বিশ্বকাপে না গেলেও অবশ্য বসে থাকবে না বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। জাতীয় দলের নিয়মিত, অনিয়মিত এবং অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা ক্রিকেটারদের অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপের আয়োজন করেছে বিসিবি। আপাতত সেখানেই মনোনিবেশ করবেন ধুমকেতুর হেড কোচের দায়িত্ব পাওয়া সালাহউদ্দিন।
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের সেরা প্লেয়াররা এখানে খেলছে। এটার গুরুত্ব অনেক। আমরা ওভাবেই দেখছি এটা। বিশ্বকাপ খেলছি না। তবে আমি ওরকম মানুষ না যে একটা জিনিস মিস করছি বলে তার জন্য আমি হাহুতাশ করে মরে যাব। আমি কালকে বাঁচব না মরব সেটা আমি জানি না। কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে আসলে চিন্তা না করে আমার মনে হয় যে আমার বর্তমান পজিশন যেটা আছে, যেটাতে আমি সবচেয়ে ভালো করতে পারি, আমি এখানে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, আমার খেলাটা উন্নতি করতে পারি।'
'শেষ সিরিজে আমাদের মোটামুটি ভালো ফলাফল হয়েছে, তার থেকে যেন আমরা আরও ভালো করতে পারি সামনে, সেদিকে আমাদের লক্ষ্য আছে। এই টুর্নামেন্টটা হয়তো সেদিক থেকে আমাদের জন্য অনেক লাভবান হবে।'
বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না খেলতে যাওয়ার পেছনের কারণের শুরুটা হয়েছিল মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার পর। বিভিন্ন উগ্র গোষ্ঠীর হুমকি ধামকির পর বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তে মুস্তাফিজকে বাদ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স।
এরপরই বাংলাদেশ ঘোষণা দেয় বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে যাবে না তারা। আর্থিকভাবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন মুস্তাফিজ। যদিও বিষয়টিকে খুবই সহজভাবে নিয়েছেন বাংলাদেশের এই পেসার।
সালাহউদ্দিন বলেন, 'এই প্রশ্নটা আমি নিজেই মুস্তাফিজকে জিজ্ঞেস করছিলাম যে আসলে তুমি কি অনুভব করছ? ও বলছে 'লেট ইট গো'। মানে চলে গেছে যেটা চলেই গেছে। তাই আমার মনে হয় যে এটা সবাই তো আর মুস্তাফিজের মতো হতে পারবে না। কিন্তু এটা হলেই আসলে ওই ছেলেটার জন্য, ওই প্লেয়ারের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে। কারণ যে জিনিস আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না সেই জিনিস নিয়ন্ত্রণ করতে আমি যাব না।'
'আমার মনে হয় মুস্তাফিজের কাছ থেকে এটা হয়তো শেখার একটা ভালো জিনিস আছে যে কিভাবে আসলে এতগুলো টাকা বলেন বা যাই বলেন, ও তো হতাশায় পড়তে পারত। কিন্তু ও জানে যে এটা আসলে নিয়ন্ত্রণ করার তার কিছু নাই। তার হাতে তো ছিল না। তাই আমার মনে হয় ভালো জিনিসটা মুস্তাফিজের কাছ থেকে আমি শিখেছি এবং আমরা অন্যরাও হয়তো এর থেকে শিখবে।'