মিরপুরের বাইরে ঢাকায় আরেকটি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের চাওয়া ছিল বিসিবির। সেটার অংশ হিসেবে সরকারের কাছ থেকে পূর্বাচলে নামমাত্র মূল্যে সাড়ে ৩৭ একর জমি নেয় তারা। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনুমোদিত হওয়া স্টেডিয়ামটি হওয়ার কথা ছিল নৌকার আদলে। নাম শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম হলেও সেটা পরিচিতি পাওয়ার কথা ছিল ‘দ্য বোট’ হিসেবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পরিবর্তনের পর স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এ ছাড়া তৎকালীন বিসিবি সভাপতি নিশ্চিত করেন বদলানো হবে স্টেডিয়ামের নকশা। তিনি বেশিদিন দায়িত্বে না থাকায় কাজের অগ্রগতি হয়নি। আমিনুল ইসলাম বুলবুলও স্টেডিয়ামের কাজ এগোনোর চেষ্টা করেছিলেন। যদিও এখনো পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মাঠ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।
এনসিজির নির্মাণকাজ পরিদর্শনে ১৮ এপ্রিল পূর্বাচলে গিয়েছিলেন তামিম। স্টেডিয়ামের পুরোটা জায়গায় ঘুরে দেখেন বিসিবি সভাপতি। ভালো মানের উইকেট বানাতে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে ব্যবহার হওয়া লাল মাটি আনার চেষ্টা করবেন তিনি। পাশাপাশি তামিম জানান, স্টেডিয়ামের নকশাতে কিছু পরিবর্তন আনবেন তারা। এনএসসির পাশাপাশি ডিজাইনারদের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করবেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক।
এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘আজকে মাননীয় মন্ত্রী (ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী) এসেছেন, আমরা আজকে পুরো ডিজাইনটা তাকে দেখিয়েছি, প্রেজেন্ট করেছি। এখানে কিছু পরিবর্তন জরুরি। পরিবর্তন করার জন্যই শুধু করব না। কিছু কিছু ডিজাইন পরিবর্তন করা জরুরি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটার ডিজাইন যারা করেছেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। অন্য কারোর সঙ্গে যদি কথা বলার দরকার হয় তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। এরপর এনএসসির সঙ্গে বসব। কারণ এখানে সরকারের অনেক বড় বিনিয়োগ লাগবে। যদি আমরা একটা বড় স্টেডিয়াম করতে চাই।’
পূর্বাচল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশাপাশি একটি পাঁচ তারকা হোটেল, সুইমিং পুল, জিম, প্যাভিলিয়ন এবং মিডিয়া সেন্টার করার কথা ছিল। তবে সেই ভাবনা থেকে কিছুটা সরে আসতে যাচ্ছে বিসিবি। তামিম জানিয়েছেন, ক্রিকেটের পাশাপাশি আরও কয়েকটি স্পোর্টস ইভেন্টকে যুক্ত করা হতে পারে এখানে। এতে দেশের স্পোর্টসের ভালো হবে বলে মনে করেন বিসিবি সভাপতি।
তামিম বলেন, ‘অনেক বড় একটা প্রোপার্টি। এখানে আমাদের চেষ্টা থাকবে ক্রিকেটের সঙ্গে সঙ্গে, মাননীয় মন্ত্রী বললেন কিছু কিছু স্পোর্টসকে আমরা যদি যুক্ত করতে পারি তাহলে আমাদের স্পোর্টসের জন্য ভালো হবে। টাকার দিক থেকে ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান হয়তো বা অন্য অনেক বোর্ডের চেয়ে ভালো। আমাদেরও দায়িত্ব অন্য স্পোর্টসকে দেখাশোনা করা।’