মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রান তাড়ায় ইনিংসের প্রথম ওভার থেকেই দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন তানজিদ ও সাইফ হাসান। যদিও তাদের দুজনের উদ্বোধনী জুটি খুব বেশি বড় হয়নি। তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে জুটি ভাঙেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। বাঁহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে শামিল হুসাইনকে ক্যাচ দিয়েছেন সাইফ। ১০ বলে ৪ রান করেছেন ডানহাতি ওপেনার। সাইফ ফেরার পর দ্রুত রান তোলেন শান্ত ও তানজিদ।
পাওয়ার প্লের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সপ্তম ওভারেই দলের পঞ্চাশ পূরণ করেন তারা দুজন। শান্ত ও তানজিদ মিলে মাত্র ৩৮ বলে জুটির পঞ্চাশ করেন। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে এক উইকেটে ৮১ রান তোলে বাংলাদেশ। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন তানজিদ। ইফতারের আগে খেলা শেষ করতে তাণ্ডব চালালেন বাঁহাতি এই ওপেনার। বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করে তানজিদ অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ৬২ রানে। বাংলাদেশের যখন ৬ রান প্রয়োজন তখন ৩৩ বলে ২৭ রান করে আউট হয়েছেন শান্ত।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে সাবধানী ব্যাটিং করেন সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত। বিনা উইকেটেই পাওয়ার প্লে শেষ করতে যাচ্ছিলেন পাকিস্তান দুই ওপেনার। তবে দশম ওভারে এসে ফারহান ও সাদাকাতের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন নাহিদ। ডানহাতি পেসারের শর্ট ডেলিভারিতে কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে আফিফের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ফারহান। অভিষেক ম্যাচে পাকিস্তানি ওপেনার আউট হয়েছেন ৩৮ বলে ২৭ রানে। তিনে নামা শামিলও দ্রুতই ফিরতে পারতেন। তবে ক্যাচ নিতে পারেননি তানজিদ।
যদিও জীবন পেয়ে ইনিংস বড় করতে পারেননি শামিল। নাহিদের শর্ট ডেলিভারিতে বড় শট খেলার চেষ্টায় লিটনকে ক্যাচ দিয়েছেন। অভিষেকে ৭ বলে ৪ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। নিজের তৃতীয় ওভারে ফেরান সাদাকাতকে। ডানহাতি পেসারের গতিময় ডেলিভারিতে সাইফকে ক্যাচ দেন ফাইন লেগে। পরপর তিন ওভারে তিন উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে চেপে ধরেন নাহিদ। একটু পর ফেরান মোহাম্মদ রিজওয়ানকেও। নাহিদের অফ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে এজ হয়েছেন তিনি।
২০ বলে ১০ রান করে লিটনকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পাকিস্তানি উইকেটকিপার ব্যাটার। গতিময় বোলিংয়ে শুরু থেকেই সালমান আলী আঘাকে ভোগাচ্ছিলেন নাহিদ। শেষ পর্যন্ত ডানহাতি ব্যাটারের উইকেটও নিয়েছেন। নাহিদের শর্ট ডেলিভারিতে পুশ করতে গিয়ে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়েছেন। কয়েকবারের চেষ্টায় দুর্দান্ত ক্যাচ নেন তানজিদ। সালমানকে ফিরিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেটের দেখা পেয়েছেন নাহিদ। মুস্তাফিজুর রহমানের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে পাকিস্তানের সঙ্গে পাঁচ উইকেট নিলেন তিনি।
মুস্তাফিজ নিয়েছিলেন ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে। পরের তিনটি উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। হুসাইন তালাত, আব্দুল সামাদ ও শাহীন আফ্রিদিকে ফেরান বাংলাদেশের অধিনায়ক। তাসকিন আহমেদ আউট করেন ওয়াসিম জুনিয়রকে। শেষ উইকেটে দ্রুত রান করছিলেন ফাহিম। ৩৭ রান করা বাঁহাতি ব্যাটারকে ফেরান মুস্তাফিজ। পাকিস্তানকে ১১৪ রানে অল আউট করার দিনে বাংলাদেশের হয়ে ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। মিরাজের শিকার তিনটি।