বক্সিং ডে টেস্টে প্রথম দিনেই অল আউট অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড

অ্যাশেজ
অস্ট্রেলিয়া দল, ফাইল ফটো
অস্ট্রেলিয়া দল, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
মেলবোর্ন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪৫.২ ওভারে ১৫২ রান অলআউট হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে রেকর্ড ৯৪,১১৯ দর্শকের উপস্থিতির ম্যাচে ইংল্যান্ড টিকেছে ২৯.৫ ওভার, করেছে ১১০ রান। সবমিলিয়ে ৪৬ রানের লিড নিয়ে প্রথম দিন শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া।

ঘরের মাঠে অ্যাশেজে এর চেয়ে কম ওভারে অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে গেছে মাত্র দু'বার। দুটিই এই মেলবোর্নে, একবার ১৯০২ সালে, আরেকবার ২০১০ সালে। মেলবোর্নের ঘাস থাকা উইকেটে শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েন। ইংল্যান্ডের পেসাররা লাইন–লেংথে ধারাবাহিক ছিলেন, বিশেষ করে জশ টাং।

এই উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের জন্যও যে চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, প্রথম ইনিংসই তার ইঙ্গিত দিয়ে গেছে। জশ টাং ৪৫ রানে নেন পাঁচ উইকেট। তার শিকার হন জ্যাক ওয়েদারাল্ড, মার্নাস ল্যাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, মাইকেল নেসার ও স্কট বোল্যান্ড। স্মিথের বিপক্ষে টাংয়ের রেকর্ড চোখে পড়ার মতো।

এখন পর্যন্ত পাঁচ ইনিংসে বোলিং করে পাঁচবারই তাঁকে আউট করেছেন এই পেসার। ইনিংসের শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখেন ইংলিশ পেসাররা। দলীয় ২৭ রানে ট্রাভিস হেড আউট হন গাস অ্যাটকিনসনের বলে। এরপর ৩১ রানে ওয়েদারাল্ড ও ৩৪ রানে লাবুশেনকে ফেরান টাং, যা দ্রুতই অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারকে চাপে ফেলে।

ছয় রান করা ল্যাবুশেনের টেস্টে সর্বশেষ সেঞ্চুরি এসেছে ৩৭ ইনিংস আগে। স্মিথও ইনিংস বড় করতে পারেননি, ৯ রানে আউট হন টাংয়ের বলে। ওপেনার থেকে মিডল অর্ডারে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় থাকা উসমান খাওয়াজা করেন ২৯ রান।

লাঞ্চের পর তাঁকে আউট করেন অ্যাটকিনসন। ২০২৩-২৪ মৌসুম শুরুর পর থেকে ডানহাতি পেসারদের ‘অ্যারাউন্ড দ্য উইকেট’ বলেই এটি খাওয়াজার ২০তম আউট। তবে এই ইনিংসেই তিনি টেস্টে আট হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন।

৯১ রানে ছয় উইকেট হারানোর পর সপ্তম উইকেটে ৪৫ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়া। মাইকেল নেসার ও ক্যামেরন গ্রিন কিছুটা স্থিরতা আনেন। তবে গ্রিন ১৭ রান করে ব্রাইডন কার্সের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হন। নেসার ৩৫ রান করে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ স্কোরার, আর অ্যালেক্স ক্যারি আউট হন ২০ রানে, বেন স্টোকসের বলে।

ব্যাটিং করতে নেমে ইংল্যান্ড শুরুতেই বড় ধাক্কা খায়। ১৬ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা। জো রুট কোনো রান না করেই আউট হন, আর টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা পেস ও সিমের সামনে টিকতে ব্যর্থ হন।

ইংল্যান্ডের হয়ে হ্যারি ব্রুক কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। ৩৪ বলে ৪১ রান করে তিনিই ছিলেন দলের সর্বোচ্চ স্কোরার। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে কিছু সময়ের জন্য রানগতি বাড়লেও ইনিংস দীর্ঘ করতে পারেননি।

মাইকেল নেসার ও স্কট বোল্যান্ড ইংল্যান্ডের ইনিংস গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন। দুজনে মিলে সাতটি উইকেট নেন। শেষ পর্যন্ত স্টাম্পসের ঠিক আগে ইংল্যান্ড অলআউট হয়ে যায়, ফলে অস্ট্রেলিয়া পায় ৪২ রানের লিড।

কিন্তু দিনের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়াকে এক ওভার ব্যাট করতে হয়। ট্রাভিস হেডের সঙ্গে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে পেসার স্কট বোল্যান্ড ওপেন করতে নামেন এবং একটি বাউন্ডারির মাধ্যমে দিনের খেলা শেষ করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে চার রান করেছে অস্ট্রেলিয়া।

আরো পড়ুন: