আইসিসির মাসসেরা হয়ে গিলের রেকর্ড

প্লেয়ার অব দ্য মান্থ
আইসিসি
আইসিসি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
সেপ্টেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেলেন শুভমান গিল। আইসিসির সেপ্টেম্বর মাসের সেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন ভারতের এই ব্যাটার। সতীর্থ অভিষেক শর্মা ও জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজাকে পেছনে ফেলে এই স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতেই ৩৩৩ রান করেন গিল। প্রথম ম্যাচে ১০৮ বলে ১১০ রানের ইনিংস খেলার পর দ্বিতীয় ম্যাচে খেলেন অপরাজিত ২২৩ রান। তার এমন ব্যাটিংয়ে দুই ম্যাচেই আট উইকেটের জয় পায় ভারত। যদিও সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে হেরে যায় স্বাগতিকেরা, শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতে ভারত।

২৭ সেপ্টেম্বর তিরুবনন্তপুরমে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১০৮ বলে ১১০ রান করেন গিল। তিন দিন পর গুয়াহাটিতে দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তোলে ৭ উইকেটে ৪০৫ রান, যা তাদের ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথম ৪০০ পেরোনো সংগ্রহ। জবাবে অধিনায়ক গিলের অপরাজিত ২২৩ ও রোহিত শর্মার ১০১ রানে ৩৯ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত।

মাত্র ৬২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গিল, যা ওয়ানডেতে ভারতীয় অধিনায়কদের মধ্যে দ্রুততম। এরপর ১১৭ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করে ওয়ানডে ইতিহাসেই দ্রুততম দ্বিশতকের রেকর্ড গড়েন তিনি। সফল রান তাড়ায় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডও এখন তাঁর দখলে। রোহিতের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে ২৫৫ রান যোগ করেন গিল, যা ভারতের মাটিতে ওয়ানডেতে তাদের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি।

এই নিয়ে পঞ্চমবার আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতলেন গিল। এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারি ও সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি এবং জুলাইয়ে এই স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি। পুরুষ ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশিবার মাসসেরা হওয়ার রেকর্ডও তার দখলে। ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বশেষ ২০২৬ সালের মার্চে এই পুরস্কার জিতেছিলেন সাঞ্জু স্যামসন। সব মিলিয়ে ১১ জন ভারতীয় ক্রিকেটার ১৭ বার এই পুরস্কার জিতেছেন।

পুরস্কার জিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে গিল বলেন, 'পঞ্চমবারের মতো আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার জেতা দারুণ অনুভূতির। এই সম্মানের জন্য বিচারকদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।'

ওয়ানডে ক্রিকেটের পরিবর্তিত ধরন নিয়েও কথা বলেছেন গিল। তিনি বলেন, 'ওয়ানডে ক্রিকেটের গতি অনেক বেড়েছে। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, কন্ডিশন বুঝে নেওয়া এবং উইকেটের চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া জরুরি।' আগামী বছর সাউথ আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে দলের মান আরও উন্নত করা এবং সব দিক থেকে শক্তিশালী দল গড়ে তোলার লক্ষ্যও জানিয়েছেন তিনি।

আরো পড়ুন: