গিলের সঙ্গে শুরুটা দারুণ করে ভারতও। রোহিত শর্মার ৭৫ বলে ১০১ রানের সঙ্গে গিলের ২৫৫ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত ৪৩.৩ ওভারে ২ উইকেটে ৪০৬ রান তুলে আট উইকেটে জিতে সিরিজও ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় ভারত। এটি ওয়ানডেতে ভারতের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া এবং ৪০০ বা তার বেশি রান তাড়া করে জেতার ক্ষেত্রে ক্রিকেট ইতিহাসের দ্বিতীয় ঘটনা।
গিলের এমন কীর্তির পর প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ভারতের সাবেক স্পিনার হরভজন সিং। এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'সময়ের সঙ্গে শুভমান গিল আরও বড় হয়ে উঠছে। এখন সে অধিনায়ক। অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকেই তাকে দুর্দান্ত খেলতে দেখেছি। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে তার খেলাও আরও ভালো হয়েছে। সে যেখানে শুরু করেছিল, সেখান থেকে আজকের জায়গায় আসার পেছনে তার বাবার অবদানও অনেক।'
গিলের পরিশ্রমের ফলই এখন মাঠে দেখা যাচ্ছে বলে মনে করেন হরভজন। এত দ্রুত দ্বিশতক করার কীর্তিতে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'সে যে পরিশ্রম করেছে এবং দলের জন্য যেভাবে ফল দিচ্ছে, তা অসাধারণ। দুর্দান্ত ইনিংস। কেউ এর আগে এত দ্রুত ২০০ রান করতে পারেনি। শুভমানকে অনেক অভিনন্দন। তার বাবাকেও অভিনন্দন, কারণ শুভমানের এই রান দেখে সবচেয়ে বেশি খুশি যদি কেউ হয়ে থাকেন, তিনি তার বাবা।'
এই ইনিংসে একের পর এক রেকর্ডও গড়েছেন গিল। ৬২ বলে সেঞ্চুরি করে ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি। ৮৯ বলে ১৫০ এবং ১১৭ বলে ২০০ রান পূর্ণ করেছেন। ২২৩ রানের ইনিংসটি সফল রান তাড়ায় কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরও। এর আগে এই রেকর্ড ছিল গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ২০১ রানের, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২০২৩ বিশ্বকাপে।
গিলের সামনে এখন ওয়ানডেতে একাধিক দ্বিশতকের কীর্তিও। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০২৩ সালে ২০৮ রানের পর এটি তাঁর দ্বিতীয় দ্বিশতক। রোহিত শর্মার পর একাধিক ওয়ানডে দ্বিশতক করা দ্বিতীয় ব্যাটার তিনি। শুধু ওয়ানডেতেই নয়, টেস্টেও অধিনায়ক হিসেবে দ্বিশতক করেছেন গিল। গত বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এজবাস্টনে করেছিলেন ২৬৯। অর্থাৎ দুই ফরম্যাটে অধিনায়ক হিসেবে দ্বিশতক করা প্রথম ক্রিকেটারও এখন তিনি।