ম্যাচ হারলে আমাদেরও খারাপ লাগে, ব্যাটারদেরও খারাপ লাগে: শরিফুল

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ
তানভির হোসেন/ক্রিকফ্রেঞ্জি
তানভির হোসেন/ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
উইকেটে খানিকটা ঘাসের ছোঁয়া পাওয়ায় জ্বলে উঠলেন শরিফুল ইসলাম। আঁটসাঁট বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডারকে আটকে রাখেন তাসকিন আহমেদরাও। হেনরি নিকোলস ও ডি ফক্সক্রফটের হাফ সেঞ্চুরির পরও সফরকারীদের ২৪৭ রানে আটকে দেয় বাংলাদেশ। তবে মিরপুরে সেই রানও তাড়া করতে পারেননি লিটন দাস-সাইফ হাসানরা। ব্যাটিং ব্যর্থতায় হারতে হয়েছে প্রথম ম্যাচে। ব্যাটাররা জ্বলে উঠতে না পারলেও তাদের হয়ে ব্যাট ধরলেন শরিফুল। বাঁহাতি পেসার জানালেন, ম্যাচ হারলে তাদেরও খারাপ লাগে।

মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে রান তাড়ায় শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট হারায় বাংলাদেশ। চাপ থেকে সামলে উঠতে একের পর এক ডট বল খেলেন সাইফ ও লিটন। ধীরগতির ব্যাটিংয়ে হাফ সেঞ্চুরিও করেন সাইফ। উইকেটকিপার ব্যাটার লিটন ফিরেছেন পঞ্চাশ ছোঁয়ার আগেই। তাদের মতো ডট বল খেলেছেন তাওহীদ হৃদয়, আফিফ হোসেনরাও।

পুরো ম্যাচ জুড়ে অর্ধেকের বেশি বলে রান বের করতে পারেনি বাংলাদেশ। ২৯৩ বলের মধ্যে ১৬৬টি ডট বল নিয়েছেন লিটন, সাইফ, হৃদয়রা। শেষ পর্যন্ত আড়াইশ ‘ছোঁয়া’ পুঁজি তাড়া করতে নেমে ২২১ রানে অল আউট হয় স্বাগতিকরা। ২৬ রানে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। বোলাররা ভালো করার পরও ব্যাটাররা জেতাতে না পারায় আক্ষেপ হয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে খানিকটা লিটনদের হয়ে ব্যাট ধরলেন শরিফুল।

বাঁহাতি এই পেসার বলেন, ‘আসলে আক্ষেপের কিছু নাই। যখন হেরে যাই তখন আমাদেরও খারাপ লাগে ব্যাটারদেরও খারাপ লাগে। এখানে আমরা যদি আরেকটু ভালো বোলিং করতাম হয়ত তাদের জন্য সহজ হতো। ইনশাআল্লাহ, পরবর্তী ম্যাচে ব্যাটাররা খুব ভালো করবে, আমাদেরকে সাপোর্ট দেবে, আমরাও তাদেরকে সাপোর্ট দিব। দলগতভাবে আমরা ম্যাচ জিতব। ক্রিকেট খেলায় এরকম হয় যে এক ইউনিট ভালো করে আবার আরেক ইউনিট ব্যর্থ হয়। আমরা আশাবাদী পরবর্তী ম্যাচে ইনশাআল্লাহ ভালো করব।’

সাম্প্রতিক সময়ে সাদা বলের ক্রিকেট অনেকটা এগিয়ে গেছে। টি-টোয়েন্টিতে দুইশ কিংবা তার চেয়ে বেশি রান অনায়াসে হচ্ছে। ওয়ানডে ক্রিকেটেও প্রচুর রানের দেখা পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ এখনো পড়ে আছে সেই পুরনো যুগে। আড়াইশ রান তাড়া করতে পারে না, আগে ব্যাটিং করলেও তিনশও ছুঁতে পারে না। শরিফুল জানালেন, বাংলাদেশের ব্যাটাররাও এমন কিছু চেষ্টা করছেন তবে সাফল্য পাচ্ছেন না।

শরিফুল বলেন, ‘অবশ্যই, তারা (ব্যাটাররা) কাজ করছে। হয়ত বেশিরভাগ সময় তারা ব্যর্থ হচ্ছে। কিন্তু ব্যর্থ হওয়ার পরও কিন্তু সবার আশা থাকে। লাইফে কিন্তু সবাই সবসময় ব্যর্থ হয় না, সাফল্য আসে। ওই আশা নিয়ে সবাই চেষ্টা করতেছে ইনশাআল্লাহ সাফল্য আসবে একদিন।’

আইপিএল ও পিএসএলের ব্যস্ততার কারণে শীর্ষ ১৫-১৬ জন ক্রিকেটারকে ছাড়াই বাংলাদেশ সফরে এসেছে নিউজিল্যান্ড। খানিকটা দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে না। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার টম লাথাম। বাকিরা কেউই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এতটা অভিজ্ঞ নয়। কেউ সিঙ্গেল ডিজিটের ম্যাচ খেলেছেন আবার হাতে গোনা কজন দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন। তবে তাদেরকে দ্বিতীয় সারির বলতে চান না শরিফুল।

তিনি বলেন, ‘দেখুন— আন্তর্জাতিক দলে কোনো সময়ই দ্বিতীয় দল, এসব বলে কিছু হয় না। আন্তর্জাতিক দল আন্তর্জাতিকই। তারা ঘরোয়াতে ভালো করেই আন্তর্জাতিকে সুযোগ পেয়ে আসছে। দ্বিতীয়ত এক ম্যাচ হারলেও এখনো আমাদের হাতে দুই ম্যাচ আছে। আমাদের ভেতরে ওই সামর্থ্য আছে যে আমরা ঘুরে দাঁড়াব। ইনশাআল্লাহ, দেখা যাক পরের ম্যাচে যদি ঘুরে দাঁড়াতে পারি সিরিজ আমরা জিতব।’

আরো পড়ুন: