এক সময় টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে সাব্বির ছিলেন বাংলাদেশের ভরসার নাম। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষমতার কারণে এই সংস্করণে তাকে নিয়মিত দেখা যেত জাতীয় দলে। সময় বদলেছে, ভূমিকাও বদলেছে। জাতীয় দলের বাইরে থাকা সাব্বির এখন বিপিএলেও নিয়মিত বড় প্রভাব ফেলতে পারছেন না।
চলতি বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে খেলছেন সাব্বির। দলটির অবস্থান পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকেই। নিজের পারফরম্যান্সও খুব আলাদা করে চোখে পড়ার মতো নয়। সিলেট পর্বের শেষ ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কাছে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।
সাব্বির বলেন, 'আপনি অ্যানালাইসিস (বিশ্লেষণ) করেছেন, কত নম্বরে নেমেছি? কত নম্বরে কয়টা বলের মুখোমুখি হয়েছি? একটা ব্যাটসম্যান যদি সাতে খেলে, আটে খেলে, গিয়ে দেখে ১৪-১৫ করে লাগে (ওভারপ্রতি), আমি কি ডিফেন্স করব গিয়ে? অবশ্যই না…।'
ব্যাটিং অর্ডারের নিচের দিকে নামার বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'একজন ব্যাটসম্যান যদি সাতে বা আটে নেমে দেখে ওভারপ্রতি ১৪-১৫ রান দরকার, তখন ডিফেন্স করে খেলার সুযোগ থাকে না।'
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের বিপিএলে সাত ইনিংসে সাব্বিরের সংগ্রহ ১১৭ রান। সর্বোচ্চ ইনিংস ২৫ রানের। তিনবার অপরাজিত থাকায় গড় খারাপ নয়, স্ট্রাইক রেটও তুলনামূলক ভালো। তবে বড় ইনিংস না থাকায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার সুযোগ খুব একটা আসেনি।
এই টুর্নামেন্টে সাব্বির খেলেছেন দুই ম্যাচে ছয় নম্বরে, চার ম্যাচে সাত নম্বরে এবং এক ম্যাচে আট নম্বরে। বেশ কয়েকটি ম্যাচে আউট হওয়ার সময়ও হাতে ছিল অনেক ওভার।
নিজের আদর্শ ব্যাটিং পজিশন নিয়েও স্পষ্ট মত দেন এই ডানহাতি ব্যাটার, 'যখন আমি আগে ব্যাটিংয়ে নেমেছি…দুটো ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলাম… কিন্তু সব ম্যাচে তো হয় না এরকম। ব্যাটসম্যান হিসেবে আমার মনে হয়, চার-পাঁচ আদর্শ পজিশন আমার জন্য। এখন টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করেছে আমি সাত-আটে সেরা, এজন্য আমাকে খেলিয়েছি। এখানে আমার কিছু করার নেই। এর চেয়ে বেশি কিছু আমারও করার ছিল না।'