিন্তু আমার মনে হয় একটা ভালো কিছুর আমরা সমালোচনা না করে সেটাকে বলি যে ও ভালো কিছু একটা করেছে, খেলোয়াড়দের স্বীকৃতি দিয়েছে, অধিনায়কদের স্বীকৃতি দিয়েছে।’

জাকের আলী অনিক, নুরুল হাসান সোহান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের মতো ক্রিকেটাররা সেদিন ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ পেয়েছেন। তবে অধিনায়কত্ব না করায় মোহাম্মদ রফিকের মতো কিংবদন্তিরা সেই কার্ডের সুবিধা পাচ্ছেন না। সাবেক স্পিন বোলিং অলরাউন্ডারের উদাহরণ টেনেছিলেন তাপস। সুজন মনে করেন, ভবিষ্যতে হয়ত রফিকের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের সম্মননা দেবেন তামিম।

তিনি বলেন, ‘অধিনায়কদের তো একটা মূল্যায়ন আছে। অধিনায়করাই কিন্তু ব্লেজার পড়ে টেস্ট ম্যাচে টস করতে যায়, এটা অন্য কেউ কিন্তু যায় না। এটা একটা আলাদা সম্মান। এটা আপনাকে মানতেই হবে। কে কী বলল এটা গুরুত্বপূর্ণ না। তামিম এটা চিন্তা করেছে, এটা করেছে। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে এরকম করবে যারা আমাদের কিংবদন্তি খেলোয়াড় আছে তাদেরকেও সে সম্মাননা দেওয়া হবে হয়তবা, সেটা আমি জানি না। আমি বলছি আরকি। কিন্তু আমার মনে হয় এসব ভালো কাজের সমালোচনা না করে পজিটিভভাবে নেওয়া উচিত জিনিসগুলো।

বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এমন অধিনায়কদের মাঝে গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, মোহাম্মদ আশরাফুল, শাহরিয়ার নাফিস, লিটন দাস, রাজিন সালেহ, হাবিবুল বাশার সুমনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কার্ডের সুবিধা পাবেন বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক শামীম কবীরও। সুজন মনে করেন, এমন আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম সাবেক অধিনায়কদের চিনবে।

সুজন বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মের অনেকে হয়তবা শামীম কবীর ভাই মারা গেছে, হয়তবা চিনেই না। হয়তবা হীরা ভাইকে অনেকে দেখেনি, রকিবুল ভাইকে অনেকে চেনে হয়তবা দেখেনি। শফিকুল হক হীরা ভাই, রকিবুল হাসান বা গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ভাই যারা আছেন আমাদের প্রজন্মের তাদের হয়তবা (চেনে না), এখন আমাদেরই মানুষ চেনে না। তাদের চিনলো যে তারা সাবেক অধিনায়ক বাংলাদেশের ক্রিকেটের।’

আরো পড়ুন: