পেসারদের এমন উত্থানের কৃতিত্ব মুমিনুলকে দিচ্ছেন তামিম

বাংলাদেশ ক্রিকেট
মুমিনুল হক ও তামিম ইকবাল, ফাইল ফটো
মুমিনুল হক ও তামিম ইকবাল, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
টেস্টে ঘরের মাঠে বরাবরই স্পিন বান্ধব উইকেটে খেলে সাফল্য পেয়ে আসছিল বাংলাদেশ। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে দৃশ্যপটে এসেছে বিশাল পরিবর্তন। এখন ঘরের মাঠেও সবুজ উইকেট বানায় বাংলাদেশ। এই উইকেটে পেসার, স্পিনার কিংবা ব্যাটার- সবার জন্যই থাকে পর্যাপ্ত সুবিধা। পাকিস্তানের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত সিরিজে এমন উইকেটে খেলে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ঘরের মাঠে এমন উইকেট এবং দেশের ক্রিকেটে পেসারদের উত্থানের কৃতিত্ব সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হককে দিচ্ছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।

২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১৭ টেস্টে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন মুমিনুল। ১৭ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে ৩ টেস্টে বাংলাদেশকে জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। যদিও ১২ টেস্টে ছিল হার। সেই সময়ে বাংলাদেশ দল না জিতলেও একাদশে পেসার বেশি রাখার ব্যাপারে সচেতন ছিলেন মুমিনুল। এমনকি ঘরোয়া ক্রিকেটেও পেসাররা যেন বেশি ওভার বোলিং করে সেটি নিশ্চিত করতেন তিনি।

তার প্রশংসা করে ভারতের গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে তামিম বলেন, 'পেসবান্ধব উইকেট বানানোর ক্ষেত্রে আগের অধিনায়ক মুমিনুল হকের অনেক কৃতিত্ব প্রাপ্য। এখনও মনে আছে, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সে সব সময় নিশ্চিত করতো যেন পেস বোলাররা সর্বোচ্চ সংখ্যক ওভার করতে পারে। একটা ম্যাচের আগে আমি গিয়ে মুমিনুলকে বলেছিলাম, স্পিনারদের দিয়েই সহজে বোলিং করানো যায়। তখন সে বলেছিল, ‘না, আমি যদি এখন এই পেস বোলারদের বোলিং না করাই, তাহলে ওরা শিখবে কীভাবে? ভালো করুক বা না-করুক, জাতীয় দলের জন্য আমাদের পেস বোলার দরকার, আর তাদের যত বেশি সম্ভব বোলিং করতে হবে।'

'আমি মনে করি মুমিনুলই একমাত্র ব্যক্তি যে ফাস্ট বোলিং ইউনিট পরিবর্তন করে দিয়েছে। সে ফাস্ট বোলারদের সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছে এবং নিশ্চিত করেছে ঘরোয়াতে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তারা যেন সর্বোচ্চ ওভার করে। পেস বোলাররা যখন সাফল্য পেতে থাকে তখন কিশোর-তরুণরা বিশ্বাস শুরু করল যে বাংলাদেশে পেসার হওয়া সম্ভব। এসবের কৃতিত্ব মুমিনুলকেই দিতে হবে। অ্যালান ডোনাল্ড এবং ওটিস গিবসনরাও বড় ভূমিকা রেখেছে।'

ঘরের মাঠে পেসবান্ধব বা সবুজ উইকেট বানানোর পক্ষেও শক্ত অবস্থান নিয়েছেন তামিম। নিয়মিত সবুজ উইকেটে খেলতে থাকলে বিদেশের মাটিতে সফলতাও আসবে বলে মতামত দেন বিসিবি সভাপতি।

তিনি বলেন, 'পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজটি যদি দেখে থাকেন, তাহলে বুঝতে পারবেন— দুই ম্যাচের উইকেটই ছিল পেস সহায়ক। বাংলাদেশ দুই টেস্টেই সবুজ ঘাসে ঢাকা উইকেট তৈরি করেছিল। এটিই মানসিকতার পরিবর্তনের প্রমাণ। পাকিস্তানের বিপক্ষে খুব সহজেই বাংলাদেশ আবার স্পিননির্ভর উইকেটে ফিরে যেতে পারত এবং সিরিজ জয়ের চেষ্টা করতে পারত। কিন্তু আমরা সবুজ উইকেট প্রস্তুত করেছি, আর বাংলাদেশ ক্রিকেটে আমি এমন মানসিকতার পরিবর্তনই দেখতে চাই।'

'আমাদের আগে নিজেদের মাঠে ভালো করা শুরু করতে হবে, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে। ঘরের মাঠকে আমাদের দুর্গে পরিণত করতে হবে। অবশ্যই আমরা বিদেশের মাটিতেও জিততে চাই, কারণ ঘরের মাঠে টেস্ট জয়ের আত্মবিশ্বাস আমাদের অনেক দূর এগিয়ে দেবে।'

আরো পড়ুন: