গত বছরের নভেম্বরে বারোদার বিপক্ষে রঞ্জি ট্রফিতে নিজের ৬৪তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছিলেন ইশান। এরপর নয় মাসে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট, আইপিএল মিলিয়ে খেলেছেন ৫৯ ম্যাচ। সাদা বলের ক্রিকেটে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর লাল বলে ফেরার কঠিন দিক তাই টের পাচ্ছেন তিনি। ইশানের মতে, ক্রিকেটারদের জীবন বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।
ইশান বলেন, 'সাদা বল থেকে লাল বল, আবার লাল বল থেকে সাদা বলে যাওয়া সহজ নয়। ফরম্যাট বদলের সঙ্গে খেলার ধরনও বদলাতে হয়। তবে এটাই এই খেলার মজার অংশ।’
নিজের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও কঠিন হয়েছে ইস্ট জোনের একমাত্র ইনিংসে মাত্র ৪ রান করে ফেরার পর। স্টাম্পের অনেক বাইরের বল পয়েন্টের পেছনে গাইড করতে গিয়ে ক্যাচ দেন ইশান। পরে নিজের ওভাবে আউট হওয়া যে ভুল ছিল তা স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। নিয়মিত লাল বলের অনুশীলন না থাকায় সাদা বলের অভ্যাসই তাঁকে ভুল শট খেলিয়েছে বলে মনে করেন এই ব্যাটার।
ইশান বলেন, ‘আমার তো জানা উচিত ছিল এটা প্রথম শ্রেণির ম্যাচ, কয়েকটি বল ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু যখন নিয়মিত অনুশীলন করা হয় না, বিশেষ করে লাল বলের ক্ষেত্রে, তখন এমন কিছু ঘটে যেতে পারে। কখনো কখনো আপনি যেটা করতে চান না, সেটা নিয়েই বেশি ভাবতে থাকলে শেষ পর্যন্ত সেটাই করে ফেলেন।’
তবে এই চ্যালেঞ্জকে অজুহাত বানাতে চান না ইশান। বরং বড় কিছু করতে হলে প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যেতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ইশান বলেন, ‘আপনি যদি বড় কিছু করতে চান এবং সেটাকে অর্থবহ করে তুলতে চান, তাহলে অনেক অজুহাত দেওয়ার সুযোগ নেই। আপনার শুধু আরও ভালো হওয়ার কথা ভাবা উচিত, যেসব বিষয় নিয়ন্ত্রণে নেই সেগুলো নিয়ে অভিযোগ করে লাভ নেই।’
লাল বলের ক্রিকেট নিয়ে ইশানের আগ্রহ অবশ্য কমেনি। ভারতের হয়ে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০২৩ সালের জুলাইয়ে। এরপর সাদা বলের ক্রিকেটেই তাঁর ব্যস্ততা বেশি থাকলেও টেস্ট ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ তাঁকে এখনো টানে।
টেস্ট ক্রিকেটকে মিস করেন উল্লেখ করে ইশান বলেন, ‘আমি লাল বলের ক্রিকেট খুব উপভোগ করি। মানুষ যখন আমি এটা বলি, তখন বিশ্বাস করতে চায় না। কিন্তু আমি সত্যিই লাল বলের ক্রিকেট উপভোগ করি।'
দলের পারফরম্যান্সে অবশ্য ইশানের নেতৃত্বে ইস্ট জোন ছিল দুর্দান্ত। প্রথম ইনিংসে ৪৬৭ রান করার পর নর্থ ইস্ট জোনকে ১১১ রানে অলআউট করে ফলোঅন করায় তারা। দ্বিতীয় ইনিংসেও প্রতিপক্ষকে ১৪৬ রানে গুটিয়ে দেন ইস্ট জোনের বোলাররা। অনুকূল রায় নেন পাঁচ উইকেট।