আইপিএল নয়, প্রথম অগ্রাধিকার অস্ট্রেলিয়াই: কামিন্স

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট
প্যাট কামিন্স, ফাইল ফটো
প্যাট কামিন্স, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
জাতীয় দলের বাইরে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ফ্র‍্যাঞ্চাইজি লিগে ব্যাপক চাহিদা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের। অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে ব্যস্ত থাকায় আইপিএল বাদে অন্যান্য লিগে খুব বেশি খেলা হয় না প্যাট কামিন্স-মিচেল স্টার্কদের। আসন্ন বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলার জন্য 'দ্যা হান্ড্রেড'-এর বড় অন্কের চুক্তিও অগ্রাহ্য করতে হচ্ছে তাদের। আইপিএলের বাইরে বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আকর্ষণ বাড়তে থাকায় অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন শীর্ষ ক্রিকেটার জাতীয় দলের দায়িত্ব কমিয়ে দেওয়ার চিন্তায় আছেন এমন আলোচনা চললেও সে পথে হাঁটছেন না অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক কামিন্স।

আইপিএলের প্লে-অফ এবং সামনে ব্যস্ত টেস্ট সূচি মাথায় রেখে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন সাদা বলের সিরিজে খেলছেন না কামিন্স। আগস্ট ২০২৬ থেকে আগস্ট ২০২৭- এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার অন্তত ২০ টি টেস্ট খেলার কথা রয়েছে। সেই দীর্ঘ সূচির জন্যই নিজেকে প্রস্তুত রাখতে চাইছেন তিনি।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও বিগ ব্যাশ লিগে অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। বিশেষ করে চলতি মাসের শুরুতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় চুক্তির প্রস্তাব নিয়ে পাঁচজন সিনিয়র ক্রিকেটারের অসন্তুষ্টির খবর সামনে আসে।

এর আগে মার্চে ‘বিজনেস অব স্পোর্ট’ পডকাস্টে কামিন্স বলেছিলেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলার জন্য দেড় মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের কাছাকাছি আয় করার সুযোগ ছাড়তে হচ্ছে, এ নিয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যে এক ধরনের “চাপা দ্বন্দ্ব” কাজ করছে।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে কামিন্স বলেন, 'আমার জন্য কিছুই বদলায়নি। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটই আমার প্রথম অগ্রাধিকার, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেট। আমি টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে কোনো টেস্ট মিস করতে চাই না এবং যত বেশি সম্ভব অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ খেলতে চাই।'

তিনি আরও বলেন, 'আইপিএলের সুবিধা হলো, এটা সাধারণত আমাদের ছুটির সময়ের মধ্যেই পড়ে। তাই এটা আলাদা। কিন্তু মূল মনোযোগ সবসময় অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটেই থাকবে এবং অন্তত আগামী কয়েক বছরে সেটা বদলাবে বলে মনে হয় না।'

চোট ব্যতীত কখনোই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট মিস করেননি কামিন্স। সাম্প্রতিক অ্যাশেজ সিরিজে পিঠের চোটের কারণে তিনি মাত্র একটি টেস্ট খেলতে পেরেছিলেন। তবে গত দুই বছরে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বেশকিছু সাদা বলের ম্যাচ খেলেননি, মূলত টেস্ট ক্রিকেটের জন্য শরীর ঠিক রাখতেই।

২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে দেশের হয়ে মাত্র দুটি ওয়ানডে খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আর কোনো আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিও খেলেননি। তবে এ সময়ে আইপিএল ছাড়াও তিনি খেলেছেন মেজর লিগ ক্রিকেটে। ২০২৫ মৌসুমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সবগুলো ম্যাচ খেললেও, ২০২৬ মৌসুমে পিঠের চোটের কারণে প্রথম ভাগ মিস করে এখন পর্যন্ত খেলেছেন মাত্র ছয়টি ম্যাচ।

পিঠের চোট নিয়ে এতটা সতর্ক থাকার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন কামিন্স। তিনি বলেন, 'গত চার মাসে আমি নিজেকে খুব সতেজ অনুভব করছি। খুব বেশি খেলিনি, তাই শারীরিকভাবে নিজেকে গত ছয়-সাত বছরের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো লাগছে। আমি হয়তো চাইলে আরও আগেই ফিরতে পারতাম, কিন্তু সামনে থাকা ১৮ মাসের কথা মাথায় রেখেই সতর্ক থেকেছি। পিঠের স্ট্রেস ফ্র্যাকচার অনেক সময় আবার ফিরে আসে। তাই আমরা ঝুঁকি একেবারে কমিয়ে রাখতে চেয়েছি, যেন ছয় মাস পরে কোনো সমস্যা হলে সেই ২০টি টেস্ট থেকে ছিটকে না যাই।'

তিনি আরও বলেন, 'এখন আমার পিঠ পুরোপুরি সেরে গেছে, অনেক শক্তিশালী অনুভব করছি। পুনর্বাসনে আমরা খুব কম ঝুঁকির পথ বেছে নিয়েছিলাম, যাতে যত বেশি সম্ভব টেস্ট খেলতে পারি।'

এদিকে বিগ ব্যাশ লিগে বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে চলমান বিতর্কে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি কামিন্স। যদিও খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ইস্যুর সঙ্গে বিষয়টি সরাসরি জড়িত। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ভিক্টোরিয়া, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া ও তাসমানিয়ার তিনটি ক্লাবের মাধ্যমে বাজার যাচাই করে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা করছে। পরে চাইলে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডও এতে যুক্ত হতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে কামিন্স বলেন, 'এসব সিদ্ধান্ত প্রশাসকদের ব্যাপার। খেলোয়াড় হিসেবে আমরা সবসময় চাই প্রতিযোগিতাটা আরও বড় হোক, আরও বেশি দর্শক টানুক এবং তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করুক।'

২০১৯ সালের পর আর বিগ ব্যাশে খেলেননি কামিন্স। আগামী মৌসুমেও ভারতের টেস্ট সফরের কারণে তার খেলা হচ্ছে না। তবে আইসিসির ভবিষ্যৎ সফর সূচিতে জানুয়ারিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটমুক্ত রাখার যে পরিকল্পনা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া করছে, তা বাস্তবায়িত হলে ২০২৭-২৮ মৌসুমে আবারও বিগ ব্যাশে দেখা যেতে পারে তাকে।

আরো পড়ুন: