ক্রিকবাজ জানিয়েছে আইসিসি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে দিয়েছে। টাইগারদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে যোগ করেছে তারা। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় বিসিবিকে ই–মেইলের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানায় আইসিসি।
এর আগে বিসিবি আইসিসিকে জানায়, ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বাংলাদেশ সরকার ভারত সফরের অনুমতি দেয়নি। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার আইসিসিকে পাঠানো চিঠিতে বিসিবি বিষয়টি আইসিসির ডিসপিউট রেজল্যুশন কমিটিতে (ডিআরসি) নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানায়।
এর আগে আইসিসি বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য। বৃহস্পতিবারের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যমান সূচি অনুযায়ী ভারতে যাবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয় বিসিবিকে। বাংলাদেশ ছিল ‘সি’ গ্রুপে। কলকাতায় প্রথম তিনটি এবং মুম্বাইয়ে চতুর্থ ম্যাচ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের—যে ম্যাচগুলো এখন খেলবে স্কটল্যান্ড। তবে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি আবারও জানায়, বাংলাদেশ ভারতে সফর করবে না।
এদিকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম আইসিসির বিরুদ্ধে দ্বৈতনীতির অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানে যেতে বিসিসিআই অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি যেভাবে বিষয়টি সামলেছিল, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তেমন আচরণ করা হয়নি। নিরাপত্তা ইস্যুটি নতুন করে সামনে আসে গত ৩ জানুয়ারি।
বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) সিদ্ধান্তে আইপিএল থেকে বাদ দেয়া হয় মুস্তাফিজুর রহমানকে। এমন সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি। এর পরদিন, ৪ জানুয়ারি, সরকার সঙ্গে পরামর্শ করে বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে জানায়—নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বাংলাদেশ দল টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে ভারতে যাবে না। পরবর্তী কয়েক দফা আলোচনার পরও এই অবস্থানে অনড় থাকে বিসিবি।
আইসিসি অবশ্য মুস্তাফিজ ইস্যুটিকে গ্রহণযোগ্য কারণ হিসেবে মানতে নারাজ। আইসিসির বক্তব্য, বিসিবি বারবার টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বিষয়টিকে একটি ‘একক, বিচ্ছিন্ন ও সম্পর্কহীন’ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করছে—যা কেবল একজন খেলোয়াড়ের ঘরোয়া লিগে অংশগ্রহণসংক্রান্ত। আইসিসির মতে, এই বিষয়টির সঙ্গে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো বা অংশগ্রহণের শর্তের কোনো সম্পর্ক নেই।