সিলেট পর্ব শেষে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ১৫ জনের কার কী পারফরম্যান্স

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরে লিগ পর্বের ১২টি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। তবে নানান জটিলতায় চট্টগ্রামে বিপিএল নেয়া সম্ভব না হওয়ায় চট্টগ্রামের ম্যাচগুলো সরিয়ে আনা হয় সিলেটে। ২৪ ম্যাচের সিলেট পর্ব শেষ হয়েছে ১২ জানুয়ারি। প্লে-অফের জন্য তিনটি দলও চূড়ান্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম রয়্যালসের সঙ্গে সেরা চারের টিকিট পেয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও সিলেট টাইটান্স।

ব্যাটে-বলের লড়াইয়ে বেশ কয়েকটি রোমাঞ্চকর দেখা মিলেছে সিলেট পর্বে। সেঞ্চুরির পাশাপাশি হ্যাটট্রিক ও পাঁচ উইকেটের দেখাও মিলেছে। ১৫ জানুয়ারি থেকে মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে হবে টুর্নামেন্টের শেষ পর্ব। ৬টি লিগ পর্বের ম্যাচের সঙ্গে এলিমিনেটর, কোয়ালিফায়ার ও ফাইনাল হবে মিরপুরে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ হচ্ছে না ক্রিকেটারদের। সিলেট পর্ব শেষে দেখে নেয়া যাক বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে থাকা ক্রিকেটারদের কার কী পারফরম্যান্স।

সবশেষ কয়েক সিরিজের ভাবনায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওপেনিংয়ে দেখা যেতে পারে তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসানকে। চলতি বিপিএলে তানজিদ রাজশাহী ও সাইফ খেলছেন ঢাকার জার্সিতে। ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে প্লে অফ নিশ্চিত করেছে রাজশাহী। তাদের হয়ে সবগুলো ম্যাচই খেলেছেন তানজিদ। বাঁহাতি ওপেনার গত বছর বাংলাদেশের হয়ে আগুনে ফর্মে থাকলেও বিপিএলে প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। ২০.৭৫ গড় ও ১২৬.৭১ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ১৬৬ রান। পেয়েছেন মাত্র একটি হাফ সেঞ্চুরি।

বিশ্বকাপ দলে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বাজে সময় পার করছেন সাইফ। ঢাকার জার্সিতে ৭ ম্যাচ খেলে সর্বসাকুল্যে করেছেন ৪৮ রান। যেখানে একটি ম্যাচেই করেছেন ২২ রান। টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়কের এমন পারফরম্যান্স চিন্তা বাড়াচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টের। ব্যাট হাতে চেনা ছন্দে নেই লিটন দাসও। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক রংপুর রাইডার্সের হয়ে ৮ ম্যাচে ২০.২৫ গড় ও ১৩৫ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ১৬২ রান। নেই কোন পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস।

স্কোয়াডে থাকা ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফর্মে আছেন পারভেজ হোসেন ইমন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চারে দেখা যেতে পারে তাকে। সেই ভাবনায় সিলেটের হয়েও একই পজিশনে খেলেছেন। তবে সাইম আইয়ুব চলে যাওয়ায় তাকে ওপেনিংয়ে খেলানো হয়। ১৩০.৩১ স্ট্রাইক রেট ও ৪১.১৪ গড়ে ৯ ম্যাচে ২৮৮ রান করেছেন বাঁহাতি ব্যাটার। তিনটি হাফ সেঞ্চুরিও পেয়েছেন তিনি। সিলেট পর্ব শেষে পারভেজের চেয়ে বেশি রান করেছেন কেবল নাজমুল হোসেন শান্ত।

একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরিতে ৮ ম্যাচে ২৯২ রান করেছেন। যদিও বাঁহাতি ব্যাটার বিশ্বকাপ দলে নেই। লিটনের মতো রংপুরের হয়ে খেলছেন তাওহীদ হৃদয়ও। ৯২ লাখ টাকায় বিক্রি হওয়া মিডল অর্ডার ব্যাটার দুই হাফ সেঞ্চুরি ৮ ম্যাচে ২০৭ রান করেছেন। রাজশাহীর বিপক্ষে খেলেছিলেন অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস। অর্থাৎ বাকি ৭ ম্যাচে মাত্র ১১০ রান করেছেন হৃদয়। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি।

যদিও পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ছিলেন না তিনি। সিলেট পর্ব শেষে ৮ ম্যাচে ১৫০ রান করেছেন ১৫৪.৬৩ স্ট্রাইক রেটে। ব্যাট হাতে রানের দেখা পাচ্ছেন না নুরুল হাসান সোহান। ৮ ম্যাচে ৩৩ বল খেলে করেছেন ৩০ রান করেছেন। পাঁচটি ম্যাচেই তিনি আউট হয়েছেন। বিশ্বকাপ দলে থাকা ব্যাটারদের মধ্যে কেবল মাত্র তিনজন শীর্ষ ১০ রান সংগ্রাহকের তালিকায় আছেন। পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৬ উইকেট নিয়েছেন ৭ ম্যাচে।

এ ছাড়া ব্যাটিংয়ে ৭৫ রান করেছেন। ব্যাটারদের চেয়ে তুলনামূলক ভালো ছন্দে আছেন স্কোয়াডে থাকা বোলাররা। সবচেয়ে ভালো ছন্দে আছেন শরিফুল ইসলাম। চট্টগ্রামের জার্সিতে বাঁহাতি পেসার ৭ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ১৩ উইকেট। শরিফুলের চেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন হাসান মাহমুদ (১৪ উইকেট)। বল হাতে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মুস্তাফিজুর রহমানও। বাংলাদেশের তারকা পেসার ৮ ম্যাচ খেলে ১৩ উইকেট নিয়েছেন। সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় তিনে আছেন তিনি।

পেসারদের মধ্যে তুলনামূলক কম ছন্দে আছেন তানজিম হাসান সাকিব। রাজশাহীর হয়ে খেলা ডানহাতি পেসার ৭ ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়েছেন। কদিন আগে ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টি খেলা তাসকিন আহমেদ বিপিএল খেলছিলেন ঢাকার হয়ে। ডানহাতি পেসার হাঁটুর চোটে পড়ার আগে ৫ ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়েছেন। স্পিনারদের মধ্যে ৯ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে সেরা পাঁচে আছেন সিলেটের নাসুম আহমেদ। একটি ম্যাচে মাত্র ৭ রান খরচায় ৫ উইকেটও নিয়েছিলেন।

চট্টগ্রামকে নেতৃত্ব দেয়ার পাশাপাশি ব্যাটে-বলে আলো ছড়াচ্ছেন শেখ মেহেদী। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির হয়ে ৭ ম্যাচে ৬.৭৫ ইকোনমি রেটে ৭ উইকেট নিয়েছেন। এ ছাড়া ব্যাটিংয়ে ১০১ রান করেছেন মেহেদী। বিপিএলের পরিবর্তে বিগ ব্যাশে খেলছেন রিশাদ হোসেন। হোবার্ট হারিকেন্সের জার্সিতে ৯ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়েছেন ডানহাতি লেগ স্পিনার। হোবার্টের সবার আগে প্লে অফে জায়গায় করে নেয়ার পেছনে বড় অবদান রেখেছেন রিশাদ।

আরো পড়ুন: