বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এমন ঘটনার জেরে নিরাপত্তা শঙ্কা প্রকাশ করে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। লিটন দাস-তানজিদ হাসান তামিমদের ম্যাচগুলো যাতে ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেয়া হয় এজন্য আইসিসিকে চিঠিও দিয়েছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বোর্ড পরিচালক হতে কিছুদিন আগে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তামিম। যদিও সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে তামিমের কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি যদি বোর্ডে থাকতেন তাহলে কী সিদ্ধান্ত নিতেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তামিম বলেছিলেন, ‘বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান কী, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে, সবকিছু চিন্তা করে আমার সিদ্ধান্ত আমি নিতাম।’
ভিন্ন আরেকটি প্রশ্নে সাবেক বাঁহাতি ওপেনার যোগ করেছিলেন, ‘আমাদের ৯০-৯৫ শতাংশ অর্থ কিন্তু আইসিসি থেকেই আসে। সবকিছু বিবেচনা করে যেটায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের সহায়তা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ সেই অনুষ্ঠানে তামিমের করা একটি মন্তব্যের ফটোকার্ড ফেসবুকে শেয়ার করেন নাজমুল। বিসিবি পরিচালক ক্যাপশনে লিখেন, ‘এইবার আরো একজন পরিক্ষিত (পরীক্ষিত) ভারতীয় দালাল এর আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দু চোখ ভরে দেখলো।’
বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের এমন বিতর্কিত মন্তব্যের পর তাকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। তাসকিন আহমেদ, মুমিনুল হক, শামসুর রহমান শুভ, রুবেল হোসেন ও তাইজুল ইসলামের মতো ক্রিকেটাররা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বোর্ড পরিচালকের এমন মন্তব্য পুরো ক্রিকেট সমাজের জন্য অপমানজনক।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোয়াব বলেছে, ‘সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের একটি মন্তব্য ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর নজরে এসেছে। আমরা এতে স্তব্ধ, বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সফলতম ওপেনার, দেশের হয়ে ১৬ বছর খেলা ক্রিকেটারকে নিয়ে একজন বোর্ড কর্মকর্তার এমন মন্তব্য চরম নিন্দনীয়। শুধু তামিমের মতো একজন বলেই নয়, দেশের যে কোনো ক্রিকেটারকে নিয়ে এমন মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য ও পুরো ক্রিকেট সমাজের জন্য অপমানজনক।’
বোর্ড পরিচালকদের এমন বিতর্কিত মন্তব্যে আচরণবিধি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কোয়াব। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘আমরা এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। একজন দায়িত্বশীল বোর্ড পরিচালক যখন পাবলিক প্ল্যাটফর্মে এমন মন্তব্য করেন, তখন বোর্ড কর্মকর্তাদের আচরণবিধি নিয়েও আমাদের প্রশ্ন জাগে।’
নাজমুলের এমন মন্তব্যের ঘটনায় ইতোমধ্যে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছে কোয়াব। যেখানে বোর্ড পরিচালককে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তারা। কোয়াবের বিশ্বাস, যত দ্রুত সম্ভব বিসিবি সভাপতি উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বিসিবি সভাপতির কাছে এর মধ্যেই আমরা প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ড পরিচালকের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়াসহ তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছি। আশা করি, যত দ্রুত সম্ভব উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন বিসিবি সভাপতি।’