‘বুমরাহকে স্লোয়ার আমি শিখিয়েছি’, বললেন আরব আমিরাতের পেসার

ভারত ক্রিকেট
জসপ্রীত বুমরাহ, ফাইল ফটো
জসপ্রীত বুমরাহ, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
'জসপ্রীত বুমরাহকে স্লোয়ার বল করা আমিই শিখিয়েছি'- এমন এক চমকপ্রদ দাবীই করে বসেছেন পাকিস্তানি বংশদ্ভুত সংযুক্ত আরব আমিরাতের জহুর খান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে এই পেসার দাবি করেন ২০১৯ সালে তার হাত ধরেই বুমরাহ নিজের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র 'স্লোয়ার বল' কার্যকরী ভাবে অ্যাকশন পরিবর্তন না করে করাটা আত্মস্থ করেন।

আধুনিক ক্রিকেটে বোলার হিসেবে বুমরাহর সাথে তুলনীয় আছেন খুব কম বোলারই। প্রায় দশ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বুমরাহ প্রতিনিয়ত নিজেকেই ছাড়িয়ে গেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫০০ এর বেশি উইকেট হয়তো বুমরাহর মাহাত্ম্যকে ঠিকভাবে তুলে ধরা যাবে না। ম্যাচের সবচেয়ে কঠিন মূহুর্তের পারফরম্যান্সই মূলত তাকে আলাদা করেছে অন্য সবার থেকে।

ক্যারিয়ারের দশ বছরে নিজের অস্ত্র ভান্ডারে একের পর এক অস্ত্র যোগ করেছেন বুমরাহ। ইয়র্কার, সুইং ,রিভার্স সুইংয়ের পাশাপাশি তার বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে একই অ্যাকশনে স্লোয়ার বল করতে পারার দক্ষতা। ভারতের এই পেসারের শিকার করা উইকেটের বড় একটা অংশ এসেছে এই স্লোয়ার বল থেকেই।

জহুর জানান, ২০১৯ সালের আইপিএলের আমিরাত পর্বে পর্বে তিনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের নেট বোলার ছিলেন এবং সেখানেই বুমরাহর সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে তার আলোচনা হয়। তার দাবি, বুমরাহ তখনও স্লোয়ার বল করতেন। তবে তিনি ভারতীয় এই তারকাকে স্লোয়ার আরও উন্নত করতে সহায়তা করেছিলেন।

জহুর বলেন, 'একটা গল্প বলি। বুমরাহ আগে স্লোয়ার বল করত, কিন্তু স্বাভাবিক অ্যাকশনেই। আবুধাবিতে একটি ম্যাচে সে, ট্রেন্ট বোল্ট আর নাথান কোল্টার-নাইল অনেক রান দিয়ে ফেলেছিল। ওই বছর আইপিএল সেপ্টেম্বরে হচ্ছিল। সেপ্টেম্বর মাসে ইউএইতে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রির মতো থাকে, ভীষণ গরম। রাতে বল ধরা পর্যন্ত কঠিন হয়ে যায়, কারণ বল ভিজে যায়।'

'মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আমাকে ডাকল। আমি ৬ দিন কোয়ারেন্টাইনে ছিলাম, সপ্তম দিনে অনুশীলনে গেলাম। সেদিন রাতে দলের সঙ্গে ছিলাম। জহির খান ও রবিন সিং আমাকে চিনতেন, কারণ টি–টেন লিগে আমি একটি মেইডেন ওভার করেছিলাম। আমি প্রথম বলটি ইয়র্কার করি, এরপরের পাঁচটি বলই ছিল স্লোয়ার। আমরা সবাই বসে ছিলাম, বুমরাহ এসে টেবিলের সামনে বসল, রোহিত শর্মাও সেখানে বসল, আমিও বসে দেখছিলাম।'

৩৬ বছর বয়সী জহুর আরব আমিরাতের হয়ে বেশ সফল বোলার ছিলেন। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করা এই পেসার আরব আমিরাতের জার্সিতে ৬২ টি ওয়ানডে ও ৫৭ টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলছেন। দুই ফরম্যাট মিলিয়ে ১৬৫ টি উইকেট আছে জহুরের ঝুলিতে। জহুর জানান, টি–টেন লিগে তার পারফরম্যান্সের কারণে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের টিম ম্যানেজমেন্ট তার স্লোয়ার বল সম্পর্কে জানত। পরে বুমরাহর সঙ্গে তার দীর্ঘ আলোচনা হয় এবং তিনি নেটেও একসঙ্গে বল করেন।

তিনি বলেন, 'আমি বললাম, একই অ্যাকশন আর একই গ্রিপে। সে বলল, এটা কীভাবে সম্ভব? আমি বললাম, অনুশীলনে দেখাব। সে বলল, ঠিক আছে, পরের প্র্যাকটিসে তোমার গ্রিপ আমাকে দেখাতে হবে। প্র্যাকটিসে আমি বল করছিলাম। তখন শেন বন্ড ছিলেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বোলিং কোচ, আর মাহেলা জয়াবর্ধনে নেটের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমি একটি স্লোয়ার বাউন্সার করলাম, ব্যাটসম্যান সেটি খেলতে পারেনি। শেন বন্ড জিজ্ঞেস করলেন, তোমার গ্রিপ কী? তুমি কি অফ-কাটার করো? আমি বললাম, না, একই গ্রিপ।'

তিনি আরও যোগ করেন, 'আমি দেখালাম, এভাবেই বল ছুড়ি এবং দু–তিনটা স্লোয়ার বল করলাম। তখন তিনি জয়াবর্ধনেকে বললেন, এটা ক্রিকেটে নতুন একটা ব্যাপার। বললেন, দেখো কীভাবে সে একই অ্যাকশন আর একই আর্ম স্পিডে স্লোয়ার বল করছে। এক–দুদিন পরে আমি বুমরাহর সঙ্গে বল করছিলাম। সে বলল, ‘পাজি, তোমার গ্রিপটা দেখাও।’ আমি দেখালাম, একই গ্রিপ, একই অ্যাকশন। সে বল করে বলল, ‘এটা তো একেবারে অন্য লেভেলের জিনিস।’ আমি এখন ইউএই দলের খেলোয়াড়, আর সে বিশ্বমানের বোলার। কিন্তু আমার ভালো লেগেছে যে এত বড় তারকা হয়েও সে আমার কাছে জানতে চেয়েছিল।'

আরো পড়ুন: